আদর্শ মানুষ

Spread the love

বর্ণ চড়া
                              
মানুষ সৃষ্টিগত ভাবে শ্রেষ্ঠ। স্রষ্টা মানুষকে শ্রেষ্ঠ করেই সৃষ্টি করেছেন। কেন স্রষ্টা মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে সৃষ্টি করেছেন? কেন তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে? এসকল প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে হাজার হাজার পৃষ্ঠার অসংখ্য বই লেখা হয়ে যাবে কিন্তু প্রশ্নগুলোর যথোপযুক্ত উত্তর হয়ত দেওয়া   যাবে না! তবে, এক কথায় এতটুকু মাত্র হয়ত বলা যায়, স্রষ্টার মহত্ত্ব এবং বিশালত্ব জানা এবং বুঝা ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
তাহলে, প্রশ্ন এসে যায়, মানুষ জন্মগত ভাবে যেখানে শ্রেষ্ঠ, সেখানে আলাদাভাবে “আদর্শ মানুষ” হতে হবে কেন? এই ‘আদর্শ‘টাই বা কি? তাহলে, শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক, ‘আদর্শ‘ আসলে কি?

আদর্শ‘কে অনেকেই ‘আয়না’ বা ‘দর্পণ’ বলে উল্লেখ করে থাকেন। আয়না বা দর্পণ হল এই যে, স্বচ্ছ কাঁচে একপাশে একধরণের বিশেষ ধাতুর প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয়, যা তার সামনের বস্তুটিকে হুবহু প্রতিফলিত করে দেখায়। অর্থাৎ, আয়না বা দর্পণের সামনে যে বস্তুটিকেই ধরা হোক না কেন হুবহু সেই বস্তুটিকেই আমরা আয়না বা দর্পণের মধ্যে দেখতে পাই। আর তাই, অনেকেই একজন আদর্শ মানুষকে আয়না বা দর্পণের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। কারণ, আয়না বা দর্পণের সামনের বস্তুটিকে আয়না বা দর্পণের মধ্যে যেমন হুবহু দেখা যায়, ঠিক তেমনি, একজন আদর্শ মানুষের চেহারার দিকে তাকালে বা তাঁকে কল্পনা করলে মানুষের আসল সৌন্দর্য কিংবা মানুষ জাতির আসল রূপ অবলোকন করা যায়। ঐরূপে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ধরা পড়ে! দেখা যায়, স্রষ্টার মানুষ সৃষ্টির রহস্য! দেখা যায়, স্রষ্টার মহত্ত্ব! দেখা যায়, স্রষ্টার বিশালত্ব! পাওয়া যায়, মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। আর তাই, আদর্শকে আয়না বা দর্পণের সঙ্গে তুলনা করা যথোপযুক্ত। এজন্য, আদর্শ হল ” আয়না বা দর্পণে ব্যবহৃত বিশেষ একধরণের ধাতুর ন্যায় ‘মানবিক সকল গুণের সমষ্টি’ যা কোন মানুষে ব্যবহৃত হলে সেই মানুষটি হয়ে যায় পরিবারের, সমাজের, রাষ্ট্রের, ধর্মের বা সমগ্র মানুষ জাতির আয়না বা দর্পণ। এক কথায়, আদর্শ বলতে বুঝায়, সকলের জন্য ‘অনুকরণীয়‘। তাই, “আদর্শ মানুষ“বলতে বুঝায়, যে মানুষটির জীবন প্রণালী অন্য মানুষদের জন্য অনুকরণীয়, সেই মানষটিই হল, “আদর্শ মানুষ”।

একজন আদর্শ মানুষের গুরুত্ব পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম বা সমগ্র বিশ্বের সকল মানুষের নিকট সমানভাবে গ্রহণযোগ্য, ষ্মরণীয়, বরণীয় এবং মাননীয়। একজন আদর্শ মানুষ যে কোন ধর্মেরই হোক না কেন সকল ধর্মের লোকই তাঁর মানবিক গুণগুলোর জন্য তাঁকে শ্রদ্ধা করে, ভক্তি করে, ষ্মরণ করে, অনুকরণ করে। তাই, একজন আদর্শ মানুষ হল, সকলের জন্য অহংকার। একজন আদর্শ মানুষের মানবিক উচ্চতা হয়, আকাশ সমান। পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকেই তাঁকে দেখতে চায় না কেন, তাঁকে দেখা যায়। তাঁর সম্মান মানুষের নিকট যেমন অসীম, তেমনি স্রষ্টার নিকটও গ্রহণযোগ্য ও অসীম! মানুষ জাতির নিকট একজন আদর্শ মানুষ যেমন অহংকার, স্রষ্টার নিকটও তেমনি অহংকার! মানুষ জাতি যেমন তাঁর প্রতি খুশি, মহান স্রষ্টাও তাঁর প্রতি খুশি। একজন আদর্শ মানুষ যেহেতু, মানবিক সকল গুণেগুণান্বিত, সকল ধৈর্য্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ; তাই, তিনি তাঁর পরিবার পরিজনের নিকটও গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত। পরিবারও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। অথচ, আমরা সাধারণ মানুষ একমাত্র পরিবারকে সন্তুষ্ট করতে জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছি! তবুও, পরিবারের সামান্য সন্তুষ্টি পর্যন্ত আদায় করতে পারছি না। কেন? কেন, এমন হচ্ছে বলতে পারেন? উত্তর খুব সহজ! একজন আদর্শ মানুষ হল, মানবিক সকল গুণেগুণান্বিত। সকল বৈরিতাকে তিনি হাসিমুখে বরণ করেন। কিন্তু আমি, আপনি সামান্য বৈরিতাও গ্রহণ করতে নারাজ।

আপনি কি চান, আপনার পরিবারে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ুক? আপনি কি চান, আপনার সমাজে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ুক? আপনি কি চান, আপনার রাষ্ট্রে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ুক? আপনি কি চান, আপনার স্ব-ধর্মে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ুক? আপনি কি চান, সমগ্র বিশ্ব আপনাকে নিয়ে আনন্দ, উল্লাসে মেতে উঠুক? আপনি কি চান, আপনার স্রষ্টা আপনার নাম আকাশের নক্ষত্র রাজির মাঝে অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল নক্ষত্র রাজি দ্বারা শুশোভিত কড়ুক? আসুন,আপনি একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করুন। তাহলে, আপনার জীবন হবে, স্বার্থক! আপনার পরিবার হবে, স্বার্থক! আপনার কর্ম হবে,স্বার্থক! আপনার সমাজ হবে, স্বার্থক! আপনার রাষ্ট্র হবে, স্বার্থক! আপনার ধর্ম হবে, স্বার্থক! সমগ্র মানুষ জাতি হবে, স্বার্থক! স্বার্থক স্রষ্টাও তিনি আপনাকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করে।

একজন আদর্শ মানুষ তাঁর নিজ পরিবার, তাঁর নিজ সমাজ, তাঁর নিজ কর্ম-পরিমণ্ডল, তাঁর নিজ রাষ্ট্র, তাঁর নিজ ধর্ম এমনকি সমগ্র মানুষ জাতির শান্তির দূত বা শান্তির ধারক ও বাহক। মহান স্রষ্টা যাঁকে সৃষ্টি না করলে সৃষ্টিজগতের কোন কিছুই সৃষ্টি করতেন না, তাঁকে তিনি সর্ব আদর্শ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, মহান স্রষ্টার পিয়ারা হাবিব, বিশ্বনবী ও রাসুল মানবজাতির মুক্তির কাণ্ডারী,  আমাদের প্রাণাধিক প্রিয়নবী ও যাঁর জীবন প্রণালী সমগ্র মানবজাতির জন্য মহা আদর্শ তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তাঁর আদর্শে আদর্শিত না হলে কখনও একজন মানুষ আদর্শ মানুষ হতে পারে না। তাঁর আদর্শ অনুকরণ ছাড়া সত্যিকার একজন আদর্শ মানুষ হওয়া সম্ভব নয়। তাঁর আদর্শের দিকনির্দেশনাই হল, আমাদের জন্য আদর্শের মাপকাঠি।

আমাদের সমাজে বা দেশে যাঁদেরকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে চিনি ও জানি তাঁদের মধ্যে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, হাজী মুহাম্মদ মহসীন, এ.কে ফজলুল হক, আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া এমন বেশ কিছু সোনা দিয়ে মোড়ানো নাম রয়েছে যাঁদের জীবন হল, আদর্শ মানুষের জীবন। যাঁদের জীবন প্রণালী ও মানবিক গুণাবলী আমাদের সকলের জন্য আদর্শনীয়। তাঁরা নিজ পরিবার, নিজ সমাজ, নিজ কর্ম-এলাকা, নিজ রাষ্ট্র, নিজ ধর্ম এমনকি সমগ্র মানুষ জাতির জন্য গর্ব, অহংকার এবং আদর্শ। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের উপজেলার প্রথম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন, জনাব, রেজাউল করিম তরফদার। তিনি অত্যন্ত মানবিক হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। তিনি যতদিন আমাদের উপজেলার নির্বাহী অফিসার ছিলেন, ততদিন আমাদের উপজেলায় যে শান্তি ও সৌহার্দ্য ছিল এবং তিনি নিজে মানুষের কত নিকটের একজন আপন মানুষ ছিলেন তা সেই সময়ের মানুষ নিজ চোখে দেখেছে। এখনও তাঁর কথা মানুষ হৃদয় দিয়ে ষ্মরণ করে। বর্তমান আমি যাঁর কথা জানি, তিনি এখনও জীবিত, বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি, দেশের অহংকার, দেশের গৌরব, তিনি আমাদের আদর্শ, যিনি বর্তমানে দেশের বৃহৎ গ্রুপ অব কোম্পানি পিএইচপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব, সূফী মিজানুর রহমান। সৌভাগ্যবশতঃ আমি কিছুদিন তাঁর ফ্লোট গ্লাস কোম্পানির সিলেট জোনের সাতটি জেলায় ফ্লোট গ্লাস ও থাইএ্যালুমিনিয়ামের মার্কেটিং-এ কাজ করেছিলাম। সেই সময়, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁর সম্পর্কে জানা। হয়ত, এমন অনেক আদর্শ মানুষ আছে আমাদের অজানা! তাঁরা আমাদের গৌরব, তাঁরা আমাদের অহংকার! তাঁদের জীবন প্রণালী আমাদের জন্য আদর্শ। এজন্য, তাঁরা আদর্শ মানুষ।

আসুন, আমরাও আদর্শ মানুষের জীবন প্রণালী অনুসরণ করি। আমরাও আদর্শ মানুষ হয়ে পরিবার,সমাজ, কর্ম-এলাকা, রাষ্ট্র, ধর্ম তথা সমগ্র মানুষ জাতির আদর্শ হয়ে সর্বত্র শান্তির বার্তা পৌঁছে দেই। চলুন, তাহলে দেখ নেই, কি করলে আমরা সাধারণ মানুষ থেকে একজন আদর্শ মানুষ হতে পারি!

১. ধর্মীয় অনুশাসন যথাযথভাবে পালনঃ ধর্মীয় অনুশাসন আদর্শ নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।  আপনি যে ধর্মের অনুসারীই হোন না কেন, আপনি আপনার নিজ ধর্মের অনুশাসনগুলো যথাযথভাবে পালন করুন। দেখবেন, আপনি আপনার পরিমণ্ডলের একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গণ্য হয়েছেন। আপনার দ্বারা আপনার পরিবার, সমাজ, কর্ম-এলাকা তথা সর্বত্র শান্তি বিরাজ করছে।

২. রাষ্টীয় বিধি-বিধান লঙ্ঘন না করাঃ আপনি দেশের একজন সু-নাগরিক হিসেবে, সচেতন নাগরিক হিসেবে, রাষ্ট্র প্রদত্ত সকল আইন ও বিধি-বিধানগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করুন। দেখবেন, আপনার দ্বারা আপনার নিজ এলাকার কোন মানুষ প্রতারিত হবে না। আবার, কেউ আপনার দ্বারা ব্যথিত হবে না। বরং, আপনার দ্বারা দেশ ও দশের যখন উপকার সাধিত হবে; সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে; তখন আপনি হবেন, একজন আদর্শ মানুষ।

৩. চিন্তার খোরাক হবে কল্যাণকরঃ সর্বদা স্রষ্টার সৃষ্টিজগতের কল্যাণ সাধনের জন্য স্রষ্টা মানুষকে উন্নত ও শক্তিশালী মস্তিষ্ক দিয়েছেন। তাই, আপনার মস্তিষ্ক যদি সৃষ্টিজগতের অকল্যাণ কাজে বা অপচিন্তায় ব্যবহার না করে সর্বদা সৃষ্টিজগতের কল্যাণের কাজে বা চিন্তায় ব্যবহৃত হয় এবং সেই অনুযায়ী জগত আপনার দ্বারা উপকৃত হয় বা জগতে কল্যাণ সাধিত হয়; তাহলে আপনি হবেন, একজন আদর্শ মানুষ।

৪. প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সহিত কর্ম পালন এবং কর্মকে এবাদতের সহিত গণ্য করাঃ কর্ম শুধুই পরিবারের ভরণ-পোষণ ও ভবিষ্যৎ বিত্তশালী হওয়ার জন্যই নয়; বরং, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সহিত কর্ম পালন করতে হবে এবং কর্মকে স্রষ্টা প্রদত্ত নির্ধারিত এবাদত ছাড়াও অতিরিক্ত এবাদত হিসেবে মনে করতে হবে। কারণ, কর্ম হল, সেবা। আর সেবা হল, একধরণের এবাদত। আর এবাদতের মধ্যে কখনও প্রজ্ঞাহীনতা বা নিষ্ঠাহীনতা কিংবা অবহেলা থাকতে পারে না। এবাদত হবে, একাগ্রতার সহিত। অতএব, এবাদতের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কর্ম সম্পাদন করতে হবে। আর তাহলে আপনি হবেন, আমাদের সবার জন্য একজন আদর্শ মানুষ।

৫. মানবিক গুণাবলী অর্জন হবে সাধনাঃ কোন কিছুই সহজে অর্জন করা যায় না। এজন্য চাই, সাধনা। সাধনার ধরণ ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নতা আছে। তাই, এক্ষেত্রে আপনাকে যে সাধনা করতে হবে তা হল, মানবিক গুণাবলী অর্জন। মানবিক গুণাবলী অর্জন ছাড়া আদর্শ মানুষ হওয়া সম্ভব নয়। এজন্য, আপনাকে কঠোর  সাধনা করতে হবে। কঠোর সাধনা ছাড়া মানবিক গুণাবলী অর্জন করা যায় না। আর মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে না পারলে আদর্শ মানুষ হওয়া যায় না।

৬. জনপ্রিয়তা নয়, জনহিত হবে মুখ্যঃ
আপনি যার জন্য যাই করুন না কেন, আপনার মুখ্য উদ্দেশ্য হবে, জনহিত; জনপ্রিয়তা নয়! জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আপনি কোন কিছু করলে তা হবে, ক্ষণস্থায়ী। কারণ, জনপ্রিয়তা কখনও চিরস্থায়ী নয়। অপরদিকে, জনহিত হল, চিরস্থায়ী। এই চিরস্থায়ী জনহিত আপনাকে এনে দেবে, আদর্শ মানুষের মুকুট।

এগুলো হল, আদর্শ মানুষের মূল ভিত্তি। আর এই ভিত্তি স্থাপন সহজ ব্যাপার নয়!এক্ষেত্রে, একজন আদর্শ মানুষের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

★একজন আদর্শ মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ

   একজন আদর্শ মানুষ সর্বাধিক দায়িত্বশীল একজন মহামানুষ। সমাজে অন্যান্য যে কোন মানুষ থেকে একজন আদর্শ মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বহুগুণে বেশি। বিধায়, একজন আদর্শ মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য আলোচনা করা আমার মত একজন ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবুও, আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দ্বারা যে ক্ষুদ্র পরিমাণ উপলব্ধি করতে পেরেছি, সেই উপলব্ধিটুকুই হুবহু আপনাদের নিকট তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা  করছি। একজন আদর্শ মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য কয়েক ভাগে বিভক্ত। যথা;

ক. পারিবারিক ক্ষেত্রেঃ
একজন আদর্শ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে একজন দায়িত্ব সচেতন মানুষ এবং অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন মানুষ। তাই, পারিবারিক ক্ষেত্রে তাঁর যে দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো আছে, সেগুলো তিনি অত্যন্ত যত্নের সহিত পালন করে থাকেন। যেমন:
১. অর্থের যোগানঃ সম্পূর্ণ বৈধপথে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে, তাঁর বিন্দুমাত্র কোন গাফিলতি বা অবহেলা থাকে না।
২. অভিভাবকদের প্রতি দায়িত্বঃ পিতা-মাতা বা অভিভাবক কেউ জীবিত থাকলে তাদের দেখা-শোনা এবং তাদের প্রয়োজনীয় যত্নের প্রতি তিনি নিজে অধিক সজাগ থাকেন এবং নিজ হস্তে তিনি তাদের সেবা করে থাকেন। এক্ষেত্রেও, বিন্দুমাত্র অবহেলা লক্ষণীয় নয়।
৩. স্ত্রীর প্রতি যত্ন ও সার্বিক সহযোগিতাঃ স্ত্রী হল, সহধর্মীনী ও অর্ধাঙ্গীনী। একজন অন্যজনের পরিপূরক। আবার, ধর্মে স্ত্রী এবং স্বামীর সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করে বলা হয়েছে, ‘একজন অন্যজনের পোশাক’। স্রষ্টা কর্তৃক সকল নিয়ামকের মধ্যে একজন পুরুষের জন্য স্ত্রী হল, সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামক। এই নিয়ামক বা স্রষ্টা কর্তৃক এই দানের প্রতি একজন আদর্শ মানুষ সর্বাধিক সচেতন। বিধায়, স্ত্রীর প্রতি তিনি বিশেষ যত্নবান ও স্ত্রীর সকল কর্মে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।
৪. সন্তান লালনপালন ক্ষেত্রেঃ সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে একজন আদর্শ মানুষ সর্বাধিক মনযোগী। একজন আদর্শ মানুষের সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা;
৪/ক. শৈশবঃ স্ত্রীর পাশা-পাশি শিশু সন্তানকে যত্নের সহিত বড় করে তোলা একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে পিতার অন্যতম প্রধান কাজ। এ কাজ তিনি নিজ উদ্যোগে অতি যত্নের সহিত পালন করে থাকেন।
৪/খ. কৈশরঃ সন্তানের কৈশরের প্রতি একজন আদর্শ মানুষের পিতা হিসেবে বিশেষ নজর থাকে। সন্তানকে এই সময় উপযুক্ত করে গড়ে তোলেন। ধর্মীয় শিক্ষাসহ প্রাতিষ্ঠানিক সকল শিক্ষার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও মানসিকতা তৈরি করে থাকেন। সকল মানবিক গুণাবলীর বীজ এসময়েই রোপন করেন। উত্তম শিক্ষা ও উপযুক্ত শিক্ষার জন্য সন্তানকে উত্তমরূপে তৈরি করেন।
৪/গ. যৌবনঃ সন্তানের যৌবন বয়সে সকল ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পাদন করে পরিপূর্ণ একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে তৈরি করেন এবং সন্তানের জৈবিক কার্য সম্পাদনের জন্য উত্তম চরিত্রের পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে নিজ পরিবার গঠনের উত্তম পরিবেশ তৈরি ও সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকেন।

     ৫. চিকিৎসাঃ পরিবারেরর সদস্যদের অসুস্থকালীন সময় উপযুক্ত চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা একজন আদর্শ মানুষ করে থাকেন। এক্ষেত্রে, কোন প্রকার অবহেলা তিনি করেন না।
৬. বাসস্থানঃ পরিবারেরর সদস্যদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা এবং বসবাসের জন্য নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম বাসস্থানের ব্যবস্থাও একজন আদর্শ মানুষ করে থাকেন।

    খ. কর্মক্ষেত্রেঃ
কর্ম হল, জীবন ধারণের অবলন্বন। কর্ম ব্যতিত জীবন ধারণ সম্ভব নয়। একজন আদর্শ মানুষ তাঁর নিজ কর্ম সম্পর্কে অধিক সচেতন। একজন আদর্শ মানুষ কর্মকে শুধু জীবন ধারণের অবলম্বন মনে করেন না, কর্মকে তিনি স্রষ্টা কর্তৃক নিয়ামক মনে করেন। আবার, কর্মকে তিনি সেবাও মনে করেন। সেবা হল, মহৎগুণ। বিধায়, একজন আদর্শ মানুষ তাঁর আপন কর্মকে স্রষ্টার উপাসনা মনে করে প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, বিশ্বাস ও অধিক দায়িত্বশীলতার সহিত নিজ কর্ম পালন করেন। কর্মদাতার কল্যাণের প্রতিও বিশেষ নজর রাখেন। কর্মপদ্ধতির বিশেষ উন্নয়ন সাধন ও আপন কর্মোন্নয়নের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

    গ. ধর্মীয় ক্ষেত্রেঃ
ধর্ম হল, একজন আদর্শ মানুষের মূল ভিত্তি। ধর্মই তাঁকে প্রথম নৈতিক শিক্ষা দিয়ে থাকে। মানবিক গুণাবলী অর্জনও এই ধর্মীয় নীতি থেকেই নিয়ে থাকেন। মহান স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা তাঁকে এই ধর্মই দিয়ে থাকে। বিধায়, একজন আদর্শ মানুষ নিয়মিত স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এবং ধর্মীয় চর্চা ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধগুলো আপন বিশ্বাস ও যথেষ্ট ভক্তির সহিত পালন করে থাকেন। এছাড়া, পরিবারের সদস্য, সমাজের সদস্য কিংবা সামগ্রিকভাবে আপন ধর্মগোষ্ঠির সকলের মধ্যে ধর্ম পালনের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে থাকেন। সমগ্র সৃষ্টির ক্ষেত্রে সকলের মাঝে স্রষ্টার মাহাত্ম্য বর্ণনা করে থাকেন এবং স্রষ্টার প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন ও সম্যক জ্ঞান দান করে থাকেন।

     ঘ. সামাজিক ক্ষেত্রেঃ
সামাজিক অবক্ষয় রোধে একজন আদর্শ মানুষ তাঁর কর্মজীবনের অনেক অংশই ব্যয় করে থাকেন। সামাজিক অবক্ষয় রোধে একজন আদর্শ মানুষ সমাজ চিত্রকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দিতে পারেন। সমাজের অবক্ষয় রোধে তিনি নিজ উদ্যোগে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। যেমন: সুদ, ঘুষ, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ব্যভিচার, অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ইত্যাদির বিরুদ্ধে জড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ ও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেন। অধিক ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শনীয় জড়ালো ভূমিকার নিকট অপশক্তিগুলো পরাস্ত হয়ে উন্নত শক্তশালী এবং নির্ভেজাল সমাজ গঠনে সবাই একই কাতারে এসে সামিল হয়ে থাকে। বিধায়, সুন্দর সমাজ গঠনে একজন আদর্শ মানুষ মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন।

    ঙ. রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেঃ
একজন আদর্শ মানুষ শুধু পরিবার, সমাজ বা ধর্মীয় ক্ষেত্রেই আদর্শ নয়! কিংবা শুধু নিজ সমাজকেই তিনি আদর্শ হিসেবে তৈরি করেন না, তিনি একটি রাষ্ট্রকেও আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করতে পারেন। তাঁর আদর্শ দ্বারা একটি রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা পুরোপুরি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম। এমনকি, সমগ্র বিশ্বের মাঝে তাঁর রাষ্ট্রকে একটি উন্নত ও আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করাতে পারেন। অর্থাৎ, অনুন্নত ও অসংগঠিত একটি রাষ্ট্রকে একজন আদর্শ মানুষ উন্নত ও শক্তিশালী এবং একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

চ. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেঃ
একজন আদর্শ মানুষের আদর্শের পরিমণ্ডল শুধু পরিবার, সমাজ, ধর্ম বা নিজ রাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়! তাঁর আদর্শের পরিণ্ডল বিশ্বব্যাপী। একজন আদর্শ মানুষ তাঁর আদর্শ দিয়ে গোটা বিশ্বের শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন। সমগ্র বিশ্বে তাঁর আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একজন আদর্শ মানুষের আদর্শের শক্তি এতই শক্তিশালী যে, সারা বিশ্বের শান্তির জন্য তিনি একজন শান্তির মহাদূত হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। পুরোপৃথিবীকেই একজন আদর্শ মানুষ তাঁর আদর্শের বলয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম। তাই, একজন আদর্শ মানুষের আদর্শ বৃহৎ অর্থে সমগ্র বিশ্বের সমগ্র মানবজাতির জন্যও আদর্শ বটে।

  ★ একজন আদর্শ মানুষের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীঃ

একজন আদর্শ মানুষের মূলভিত্তি হল, তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী। তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীর জন্যই তিনি সমাজে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। একজন আদর্শ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী হল, নিম্নরূপ:

    ১. স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ভক্তিবোধঃ একজন আদর্শ মানুষের প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও গুণ হল, তিনি তাঁর স্রষ্টার প্রতি অগাধ বিশ্বাস স্থাপন করেন। স্রষ্টাকে তিনি মনে-প্রাণে ভালোবাসেন এবং স্রষ্টাকে তিনি শ্রদ্ধা  ও ভক্তিসহকারে সর্বদা ষ্মরণ করেন। এই গুণ ও বৈশিষ্ট্যই হল, তাঁর আদর্শের মূলভিত্তি।

    ২. ধর্মীয় রীতি ও বিধি-নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পালনঃ একজন আদর্শ মানুষ স্রষ্টা প্রদত্ত সকল রীতি ও বিধি-নিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করে থাকেন। এক্ষেত্রে, বিন্দুমাত্র অবহেলা পরিলক্ষিত নয়।

   ৩. মানবিক মূল্যবোধ সদাজাগ্রতঃ একজন আদর্শ মানুষের মানবিক মূল্যবোধ প্রহরীর ন্যায় সর্বদা জাগ্রত অবস্থায় থেকে তাঁকে স্রষ্টার বিধি-নিষেধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সেগুলো পালনে উৎসাহ প্রদান ও গর্হিত কাজ হতে বিরত রাখতে কঠোরতা অবলম্বনে সাহায্য করে থাকে।

    ৪. ধৈর্য্য ও সহনশীলতাঃ
ধৈর্য্য ও সহনশীলতা হল, একজন আদর্শ মানুষের মহাশক্তি। এই মহাশক্তি নামক গুণ ও বৈশিষ্ট্য দ্বারা তিনি সকল অজেয়কে জয় করেন।

    ৫. ক্রোধ দমনঃ  মানুষ মাত্রই ক্রোধ আছে। একজন আদর্শ মানুষের অন্যতম প্রধান গুণ ও বেশিষ্ট্য হল, ক্রোধ দমন করা। কারণ, একজন আদর্শ মানুষ খুব ভালো করে জানেন যে, ক্রোধ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। বিধায়, ক্রোধকে তিনি চিরতরে দমন করে রাখেন।

   ৬. প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠাবানঃ একজন আদর্শ মানুষ তাঁর সকল কাজ-কর্মই তিনি প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সহিত পালন করে থাকেন।

   ৭. দায়িত্ববানঃ দায়িত্ববোধ একজন আদর্শ মানুষের অন্যতম বিশেষ গুণ। নিজ দায়িত্বকে তিনি কখনও অবহেলা করেন না।
৮. একাগ্রতাঃ একজন আদর্শ মানুষ যে কর্মেই লিপ্ত হন না কেন, সেই কর্মই তিনি একাগ্রচিত্তে বা গভীর মনযোগের সহিত করে থাকেন।

    ৮. চিন্তাশীলঃ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্ব, স্রষ্টার মাহাত্ম্য, স্রষ্টারশক্তি, স্রষ্টার গুণাবলী, সৃষ্টির গুরুত্ব, জগতের কল্যাণ, ইহজাগতিক ও পরজাগতিক বা ইহলোকে ও পরলোকে আপন অবস্থা নিয়ে একজন আদর্শ মানুষ সর্বদা চিন্তিত থাকেন।

    ১০. সত্যবাদীঃ একজন আদর্শ মানুষ সর্বাবস্থায় সত্যবাদী হয়ে থাকেন। নিজের স্বার্থসিদ্ধি কিংবা শত্রুকে পরাস্ত করতে বা শত্রুকে ঘায়েল করার মানসে অথবা নিজের প্রাণ ভিক্ষার্থে বা প্রাণ রক্ষার্থে কখনও মিথ্যা বলেন না।

    ১১. নিরহংকারীঃ অহংকার হল, স্রষ্টার অলংকার। স্রষ্টা যে অলংকার পরিধান করেন, সে অলংকার কোন আদর্শ মানুষের পরিধানযোগ্য নয়! এই মহাসত্যটি একজন আদর্শ মানুষ মনে-প্রাণ লালন ও পোষণ করেন। তাই, একজন আদর্শ মানুষ কখনও অহংকারী হন না।
এছাড়াও বহু গুণে-গুণান্বিত একজন আদর্শ মানুষ। যেমন: মিষ্টভাষী, সদালাপী, সদাহাস্যোজ্জ্বল, পরোপকারী, প্রত্যুপকারী, প্রত্যুতপন্নমতি, প্রতিশ্রুতিশীল, আমানত রক্ষাকারী, যিনা বা ব্যভিচারী নয়! এমন অসংখ্য গুণে-গুণান্বিত একজন আদর্শ মানুষ এবং সুদ, ঘুষকে অবৈধ বা হারাম ও বৈধকে বৈধ জেনে জীবন-যাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এগুলো সবই হল, আমাদের প্রাণাধিক প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জীবনাদর্শ, গুণ ও বৈশিষ্ট্য। তাঁর জীবনাদর্শ, গুণ ও বৈশিষ্ট্য অনুসরণ বা অনুকরণ ব্যতীত কোন আদর্শ মানুষ কল্পনাও করা সম্ভব নয়। পবিত্র আল্ কোরআনে স্রষ্টা স্বয়ং তাঁর (নবী’র) চরিত্রের আদর্শকে সর্বোত্তম বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করতে বলেছেন। আমাদেরকে আমাদের প্রিয় নবী করিম (সা:) এর সর্বোত্তম জীবনাদর্শ, গুণ ও বৈশিষ্ট্য অবলম্বন করে একজন আদর্শ মানুষ হয়ে জীবন-যাপন করা বাঞ্ছনীয়।

 ★ আদর্শ মানুষ এর প্রতিবন্ধকতাঃ
আদর্শ মানুষ এর জীবনে কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। তা হল,

১. পারিবারিক ও ধর্মীয় অবক্ষয়ঃ এক্ষেত্রে, পরিবারের সদস্যগুলো অবৈধ পথে বড় হতে চায় ও প্রতিষ্ঠিত হতে চায় এবং বৈধ-অবৈধ ও আপনার মানবিক মূল্যবোধ  তাদের নিকট মু্খ্য নয়! তাদের নিকট মুখ্য হল, আপনার অর্থনৈতিক সামর্থ্য, বিত্ত, প্রতিপত্তি, যৌলুষ ইত্যাদি। তাদের নিকট ধর্মীয় অনুশাসন মুখ্য নয়! এমনকি, স্রষ্টার আনুগত্যও মুখ্য নয়। তাই, পারিবারিক ও ধর্মীয় অবক্ষয় আপনার আদর্শ মানুষ হওয়ার পথে প্রধান অন্তরায় বা প্রধান প্রতিবন্ধক।

২. সামাজিক অবক্ষয়ঃ সামাজিক অনাচার, ব্যভিচার, অশ্লীলতা, নীতিহীনতা, সুদ, ঘুষ, শক্তির বড়াই, অপশক্তি, অমর্যাদা, সম্মানহীনতা, দায়িত্বহীনতা, অকৃতজ্ঞতা ইত্যাদি সামাজিক অবক্ষয়গুলো আপনার আদর্শ মানুষ হওয়ার পথে অন্যতম প্রতিবন্ধক।

৩. রাষ্ট্রীয় অবক্ষয়ঃ ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনের অপব্যবহার, বাকস্বাধীনতা রোধ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় অবক্ষয়গুলো আপনার আদর্শ মনুষ্যত্বকে বিকশিত হওয়ার পথে চরমভাবে বাধা প্রদান করবে।

৪.আন্তর্জাতিক অবক্ষয়ঃ আন্তর্জাতিকভাবে কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে, যা বৃহৎপরিসরে আপনার আদর্শ মনুষ্যত্বকে বিকশিত হতে বাধা প্রদান করবে। যেমন, আপনার আদর্শ যদি তথাকথিত উন্নত ও শক্তিশালী রাষ্ট্র তার নিজ রাষ্ট্রে বা তার অন্য বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের প্রতি অহেতুক হুমকি স্বরূপ মনে করে, তখন সেই রাষ্ট্র আপনাকে আন্তর্জাতিকভাবে বয়কট বা আপনার আদর্শের পরিপন্থী কিংবা আপনার জীবনের ঝু্ঁকি সম্বলিত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
আদর্শ হল, এক মহাশক্তি। তাই, মনে রাখতে হবে যে, কোন প্রতিবন্ধকতাই একজন আদর্শ মানুষের আদর্শের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে পারে না। কোন অপশক্তিই তাঁর আলোকছটা রোধ করতে পারে না।
একজন আদর্শ মানুষ সকল প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে বা তাঁর আদর্শ দিয়ে জয় করে তাঁর আদর্শের আলোক-মশাল সর্বত্র সমানভাবে ছড়িয়ে দিয়ে সর্বজনবিদিত হয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে সবার হৃদয়ে আদর্শ বিলি করে চির অমরত্ব লাভ করে থাকেন। এটাই হল, একজন আদর্শ মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি! এটাই হল, একজন আদর্শ মানুষের কর্মফল। এটাই হল, একজন আদর্শ মানুষের জীবনের চরম স্বার্থকতা! এখানেই হল, মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ! এখানেই, স্রষ্টার মহত্ত্ব। তাই, একজন আদর্শ মানুষের অস্তিত্বে মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব বিদ্যমান এবং একজন আদর্শ মানুষের অবয়বে মহান স্রষ্টার অবয়ব বর্তমান। মহান স্রষ্টা একজন আদর্শ মানুষের আদর্শের মধ্য দিয়ে তাঁর আদর্শ প্রকাশ করে থাকেন।

)

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD