সাপ্বতাহিক চলনবিল বার্তা. ৮ সংখ্যা ১৪ , তাড়াশ মঙ্গলবার ২৬ নভেম্বর ২০২৪ ১১ অগ্রহায়ণ ১৪৩১ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিঃ

Spread the love

নির্বাচনের পথে যাত্রা শুরু
সিইসিসহ চার কমিশনারের শপথ গ্রহণ 

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনসহ চার নির্বাচন কমিশনার শপথ গ্রহণ করেছেন। গত রোববার দুপুর দেড়টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সিইসি ও চার কমিশনারকে শপথবাক্য পাঠ করান।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করে। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক মাসের মধ্যে এই পদত্যাগ ঘটে। এরপর আড়াই মাস পেরিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। নতুন কমিশনের সদস্যরা হলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাসুদ, সাবেক যুগ্ম সচিব বেগম তহমিদা আহমদ এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সূত্রঃ আমার সংবাদ।

দুদক – ‘যেই লাউ সেই কদু’

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ দুর্নীতি দমন ব্যুরো প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ছিল। সে সময় সংস্থাটিকে পরিচালনা করা হতো সরকারের ইচ্ছায়। যে কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সরকার-ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ হাতে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি দুর্নীতি দমন ব্যুরো। বরং সরকারের অপছন্দের ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এমন প্রেক্ষাপটে সুশীল সমাজ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থার চাপে ২০০৪ সালে আইন করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নামে একটি স্বাধীন সংস্থা গঠন করা হয়। তবে দুর্নীতি দমনে সংস্থাটির নাম বদলালেও চরিত্র বদলায়নি। প্রতিষ্ঠার ২০ বছরেও দুদকের অবস্থা ‘যেই লাউ সেই কদু’।
যেই ক্ষত নিরসনে ২০০৪ সালে দুদক আইন করা হয়েছে, তা খাতা-কলমেই রয়ে গেছে। নাম পরিবর্তন ছাড়া সংস্থাটিকে শক্তিশালীকরণে আদতে তেমন কাজই হয়নি। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল দুদককে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। আবার সরকার-ঘনিষ্ঠদের বেলায় ছিল ‘ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, বলা যাবে না কথা’। সর্বাঙ্গে ক্ষত দুদককে শক্তিশালী করতে এখন সংস্থাটির সর্বাঙ্গে অস্ত্রোপচার করে ওষুধ দিতে হবে বলে মনে করছেন দুদকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। দুদকের সংস্কারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে প্রধান করে একটি কমিশন করে দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী ৭ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন দিতে পারে বলে জানা গেছে।সূত্রঃ কালবেলা।

জলবায়ু সম্মেলন
অবশেষে তিন শ’ বিলিয়ন ডলার মাত্র 

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তিন শ’ বিলিয়ন ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করেছে ধনী দেশগুলো। জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি ও প্রতিরোধে সহায়তার জন্য এই সহায়তা দেয়া হবে। আজারবাইজানে ওই সম্মেলন সমঝোতার জন্য অতিরিক্ত ৩৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে। শেষ পর্যন্ত লম্বা সময় আলোচনার পর দেশগুলো এ বিষয়ে একমত হতে পেরেছে।
জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু সংস্থার প্রধান সাইমন স্টেইল বলেছেন ‘এটা ছিল কঠিন যাত্রা কিন্তু আমরা চুক্তিটি করতে পেরেছি’।যদিও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার জন্য দেশসমূহের প্রতি যে আহবান গত বছর করা হয়েছিল সে বিষয়ে কোনো চুক্তি এবারের সম্মেলনে করা যায়নি।গত শনিবার উন্নয়ন দেশগুলো, বিশেষত জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো নাটকীয়ভাবে আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসেছিল।‘আমি এটা বাড়িয়ে বলছি না যে আমাদের দ্বীপগুলো ডুবে যাচ্ছে। একটা দুর্বল চুক্তি নিয়ে আমরা আমাদের নারী, পুরুষ ও শিশুদের কাছে ফেরত যাবো, এটা আপনারা প্রত্যাশা করেন কী করে,’ বলছিলেন ছোট ছোট দ্বীপ রাজ্যগুলোর যে জোট তার প্রধান সেডিরক সুসটার।রোববার শেষ পর্যন্ত কিছু পরিবর্তন এনে চুক্তিটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এ সময় করতালি ও উল্লাস করেন অনেকে। তবে ভারতীয়দের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যাচ্ছিল, গভীর হতাশা থেকেই গেছে।
‘আমরা এটা গ্রহণ করতে পারি না…এখানে যে লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে, তা আমাদের সমস্যার সমাধান করবে না। আমাদের দেশের জন্য যে পদক্ষেপ জরুরি দরকার, তার জন্য এটা সহায়ক হবে না,’ লিলা নন্দন বলছিলেন।এরপর সুইজারল্যান্ড, মালদ্বীপ, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশ প্রতিবাদ জানায়। তারা বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির বৈশ্বিক ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য চুক্তিতে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা খুবই দুর্বল।
তবে আরো অর্থের অঙ্গীকার মানে হলো, দরিদ্র দেশগুলো যে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যায্য বোঝা বহন করে চলেছে তার প্রতি একটি স্বীকৃতি। জলবায়ু সঙ্কটের পেছনে এসব দেশের অবদান তুলনামূলক অনেক কম, কিন্তু তারাও এর শিকার হচ্ছে।নতুন করে এবার যে অর্থের প্রতিশ্রুতি এসেছে, সেটি আসবে সরকারি মঞ্জুরি থেকে। সূত্রঃ যুগান্তর।

তাড়াশের নওগাঁ হাটে খাজনার নৈরাজ্য দীর্ঘদিন 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পশু কেনায় অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রসিদ্ধ নওগাঁ হাটের পশু ক্রেতারা অভিযোগ করেন ইজারাদারের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে খাজনার রশিদে টাকার পরিমাণ লেখা হয়না। পশু বিক্রেতারও টাকা দিতে হয় এ হাটে পশু কিনে। নওগাঁ হাটের অবস্থান সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী। ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোর মধ্যে এ হাট অন্যতম। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও বেশি। কয়েক বছর ধরে ইজারাদার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিকার মিলছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজারাদারের লোকজন হাটের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে টেবিল বসিয়ে খাজনা আদায় করছেন। খাজনা আদায়ের রশিদে টাকার অংক ফাঁকা রেখে ক্রেতা-বিক্রেতার নাম, ঠিকানা ও মূল্য লিখে দিচ্ছেন। হাটে খাজনা আদায়ের মূল্য তালিকা নেই। নওগাঁ হাটের ইজারাদার হাই চৌধুরী বলেন, প্রায় তিন কোটি টাকা হাটের ইজারা মূল্য। অনেক লোকজন খাটাখাটি করেন পশুর হাটে প্রতি বৃহস্পতিবার। তাদের টাকা দিতে হয়। লোকসান গুণতে হবে খাজনা বেশি না উঠালে। নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নওগাঁ ইউনিয়ন হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মজনু সরকার বলেন, উপজেলা হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির নজরদারির অভাবে সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ দিন ধরে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। আমার কথা কে শোনে!এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে খাজনা আদায়ের সুযোগ নেই। সতত্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাড়াশে দলিল লেখকরা বেশী টাকা নিলে ব্যবস্থা- সাব-রেজিস্ট্রার

স্টাফ রিপোর্টার ঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দলিল লেখক অফিসের দলিল লেখক সমিতির দীর্ঘ দুই যুগের সিন্ডিকেট ভেঙে যায় সাংবাদিকদের লেখালেখিতে। কিন্তু ৫ জুলাইয়ের পরে সিন্ডিকেট দখলে নেয় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ও উপজেলা স্বেছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন। এদিকে দলিল লেখকদের সিন্ডিকেটের জিম্মিদশা থেকে মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে (১৩ নভেম্বর) বুধবার তাড়াশ প্রেসক্লাব চত্বরে। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বরাবর স্বারকলিপি দেওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুইচিং মং মারমার মাধ্যমে।বিশেষ করে ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করায় চাপে পড়ে দলিল লেখক সিন্ডিকেট। তারপর থেকে সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক ও স্বেছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন, সদস্য সচিব বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম।
দলিল লেখক সিন্ডিকেটের এই দুই হোতা ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের চেষ্টা করেন। কিন্তু দলিল লেখক অফিসের একশ বাষট্টি জনের মধ্যে দশ থেকে বার জন মানববন্ধন করতে রাজি হয়। তাতে বেকায়দায় পরে যায় দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব। কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে ফেসবুকে মিথ্যাচার শুরু করেছেন ভুক্তভোগীদের পক্ষে মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেওয়া সাংবাদিক ও উন্ননয়কর্মী গোলাম মোস্তফার নামে।
জানা গেছে, ভূমি রেজিস্ট্রেশন আইন ২০২৪ না মানার কারণে কবলা দলিলে প্রতি লাখে ছয় হাজার পাঁচশ টাকার স্থলে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত গুণতে হয় ভূমি ক্রেতাদের। দানপত্র দলিলে দিতে হয় দুই হাজার টাকার স্থলে চৌদ্দ হাজার টাকা।অপরদিকে ভুক্তভোগী মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া গ্রামের মন্টু মিঞা বলেন, আমার মেয়েকে উনিশ শতাংশ জায়গা দান করেছি। রেজিস্ট্রেশন খরচ বাবদ চৌদ্দ হাজার টাকা নিয়েছেন। দোবিলা গ্রামের মামুন মাস্টার বলেন, আমি বাইশ শতাংশ জায়গা কিনেছি তিন লাখ পঁঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে। প্রতি লাখে চৌদ্দ হাজার টাকা নিয়েছেন।
সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী গোলাম মোস্তফা বলেন, দলিল লেখক সিন্ডিকেট খুব শক্তিশালী। তাদের ভয়ে ভূমি ক্রেতারাও মুখ খুলতে চান না। প্রতি সপ্তাহে দলিল লেখকরা দশ থেকে বার লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ভূমি ক্রেতাদের। কেউ প্রতিবাদ করলে তার উপর জুলুম করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দলিল লেখকদের ডেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়েছি। কোনো দলিল লেখক ভূমি ক্রেতাদের অতিরিক্ত টাকা নিলে, যদি প্রমাণিত হয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কসাইদেরও সিন্ডিকেট
তাড়াশে বাজার মনিটরিং নেই -গরু ও খাসী মাংসের দাম চড়া 

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ কম দামে গরু কিনে বেশি দামে মাংস বিক্রি করছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মাংস ব্যবসায়ীরা। বাজার মনিটরিং না থাকায় অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে মাংস ক্রেতাদের। এদিকে গরু হাটে তুলে বাড়িতে ফেরৎ নিয়ে আসছেন অধিকাংশ গৃহস্থ। তারা এত কম বাজার মূল্যে গরু বিক্রি করতে পারছেন না। গত বৃহস্পতিবার প্রসিদ্ধ নওগাঁ হাট ঘুরে জানা যায়, যে দামে গরু কেনাবেচা হচ্ছে, দুই হাজার তিনশ টাকা পড়ছে প্রতিমণ মাংসের দাম। কেজি হিসেবে পাঁচশ পঁচাত্তুর টাকা প্রতিকেজি।
সরেজমিনে শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, তাড়াশ পৌর শহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কের পাশে দুইটি স্থানে গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। পশ্চিম ওয়াপদা বাঁধের বটতলা মোড়ে ও বিনসাড়া বাজারেও মাংস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। কোনো মাংসের দোকানে মূল্য তালিকা টাঙানো নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার মোক্তার হোসেন নামে একজন মাংসের ব্যবসায়ী বলেন, আপনি কিনলে ছয়শ পঁঞ্চাশ করে রাখবো প্রতিকেজি। অন্যদের কাছে সাতশ বিক্রি করছি। মফিজ নামে আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা সাতশ টাকার কমে মাংস বিক্রি করি না। এছাড়া তাড়াশ বাজারে খাসির মাংশ বিক্রি হচ্ছে ৯শ’ থেকে এক হাজার টাকা যা বগুড়ার বাজারের চেয়ে বেশী অপরদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ি বগুড়া শহরে। শুক্রবার সকালে স্বপ্ন থেকে মাংস নিলাম ছয়শ ত্রিশ করে। খোকন পার্কের সামনে বিক্রি হয় প্রতিকেজি ছয়শ টাকায়। সরকার গরুর মাংসের মূল্য নির্ধারণ করেন নি। সুযোগ পেয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মাংস ক্রেতাদের।এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পৌর প্রশাসক খালিদ হাসান বলেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের সাথে কথা বলে দেখি কী করা যায়।

তাড়াশ পৌর সদরে রাস্তা মেরামতের সাইনবোর্ড নেই 

স্টাফ রিপোর্টার ঃ গত সপ্তাহ থেকে তাড়াশ পৌর সদরে পৌরসভার উদ্যোগে বাজার থেকে বাটুল উকিলের বাড়ী পর্যন্ত সড়কটি মেরামত অথবা রড দিয়ে ঢালাই নির্মাণ কাজ চলছে তার কোন সাইনবোর্ড বা সাইন প্লেট নেই। সড়কটি বিভিন্ন প্রভাবশালীদের বাড়ী ও দোকানের চাপে কোথাও সরু কোথাও প্রশস্ত হয়ে থাকায় এটা সমান পরিমাপ নিশ্চিত না করেই নির্মাণ কাজ চলছে। তাছাড়া এটা পৌরসভার কোন্ প্রকল্পের অধীনে তার নাম, বিবরণ সহ মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ পূর্বক রাস্তার প্রকাশ্য স্থানে সাইনবোর্ড থাকার কথা সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে।যাতে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প বিষয়ে জনগণ বিস্তারিত অবগত হতে পারে। কিন্তু তাড়াশ পৌর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন কেন তা জনগণের প্রশ্নের উদ্রেক করেছে? উল্লেখ্য , শুরু থেকেই এই পৌরসভায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে এবং বর্তমান আমলা নির্ভর পৌর প্রশাসনে তা বেড়েই চলেছে।

 

তাড়াশের কুন্দইল হাইস্কুলের
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম, তাড়াশ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশের কুন্দইল বিলচলন বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশনের অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে। জানাগেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড রাজশাহী কর্তৃক নবম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রেজিষ্ট্রেশন ফি নির্ধারন করেন ২০৫ টাকা । কিন্তু ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আফজাল হোসেন ৭০ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করেন ৪০০ টাকা করে। তারপর স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ হজরত আলী করোনার পর থেকে স্কুলে অনুপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনের সাথে যোগসাজসে প্রতিমাসে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। তাছাড়া এনটিআরসির শিক্ষক নুরে হাবিবা কে নিয়োগের সময় তার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং স্কুলের পুকুর লিজ দেয়ার ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য ২৩০টাকা থেকে ২৩৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জোর করে আদায় করছেন ৪০০ টাকা। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন জানান, রেজিষ্ট্রেশন অনলাইন করতে বেশ টাকা ব্যয় হয়ে যায়, যার ফলে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। তারপর টাকাগুলো আদায় করে স্কুলের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয়েছে। তাড়াশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালাম জানান, শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত রেজিষ্ট্রেশন ফি’র বেশি টাকা নিলে বিষয়টি জেনে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তাড়াশ খান পাড়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে
মুক্তিযোদ্ধা মেরিনার আবেদন 

স্টাফ রিপোর্টার ঃ তাড়াশ পৌর সদরের খান পাড়ায় দীর্ঘ জলাবদ্ধতার ফলে ওই এলাকার প্রফেসর পাড়া সহ প্রায় তিন শত পরিবার জলবদ্ধতাজনিত নানা সমস্যার সম্মুখীন বলে জানা গেছে। বিশেষ উল্লেখ, খান পাড়ার বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ শিশু হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নারী নেত্রী মেরিনা খাতুন সম্প্রতি ওই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য তাড়াশ পৌর সভার প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এর আগে তিনি স্থানীয় ইউএনও-র সাথে কথা বলেন। গত ৬ অক্টোবর উক্ত কর্তৃপক্ষকে দাখিলকৃত আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তাড়াশ বাজারের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালাটি মাটির ভরাটের মাধ্যমে আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে জলবদ্ধতা পুকুরের পানির সাথে বাজারের বৃষ্টির পানি মিলিতভাবে মেরিনার বাড়ীর পূর্ব পাশ ঘেষে বিরাট মাঠ বছরের অধিকাংশ সময় জলমগ্ন থাকছে। এ কারণে খান পাড়া ও প্রফেসর পাড়ার প্রায় ৩০০ শত পরিবার ও তাড়াশ বাজারে চলাচলকারী অসংখ্য মানুষের খান পাড়া থেকে বাঁধ সংযোগ সড়ক ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া তাড়াশ গ্রামীনফোন টাওয়ার হতে উত্তর ওয়াবদাবাধঁ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ কিলোমিটার রাস্তাটি উত্তরাংশে কয়েকটি বাড়ীতে প্রতিবন্ধকতা থাকায় এ সড়কটি জন ও যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মেরিনা তার দরখাস্তে লিখেছেন, জলাবদ্ধতা দরুন তার বাড়ী সহ আশেপাশের বাড়ীতে শাকসবজি ও গাছপালার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই কারণে পরিবারগুলোর আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্রমাগত জলাবদ্ধতার দ্বারা সাপ-পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়াই এলাকাবাসী আতঙ্কে আছে। আপাতত: দ্রুত পানি সেচের মাধ্যমে এই জলাবদ্ধতা তাৎক্ষণিক সুরাহা করে এর স্থায়ী সমাধানের জন্য পৌর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মেরিনা খাতুন।

কিয়ামতের আলামত
মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ 

মানুষের ভালো-মন্দ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে মানুষকে পাঠিয়েছেন। পৃথিবীর এই রঙ্গমঞ্চে মানুষকে তার ব্যক্তিগত ইচ্ছাধিকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন, যা খুশি তাই করার অধিকার দিয়েছেন। কোনো কিছুতে বাধা নেই, যাচ্ছেতাই জীবনযাপনে রাশ টানার কেউ নেই। তবে এই সবের সমাপ্তি ঘটবে কিয়ামতের মাধ্যমে। কিয়ামতের মাধ্যমেই রঙরসে ভরা পৃথিবীর এই জীবনের সমাপ্তি ঘটবে।
কিয়ামতের সংবাদ সব যুগেই সব নবী দিয়ে গেছেন উম্মতকে। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও কিয়ামত সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘কেয়ামত সন্নিকটে’। কোরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে, তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, কেয়ামত অকস্মাৎ তাদের কাছে এসে পড়–ক। বস্তুত কেয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে?’ (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত : ১৮)
নবীজি সা. কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগ মুহুর্তের বেশ কিছু আলামতের কথা বলেছেন। এই আলামতগুলোর মধ্যে সর্বশেষ ও ভয়াবহ হলো দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটা। দাজ্জাল কেয়ামতের ৪০ দিন আগে পৃথিবীতে আসবে এবং মানুষকে বিপথগামী করতে সবধরনের চেষ্টা চালাবে।
দাজ্জালের আবির্ভাবের বিষয়টি কোরআন-হাদিস দ্বারা সমর্থিত। সে মিথ্যা জান্নাত-জাহান্নামের চিত্র দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। হাদিসের বর্ণনামতে, ‘দ্রুতগামী বাতাস বৃষ্টিকে যেভাবে চালিয়ে নেয়, দাজ্জালের চলার গতিও সেরকম হবে।’(মুসলিম- কিতাবুল ফিতান )
কেয়ামতের আগে মরুভূমিতে যে আলামত প্রকাশ পাবে
কিয়ামতের দিন কি হবে?
কিয়ামতের দিন দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিয়ে যা বলেছেন বিশ্বনবী সা.।
এক হাদিসে কিয়ামতের ১০টি আলামতের কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটি তুলে ধরা হলো এখানে।
মুসলিম শরীফে হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। আমরা তখন কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, যত দিন তোমরা দশটি আলামত না দেখ তত দিন কিয়ামত হবে না।

১. ধোঁয়া। ২. দাজ্জালের আগমন। ৩.। ভূগর্ভ থেকে নির্গত দাব্বাতুল আরদ নামক অদ্ভুদ এক প্রাণীর আগমন। ৪. পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়। ৫. ঈসা ইবনে মারইয়ামের আগমন। ৬. ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব। ৭. পূর্বে ভূমি ধ্বস। ৮. পশ্চিমে ভূমি ধ্বস। ৯. আরব উপদ্বীপে ভূমি ধ্বস। ১০. সর্বশেষে ইয়ামান থেকে একটি আগুন বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার দিকে হাঁকিয়ে নিবে। (মুসলিম, কিতাবুল ফিতান)
কিয়ামতের আগে হত্যাকান্ড বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে কয়েকটি হাদিস পাওয়া যায়। হাদিসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. সহীহ বুখারী: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের আগে এমন এক সময় আসবে, যখন হত্যা বেড়ে যাবে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৭০৬১)
২. সহীহ মুসলিম: আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সেই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রা’ণ! দুনিয়া ততক্ষণ ধ্বং’স হবে না যতক্ষণ না হত্যাকান্ড বেড়ে যাবে। এমনকি হত্যাকারী জানবে না কেন সে হত্যা করেছে, আর নিহ’তও জানবে না কেন তাকে হত্যা করা হলো।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৯০৮)
৩. জামে তিরমিজি: আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের আগে ‘হারজ’ (হত্যাকান্ড) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।” জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হারজ’ কী? তিনি বললেন, “পরস্পরকে ‘হত্যা করা।” (তিরমিজি, হাদিস নং ২১৯৫)
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে সমাজে অ’শান্তি ,অরাজকতা ও হত্যাকান্ড ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। মহান আরøাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন,আমীন ।

লেখক ঃ তরুণ আলোচক ও গবেষক । শেরপুর, বগুড়া।

তাড়াশ, আমার তাড়াশ !
কে,এম আব্দুস সালাম

তাড়াশ আমার জন্মস্থান, তাড়াশকে ভালোবাসি আমি। আর সে কারণেই হয়তোবা অনেক দূরে থেকেও কোনো মুখে তাড়াশের নামটি শুনলেই আমার ভেতরে এক আলাদা ভালো লাগা কাজ করে। চোখে ভেসে উঠে হেমন্তের সোনালী মাঠ, বর্ষার বিল।
ক’দিন আগে একরকমই একটা অনুভূতি আমাকে নিয়ে যায় বিলের প্রান্তে।
ঢাকার মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার। ঢাকা শহরের বৃহৎ কাঁচা বাজার। অফিসের ব্যস্ততার কারণে খুব একটা যাওয়া হয় না বাজারে। এই ঝামেলাটা আমার স্ত্রীই বহন করছেন দক্ষতার সাথে। আমিও সুকৌশলে চাপিয়ে দিয়েছি তাঁর উপর এই কঠিন দায়িত্ব।
মাঝে মাঝে ছুটির দিনে তাঁকে সহযোগিতা করার জন্য বাজারে যাই। দেখি মানুষের ভীড়, ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে দাম নিয়ে রশি টানাটানি। এর মাঝেও মানুষের উপচে পড়া ভীড়। ডালার উপর রুপচাঁদা মাছের সাজানো দেখে মনে হয় এক অদ্ভুত শিল্পকর্ম।
একটা মাছের দোকানের সামনে দাঁড়াই। বেশ বড়ো বড়ো রুই কাতলা মাছের সাড়ি। সেখান থেকেই একটা মাছ কিনে কাটতে বলি। বিক্রেতা মাছ টুকরো করতে থাকে।
আমি জিজ্ঞেস করি, “কোথাকার মাছ?”
“সিরাজগঞ্জের,” জবাব দেয় দোকানি।
আবার জিগ্যেস করি, ” সিরাজগঞ্জের কোথা থেকে আসে?”
“মহিশলুটি”।
আমি চমকে উঠি! মহিশলুটি আমার তাড়াশেরই একটা মাছের বড়ো আড়ৎ। সেই আড়ৎ থেকে ঢাকার বাজারে তাড়াশের মাছ! আমি ফিরে যাই যমুনার ওপাড়ে প্রিয় তাড়াশে। তাড়াশের মৎস্যজীবী মানুষকে আমার বড়ো আপন মনে হয়। এই মাছকে মনে হয় সেইসব মানুষেরই পাঠানো এক উপহার ঢাকাবাসীর কাছে।
তাড়াশের সেইসব মানুষের কাছে আবারও খুব ঋণী মনে হয় নিজেকে। মনের গভীরে ভেসে উঠে তাড়াশ, আমার তাড়াশ!
লেখক ঃ তাড়াশের কৃতি সন্তান। সাবেক সিনিয়র সচিব।

একজন নার্গিসঃ শ্রমিক থেকে দক্ষ চালক 

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) ঃ বাড়িতে স্বামী শয্যাশায়ী। শাশুড়ি বয়সের ভারে অসুস্থ। পিঠাপিঠি ভাইবোন। পরিবারের সাত সদস্যের খাবারের যোগার করতে হয় নার্গিসকে। আগে এ বাড়ি-ও বাড়ি কাজ করতেন। বহুদিন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কেটেছে কাজ না পেয়ে। নিরুপায় হয়ে স্থানীয় একটি রাইস মিলে দিন মজুর খাটতে শুরু করেন। এখন তিনি ঐ রাইস মিলের পাঁচ ধরনের মেশিন একা হাতে সামলান। নার্গিসের স্বামীর নাম নজরুল ইসলাম। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলাতে বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে তার বাড়ি।
মিল মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিন বছর হয়েছে রাইস মিল স্থাপন করার। শুরুর দিকে ইয়াসিন নামে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি মিলের মেশিন চালাতেন। নার্গিস দিন মজুরের কাজ করতে-করতে চার মাসে রাইস মিলের মেশিন চালানো শিখে নেয়। সে খুব সহজ-সরল। কিন্তু তার ছিল অদম্য ইচ্ছে। সে রাইস মিলের পাঁচটি মেশিনে মানুষ ও পশুর নয় ধরনের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারেন।
বিনসাড়া গ্রামের ইয়াসিন বলেন, নার্গিস আমার নিকটতম প্রতিবেশী। তার খুব অভাব-অনটনের সংসার। একদিন কাজ না করলে পেটের ভাত জোটেনা। প্রতিদিন কাজও পায়না। আমি মাঠে-ঘাটে সব কাজ করতে পারি। এজন্য আমার রাইস মিলের মাসিক চাকরিটা তাকে দিয়েছি। সে শুধু মেশিন চালানো নয়, মেশিনের খুঁটিনাটি সব সমস্যা ঠিক করতে পারে। এদিকে নার্গিস দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, রাইস মিলে দুইশ টাকায় দিন মজুরের কাজ করতাম। মেশিন চালিয়ে মাসে নয় হাজার টাকা পাই। এ টাকাতে বেশ কষ্টের ভরণপোষণ আমাদের। স্বামী অসুস্থতাজনিত কারণে কোনো কাজ করতে পারেনা। শাশুড়ির যথেষ্ট বয়স হয়েছে। বড় ছেলে নাঈমের বয়স ১৫ চলছে। অন্য দুই ছেলে ও এক মেয়ে আরও ছোট।
নার্গিসের স্বপ্ন, ‘ নিজ বাড়িতে ধান ভাঙানো মেশিন বসানো। একটি মেশিনে শুধু ধান ভাঙলেও সংসারের অভাব কেটে যেত। ’সরেজমিনে দেখা যায়, কাজিপুর গ্রামের কাজিপুর সড়কের পাশে সরকার রাইস মিলে মেশিন চালাচ্ছেন নার্গিস। মিলের মেশিনের চাকায় ফিতা তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে সব তিনি নিজেই করছেন। সরষে ভাঙানোর পর আরেক মেশিনে চাল ঢেলে দিচ্ছেন চালের আটা করার জন্য। তারপর আরেক মেশিনে মাছের খাদ্য প্রস্তত করছেন।কাজিপুর গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, ধান, ধানের চিটা ও ভুট্টা দিয়ে মাছের খাদ্য প্রস্তুত করে নিলাম। নার্গিস একজন ভালো মেশিন চালক। খুব ভালো করে সব খাবার প্রস্তুত করে দেয়।
এ গ্রামের মনোয়ার খাতুন নামে একজন গৃহিনী বলেন, আমার স্বামী ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। আমি চাল থেকে আটা করে নিলাম। সমাজ সংগঠক মামুন বিশ^াস বলেন, নিজেদের অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ালে নার্গিসের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। বিশেষ করে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত নার্গিসের পরিবারটির মুক্তি মিলত। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. খাদিজা নাসরিন বলেন, নার্গিসের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তার জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ- তাড়াশে মসজিদের খতিব নিয়োগে অনিয়ম

তাড়াশ প্রতিনিধি ঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব নিয়োগে অনিঢমের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মি: সুইচিং মং মারমা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন নিয়োগ বঞ্চিত বৈষম্যের শিকার মাওলানা মোক্তার হোসাইন। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। উক্ত পরীক্ষায় নিয়োগ বোর্ডের তিনজন সম্মানিত পরীক্ষকদের মধ্যে দুইজন ছিলেন কওমী নেছাবের আলেম; যারা আলিয়া নেছাবের আলেমদেরকে ভালো চোখে দেখেন না বা শত্রু মনে করেন। এমনি অবস্থার শিকার আমি হয়েছি। যেহেতু আমি আলিয়া মাদ্রাসা হতে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামেল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে তিনটিতে ১ম বিভাগ এবং একটিতে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছি। এছাড়াও বিএ (সম্মান) এবং এমএ পরীক্ষায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্বর্ণপদকসহ ১ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছি।
নিয়োগে সনদের মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। প্রথম বিভাগের জন্য- ৩, ২য় বিভাগের জন্য- ২ এবং ৩য় বিভাগের জন্য- ১ সে হিসেবে আমার সনদের প্রাপ্ত নম্বর হয় ১১/১২। অথচ আমাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৮ (আট)। পক্ষান্তরে যারা আমার সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলো তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত কোন সনদ না থাকায় তাদের কওমি নেসাবের শুধু সনদ দুইটি সনদ রয়েছে সে হিসেবে তাদের প্রাপ্ত নম্বর হওয়ার কথা ও (যদি উভয় পরীক্ষায় ১ম বিভাগ হয়)। অথচ, তাদেরকে দেয়া হয়েছে ৯ (নয়)। লিখিত পরীক্ষায় একটি হাদিসকে হরকত দেয়া এবং বঙ্গানুবাদ করা জন্য বলা হয়েছে। আমি উক্ত হাদিসটিতে হরকত দেয়া এবং যথাযথ বঙ্গানুবাদ করেছি। অথচ, আমাকে নম্বর দেয়া হয়েছে ১০ এর মধ্যে মাত্র ৪ (চার) অপরদিকে অন্যান্য প্রার্থীগণকে ১০ এর মধ্যে ০৯ (নয়) করে নম্বর দেয়া হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার খাতাগুলো ৩য় কোনো পরীক্ষকের মাধ্যমে নীরিক্ষা করার ব্যবস্থা করার দাবি জানান সেই সঙ্গে ভাইবা পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদেরকে ১৫-২০ মিনিট করে ভাইবা পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। অথচ, আমাকে ভাইবা বোর্ডে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে সময় নিয়েছেন ৪৫ মিনিট। সময় বেশি নেয়ার মূল কারণটাই হচ্ছে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে ঠেকানো।
সার্চ কমিটির সদস্যসহ কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) সকলেই আমার ভাইবা পরীক্ষায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করা সত্ত্বেও আমাকে সর্বনিম্ন নম্বর দেয়া হয়েছে। এছাড়া খতিব নিয়োগ বিষয়ে পরীক্ষা, ভাইবা এবং প্রাকটিক্যাল তথা জুমায় খুৎবা দেয়ার ব্যবস্থা করে জনমত যাচাইয়ের সুযোগ দিবেন।য়খতিব নিয়োগ বিষয়ে আমার লিখিত পরীক্ষার খাতা পূর্ণ মূল্যায়ন, সনদের নম্বর নিশ্চিতকরণের দাবী করেন।এ ব্যাপারে সার্চ কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ হাসান জানান, তিনজন স্কলারের মাধ্যমে পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হয়েছে এখানে কোন অনিয়ম করা হয় নি। এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুইচিং মং মারমা জানান, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রহণ করা হবে।

 

তাড়াশে শুটকি চাতালে নারী শ্রমিক বঞ্চিত
দেখার কেউ নাই 

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ ঃকাজ করেন পুরুষের সমান। কিন্তু মজুরি পান পুরুষের চেয়ে অর্ধেকেরও কম টাকা। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শুঁটকি চাতালের নারী শ্রমিকরা দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময় ধরে মজুরিবৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে এ কাজেই তাদের জীবিকা চলে। নিরুপায় হয়ে মজুরিবৈষম্য মেনেই কাজ করে চলছেন।এদিকে তাড়াশের বিশিষ্ট নারী নেত্রী রোখসানা খাতুন বলেন, প্রায় সব কাজেই মজুরি বৈষম্যের শিকার নারী। এর মূল কারণ ‘ আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অবদান ছোট করে দেখা হয়। ’ আমি নিজেই যাব সেখানে। নারী শ্রমিকদের মজুরি বারানো নিয়ে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলব।
মজুরিবৈষম্যের শিকার শুঁটকি চাতালের নারী শ্রমিকরা আরো বলেন, সূর্য ওঠার আগেই শুঁটকির চাতালে আসতে হয়। রোদ বেরোনোর সাথে সাথে কাজ শুরু হয়ে যায় আমাদের। মাছ ধোয়া, মাছ কাটা আমরাই করি। রোদে শুকানোর কাজেও বেশি সময় দেই। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। সেই তুলনায় মজুরি পাইনা।
শুঁটকি ব্যবসায়ী দেলবর হোসেন, সুজন, গফুর, নান্নু, আলম, জিল্লুর ও মান্নান বলেন, নারী শ্রমিকদের মজুরি ছিলো একশ বিশ টাকা। তারপর একশ পঁঞ্চাশ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুইশ টাকা দিচ্ছি। নারী শ্রমিকদের মজুরি পুরুষ শ্রমিকদের সমান হতে পারে না।সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিল অধ্যূষিত তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি বাজার এলাকায় শুঁটকির চাতালে পুরোদমে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি বাঁশের মাচায় মাছ শুকানো হচ্ছে। কেবল নারী শ্রমিকদেরই দেখা মেলে শুঁটকির চাতালে। পুরুষ শ্রমিকরা দুপুরের নাওয়া-খাওয়া সেরে আরাম করছেন তখনও। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, নারী শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে শুঁটকি ব্যবসায়ীদের।এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নারী শ্রমিকদের মজুরিবৈষম্যে দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রায়গঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ
কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য 

সাইদুল ইসলাম আবির ঃ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের (রিপ্রেজেনটিভ) দৌরাত্ম্য দিন দিনই বেড়েই চলেছে। দিনভর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে থাকে হাসপাতাল। তাদের দৌরাত্ম্যে নানা হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও মানছেন না কোম্পানি প্রতিনিধিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ও ভেতরে ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড় লেগেই আছে। অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন। ছবি তোলেন, দেখেন কোন কোম্পানির ওষুধ লেখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে তারা ভিজিট করে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। কোনো রোগীকে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকতে দেখলেই ১০-১২ জন প্রতিনিধি ওই কক্ষের সামনে এবং ভেতরে ভিড় করছেন। আবার কেউ কেউ রোগীকে অপেক্ষায় রেখে তাদের ভিজিট সেরে নিচ্ছেন। এর বাইরেও প্রতিনিয়তই চোখে পড়ে এসব প্রতিনিধিদের নানান দৃশ্য।
সরকারি এ হাসপাতালটিতে রোগীরা ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্রই বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের পথে দাঁড় করিয়ে ব্যবস্থাপত্র টেনে নিয়ে সেটির ছবি তুলে রাখেন। প্রায়ই দেখা গেছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ভিড় করে আছেন।
সেই ভিড় ঠেলে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকতে হচ্ছে রোগীদের। আবার ভেতরে প্রবেশ করলেও দেখা যায় সেখানে চলছে ভিজিট। এভাবেই প্রতিদিন সরকারি এ হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, প্রেসক্রিপশনে ঔষুধ লিখার জন্য প্রতিমাসেই কলম, পেড, চাবির রিং থেকে শুরু করে টিভি-ফ্রিজ, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিতে হয় ডাক্তারদের। তার বিনিময় প্রতিটি প্রেসক্রিপশনেই আমাদের ঔষধ লিখতে হবে। এছাড়াও এসব ব্যবস্থাপত্রের একটি কপি মেইল করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠাতে হচ্ছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সাদিয়া জাহান তুন্নি বলেন, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে কোনোভাবেই অবস্থান নেয়ার সুযোগ নেই। হাসপাতাল চলাকালীন তাদের ভেতরে আসার নিয়ম বহির্ভূত। সপ্তাহে শনিবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার পর মাত্র এক ঘন্টা ভিজিটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যা লিফলেট আকারে হাসপাতালে প্রাঙ্গণে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমীমুল ইহসান তৌহিদের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেষের পাতার ফিচার
তাড়াশে নারীদের কুমড়ো বড়ি তৈরী
সরকারী সহায়তা দরকার 

আশরাফুল ইসলাম আসিফ, তাড়াশ ঃ গ্রামের ভেতর দিয়ে রাস্তা। সেই রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট টিনের চালায় রোদে শুকানো হচ্ছে হলুদ সরসে রঙের কুমড়ো বড়ি। বাড়ির উঠানে বসে মেয়েরা তৈরী করছে এসব কুমড়ো বড়ি। রাতে ভেজানো ডাল মেশিনে ভাঙিয়ে সেই ডালে পানি, কালো জিরা ও অন্যান্য মসলা মিশিয়ে মাখিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ টিনের চালে গুটি গুটি করে কুমড়ো বড়ি দিচ্ছেন। মেয়েদের কুমড়ো বড়ি তৈরীর এমন দৃশ্য সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মথুরা গ্রামের। এ গ্রামের নারী উদ্যোক্তারা বাণিজ্যিকভাবে কুমড়ো বড়ি তৈরী করছেন প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে। শীতের ৪ থেকে ৫ মাস কুমড়ো বড়ি তৈরী করে সংসারের বাড়তি আয় করছেন তারা।
নারী উদ্যোক্তারা বলছেন, সব খরচ বাদে মৌসুমে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয় তাদের। এতে অনেকের সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। বদলে গেছে এক সময়ের অভাব-অনটন সংসারের চালচিত্র। সরেজমিনে মথুরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে কুমড়ো বড়ি তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। সাধারণত: কার্তিক মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ছোট বড় সব বয়সি নারীরাই এ কাজে নিয়োজিত থাকেন। প্রথমত: অল্প পরিমাণ কুমড়ো বড়ি তৈরী করে বাজারে বিক্রয় করা শুরু করেন মথুরা গ্রামের ফাতেমা।তাতে লাভবান হওয়ায় তার দেখাদেখি স্বামীর সহযোগিতায় ব্যবসিকভাবে শুরু করেন আরেকজন খাদিজা বেগম। এবার খাদিজা বেগমের সফলতা দেখে এ গ্রামের নারীরা উদ্ধুদ্ধ হয়ে তারাও বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুমড়োবড়ি তৈরী করা শুরু করেন। রাশেদা বেগম ছাড়াও এই মুথুরা গ্রামের নারী উদ্যোক্তাগণ এখন কুমড়োবড়ি তৈরী করে সংসারের বাড়তি আয় করছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২শ কেজি থেকে আড়াইশ কেজির কুমড়ো বড়ি তৈরী করছেন এ গ্রামের নারী উদ্যোক্তারা।
নারী উদ্যোক্তারা জানায়, ডালের সাথে কালো জিরা, সয়াবিন সহ নানা রকম উপকরণ মিশিয়ে কুমড়োবড়ি তৈরী করা হয়। প্রতি কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরী করতে তাদের খরচ হয় ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে পাইকারী বিক্রি হয় ১৩০ থেকে ৩৫ টাকা আর খুচরা বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। এতে খরচ বাদে প্রতি কেজিতে লাভ হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। তাড়াশের নওগাঁ বাজারের কাঁচা ব্যবসায়ি আমিরুল ইসলাম জানান, মথুরা গ্রামের নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরী করা কুমড়ো বড়ি খেতে ভালো লাগে বলে বাজারে এ বড়ির চাহিদা বাড়ছে।তাড়াশ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার রফীন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, বাঙালির খাদ্য তালিকায় কুমড়ো বড়ি বেশ জনপ্রিয়। উন্নত বাজার ব্যবস্থা ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে গ্রামের নারী উদ্যোক্তারা আরো বেশি উৎসাহী হয়ে এই কাজে আত্মনিয়োগ করবে। এজন্য সরকারী সহায়তার হাত বাড়ানো গেলে এ পেশার আরো প্রসার ঘটবে বলে সংশ্লিষ্ট নারী উদ্যোক্তাগণ মনে করেন।

তাড়াশের নওগাঁ কলেজ মাঠে অবৈধ পশুর হাট 

গোলাম মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের মাঠে পশুর হাট বসানো হয় প্রতি বৃহস্পতিবার। কোরবানীর ঈদ ও রোজার ঈদে গরু-ছাগলের হাট লাগানো হয় মাসব্যাপী। বিশেষ করে, বৃহস্পতিবার হাটের কারণে কলেজ বন্ধ থাকে।
এদিকে নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মো. বেলাল হোসেন আনসারী বলেন, বৃহস্পতিবার কলেজ খোলা রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পশুর হাটে প্রচুর জনসমাগম ঘটে। এজন্য ছাত্রছাত্রী কম হয়। যারা যারা ঝুঁকি নিয়ে আসেন, তাদের নিরাপদে হাটের সীমানা পাড় করে দিতে হয়।নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের বিএ চুড়ান্ত বর্ষের ছাত্র নুরুন্নবী ও জাকারিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার কলেজ মাঠে পশুর হাটের কারণে লোকজনের মধ্যে ছাত্রদের যাতায়াত করাই মুশকিল। ছাত্রীদের কেনোভাবেই সম্ভব নয় হাটের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করা। সপ্তাহে একদিন কলেজ বন্ধ থাকায় পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ছি আমরা।জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোর মধ্যে নওগাঁ হাট অন্যতম। এ হাটের অবস্থান সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিও বেশি। তাছাড়া ইজারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হাটের সীমানার বাইরে কোনো প্রকার হাট লাগানো ও খাজনা আদায় করা যাবে না। নওগাঁ হাটের ইজারাদার হাই চৌধুরী বলেন, আগে থেকেই কলেজ মাঠে হাট বসে। আমরা ইজারা নেওয়ার পর কলেজ মাঠ পরিস্কার করি প্রতি শুক্রবার।নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নওগাঁ ইউনিয়ন হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মজনু সরকার বলেন, আমি বহুবার নিষেধ করেছি কলেজ মাঠে হাট বসানো যাবেনা। ইজারাদার মানতে নারাজ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর কোনো বিধান নাই। আমি ব্যবস্থা নেব।এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের সভাপতি বলেন, হাট পেরিফেরি এলাকার বাইরে কোনো হাট-বাজার বসানো যাবে না, খাজনা আদায় করা যাবে না। দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজের
সভাপতি হলেন স. ম. আফছার আলী 

সাব্বির আহম্মেদ ঃ সিরাজগঞ্জের তাড়শে দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন স. ম. আফছার আলী। বিদ্যুৎসাহী সদস্য হয়েেেছন মো. আব্দুল জব্বার। গত মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স. ম. আফসার আলীকে দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজের সভাপতি ও মো. আব্দুল জব্বারকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
শিক্ষানুরাগী স.ম.আফছার আলী মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের ঘরগ্রামের কৃতি সন্তান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র তাড়াশ উপজেলা শাখার সভাপতি। একজন শিক্ষানুরাগী গুনী ব্যাক্তি সভাপতি হওয়ায় ওই কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অত্র কলেজের অধ্যক্ষ,শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী। জানা গেছে, গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশে নিজ নিয়ন্ত্রিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়। পরে এডহক কমিটি গঠনের জন্য নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশ মোতাবেক সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজের আবেদনের মাধ্যমে ওই এডহক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

তাড়াশের খাঁটি খেজুর গুড়
দেশে-বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ তখনো সূর্য ওঠেনি। গাছিরা রস সংগ্রহ করে মাটির চুলায় জ¦াল করছেন। ধীরে ধীরে রসের রং লালচে হতে শুরু করে ও ঘন হয়ে যায়। কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়া খেজুর গুড় তৈরি হচ্ছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায়।অতিথি গাছি রাজশাহী জেলার বাঘা থানার মনিগ্রাম ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের জামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও মকবুল হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে খেজুর গুড় তৈরি করছেন। ক্ষতিকারক কেমিক্যাল কিংবা চিনি মেশানো হয় না।
গত শনিবার দেখা গেছে, তাড়াশের মাধাইনগড় ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের বাড়ির উঠানে রাজশাহী বাঘা থানার গাছিরা খেজুর রস জ¦াল করছেন। দুইশ গাছের প্রায় আট মণ রস সংগ্রহ করেছেন। প্রায় চার ঘন্টা লাগলো জ¦াল করতে। চুলায় খেজুর রস লালচে রং ধারণ করে, ঘন হতে থাকে। পরে একটু ঠান্ডা করে নিলেন। তারপর বাটিতে ও পলিথিনের উপর তরল গুড় ঢেলে দিলেন। এভাবে তৈরি হয়ে গেল খাঁটি ও সুস্বাদু খেজুর গুড়।প্রতিকেজি গুড়ের দাম একশ পঁঞ্চাশ টাকা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাড়াশের আট ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ হাজার আটশ খেজুর গাছ রয়েছে রস সংগ্রহ করার মতো। আরো বেশকিছু গাছ বেড়ে উঠছে বিভিন্ন এলাকায়। এ বছর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আশি মেট্রিক টন।তাড়াশের নির্ভেজাল-খাঁটি খেজুর রসের গুড় সমাদৃত হচ্ছে দেশে এমনকি বিদেশেও।

তাড়াশে এম, সেরাজুল হকের স্বরণ সভা অনুষ্ঠিত 
তাড়াশ প্রতিনিধি ঃ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী রাজনীতিক বিশিষ্ট ্সাহিত্যিক,লাঙল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও শিরাজী চরিতের লেখক এম, সেরাজুল হকের ৬১ তম স্বরণ সভা অনুষ্ঠিত। ১৫-ই নভেম্বর সেরাজুল হক স্মৃতি পরিষদের উদ্যেগে তাড়াশ প্রেসকা¬ব চত্বরে স্মৃতি পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মেহেরুল ইসলাম বাদলের সভাপেিত্ব ও স্বরণ সভার উদ্বোধক খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীরের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে স¦রণ সভাটি শুরু হয়। স্বরণ সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন চলন বিলের চেরাগ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক ও সেরাজুল হক গবেষক সামসুল আলম সেলিম, সাবেক ইউ পি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান মিয়া, সাপ্তাহিক চলনবিল বার্তার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজু। উক্ত স্বরণ সভায় বক্তব্য রাখেন মাই টিভির চলনবিল প্রতিনিধি প্রভাষক সনাতন দাস, সমকালের তাড়াশ প্রতিনিধি সহকারী অধ্যাপক এম.আতিকুল ইসলাম বুলবুল,। সৈয়দ সাইদুর রহমান সাইদ, আব্দুল লতিফ সরকার, মোঃ জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সনঞ্চালনা করেন সেরাজুল হক স্মৃতি পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক শফিউল হক বাবলু।

তাড়াশে পাখি শিকারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা 

তাড়াশ প্রতিনিধি ঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রির সময় দুই শিকারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গত রবিবার সকালে তাড়াশ পৌর বাজারে পাখি বিক্রিরত সময় তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের আব্দুল করিম(৪৫) ও নাজির উদ্দিন (৪৩)।
পরে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ হাসান, রাজশাহী বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সুপারভাইজার সরোয়ার হোসেন ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমান আদালত তাদের প্রতি জনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জড়িমানা করেন। এ সময় তাদের নিকট থেকে পাওয়া বক, বালিহাঁস ও রাতচরা পাখি গুলো মুক্ত করে দেয়া হয় এবং পাখি শিকার না করার শর্তে মুসলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খালিদ হাসান বলেন, পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ। পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তাড়াশ প্রেস ক্লাবে দৈনিক কলম সৈনিক পত্রিকার
সম্পাদকের মতবিনিময় 

তাড়াশ প্রতিনিধি ঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ প্রেস ক্লাবের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেছেন ইতিহাস গবেষক, দৈনিক আজকের জনবানী ও দৈনিক কলম সৈনিক পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ।অতি সম্প্রতি তাড়াশ প্রেস ক্লাব হলরুমে প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের সভাপতিত্বে ওই বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক বণিক বার্তা ও দৈনিক ডেইলি অবজারভার পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি অশোক ব্যানার্জী, তাড়াশ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম সানোয়ার হোসেন সাজু, সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সদস্য লিটন আহমেদ, মুন্নি আহমেদ প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাড়াশ প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ হুমায়ুন কবির লিমন, মোঃ শাহ্ -আলম ও মোঃ জিপরুল হোসেন।
প্রধান অতিথি মোঃ আব্দুল হামিদ প্রথমেই তাড়াশ প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কার্যকরী কমিটিকে অভিনন্দন জানান। এর পর তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, আপনারা লিখনির মাধ্যমে তাড়াশ উপজেলাকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করতে পারেন। উপজেলার গুণীজনদের সাথে মতবিনিময় করে তাড়াশের উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ত করতে পারেন। আপনারা প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সম্মান জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। এতে এগিয়ে যাবে তাড়াশ উপজেলা। সমৃদ্ধ হবে তাড়াশের সাংবাদিকতা।

শীতের শুরুতেই তাড়াশে লেপ-তোষক তৈরীর ধুম 

সাব্বির আহম্মেদ ঃ শীতের শুরুতেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হাট বাজারে লেপ-তোশক তৈরির মহা ধুম পড়েছে। লেপ তোষক তৈরির কারিগরদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কারিগরা তুলার স্তুপ করে তার উপর ধনুক (বিশেষ এক ধরনের লাঠি) দিয়ে আঘাত করে চলছেন। তুলো পুরোপুরি প্রক্রিয়াজাত করা হলে সেই তুলো ঢোকানো হয় কাপড়ের তৈরির লেপ বা তোষকের কভারে। কভার ও ভিতরের ঢোকানো তুলা ভেদ করে খস খস শব্দ তুলে চলতে থাকে সুই। সুই সুতার গাঁথুনিতে বাঁধা পড়ে যায় সেই কভারের তুলা। তৈরী হয় লেপ তোষক।
তাড়াশ পৌর বাজারে লেপ-তোষক ব্যবসায়ী আবু তাহের জানান, প্রত্যেক বছর শীতের শুরুতে ক্রেতা সাধারণ লেপ তোষকের দোকান গুলোতে ভীর জমায়, তবে শীতের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের সংখ্যাও বেড়ে যায়। এবারেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই তার ধারনা। তিনি আরও জানান, সারা বছর ব্যবসা তেমন একটা হয় না, তাই শীতের এই সময়েই পুরো বছরের ব্যবসা করতে হয়।
গুল্টা বাজারেরলেপ-তোষক ব্যবসায়ী আলাল হোসেন বলেন, শীতের শুরুতে বেচাকেনা বেড়েছে, সময়ের সাথে আরও বাড়বে বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, একটি সিঙ্গেল লেপ তৈরি করতে তুলা ও কাপড়েরর প্রকার ভেদে ৮০০-১২০০ টাকা, সেমি লেপ তৈরিতে ১২০০-১৫০০ টাকা এবং ভবল লেপ তৈরিতে ১৫০০-১৮০০ টাকার মতো খরচ হয়। তবে তোষক তৈরি ক্ষেত্রে দাম একটু বেশি পড়ে। তুলার মান, পরিমাণ, নারিকেলের ছোবরা ও কাপড়ের উপর নির্ভর করে একেকটি তোষকের ব্যয় ধরা হয়। এ বছরের আগাম শীত আমাদের সুদিন এনে দিয়েছে। আমরা ব্যস্ত সময় পার করছি।

সিংড়ায় চলনবিল ফ্রেন্ডস সোসাইটির মতবিনিময় সভা

সিংড়া প্রতিনিধি ঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলায় চলনবিল ফ্রেন্ড সোসাইটির উদ্যোগে এসএসসি ব্যাচ ১৯৯৪ বন্ধুদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২২ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় সিংড়াা উপজেলার চৌগ্রাম হাইস্কুলএন্ড কলেজে কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট সিংড়া নাটোরের অধ্যক্ষ সায়বর আলী আকন্দের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চলনবিল ফ্রেন্ড সোসাইটি ও সিংড়া প্রেসক্লাবে সভাপতি মোল্লা মোঃ এমরান আলী রানা, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার নয়ন , খালেকুজ্জামান রঞ্জু, জিয়াাউর রহমান জিয়া, এনামুল হক, বেলাল হোসেন, রেজাউল করিম রেজা পসহ আরো অনেকে। বন্ধুরা বলেন দির্ঘ ৩০বছর পর হলেও আজ এস এস সি ১৯৯৪ ব্যাচের বন্ধুদের সাথে কিছু সুন্দর মূহুর্ত কাটালাম যে সকল বন্ধুরা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকল বন্ধুদের সুস্থ সুন্দর দীর্ঘ জীবন দান করুন ।

তাড়াশের গ্রামে গ্রামে চলছে ধান কাটার পর্ব 
শাহ আলম ঃ সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। যমুনা নদীর কোল ঘেসে সিরাজগঞ্জ জেলা। এই জেলার এতিহ্যবাহী উপজেলা তাড়াশ। তাড়াশ উপজেলার চারপাশে বিস্তীর্ণ মাঠ ঘাট নদী। গ্রামগুলোতে চলছে ধান কাটার মৌসুম। সাথে চলছে খেজুর গাছ থেকে রস নামানোর প্রস্তুতি। আর কদিন পরেই নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের হরেক রকম পিঠা, গোয়ালে গরুর দুধ, খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যাবে গ্রামবাসীর ঘরে ঘরে। গ্রামের ধান ক্ষেতের পাশে গেলে মৌ মৌ গন্ধে ভরে যায় মন।
এখন গ্রামে গ্রামে কিষাণ-কৃষাণীর মুখে হাসি, ক্ষেত ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ,গোয়াল ভরা গরু। সবাই নতুন ধান ঘরে তোলার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রামের ছোট ছোট দুরন্ত ছেলেরা খেজুর গাছের ডাল দিয়ে খেলনা গাড়ি বানিয়ে গ্রামের মেঠো পথে দৌড়াদৌড়ি করছে। এখন শীতকালে গ্রামের হাটে ঘাটে তরতাজা শাকসবজি চোখে পড়ার মত। গ্রামের এই অনাবিল সুখ শান্তি উপভোগ করতে চলে আসুন গ্রামে। তাই তো গ্রামকে মায়ের আঁচলের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তাই তো কবির ভাষায়: আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশঝাড় যেন, মিলেমিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।

তাড়াশে জোড়পূর্বক মাছ ধরে নেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন 

তাড়াশ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মিথ্যা মানববন্ধন ও জোড়পূর্বক মসজিদের পুকুরের মাছ ধরে নেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা দেশীগ্রাম ইউনিয়নের জন্তিহার দক্ষিণপাড়ার জন সাধারণের পক্ষে জহুরুল ইসলাম মাষ্টার। গত বৃহস্পতিবার তাড়াশ প্রেসক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জহুরুল ইসলাম মাষ্টার বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রামে মসজিদ সংলগ্ন আগপুকুর এলাকায় আমাদের জড়িয়ে এক মিথ্যা মানববন্ধন কর্মসূচি করা হয়েছে।
আগপুকুরটি উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে সুফল ভোগীদের নামে লীজ নিয়ে মসজিদের উন্নয়ন কাজ করা হয়। কিন্তু ওই গ্রামের ওলামালীগের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ও আ’লীগ সমর্থিত আব্দুল আজিজ গংয়ের লোকজন সুফল ভোগীদের মাছ চাষ করতে না দিয়ে জোড় পূর্বক ওই পুকুর থেকে মাছ ধরে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। ওই মসজিদের মোয়াজ্জিন নূরুল ইসলামকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়া হয়। মসজিদের বৈধ কমিটি থাকা সত্বেও তারা অমান্য করে মসজিদের সম্পদ ক্ষতি করছেন। উক্ত মসজিদে আমাদের নামাজ পড়তে যেতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। এরই জের ধরে কয়েক দিন আগে রাজ্জাক ও আজিজ গং আমাদের পরিবারের উপর হামলা করে আমার বৃদ্ধ বাবা ফজলার রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারপিট করে। প্রভাবশালী হওয়ায় আজিজ ও রাজ্জাক গংয়ের লোকজন অবৈধ ভাবে আমাদের সমাজচ্যুত করে রেখেছেন। পাশাপাশি আমাদের ব্যাক্তি মালিকানাধিন পুকুরও বেদখল দিয়ে রেখেছেন। আমরা অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য আইনের আশ্রয় নিলেও তার নানা ভাবে হুমকী-ধামকী দিচ্ছেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মোয়াজিন নূরুল ইসলাম, ওর্য়াড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সাবান আলী, জুয়েল রানা প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদের উন্নয়নে আগপুকুরটি অবৈধ দখল মুক্ত, মসজিদের বৈধ কমিটি পুনঃবহাল এবং সমাজচ্যুত সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের জোড় হস্তক্ষেপ দাবী করা হয়।

নন্দীগ্রামে নবান্ন উৎসব ও মাছের মেলা 

আরাফাত হোসেন , নন্দীগ্রাম প্রতিনিধিঃ নতুন রোপা আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে পাওয়া চালের প্রথম রান্নার আয়োজিত উৎসবই নবান্ন। পঞ্জিকা অনুসারে রবিবার ২ অগ্রহায়ণ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নবান্ন উৎসব পালন করছেন। নবান্ন উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হলো হরেক রকম মাছের মেলা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বসেছে মাছের মেলা।
সরেজমিন উপজেলার ওমরপুর ও রণবাঘা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সারি সারি মাছের দোকান। সেখানে থরে থরে সাজানো রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, সিলভার কার্প, বিগহেড, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ। আর লোকজন ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন এসব মাছ। কোনো কোনো মাছ বিক্রেতা বিশালাকৃতির মাছগুলোর মাথা ওপরে তুলে ধরে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণেরও চেষ্টা করছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ এ বছর মাছের দাম অনেক বেশি।

সলঙ্গায় কোরানের ছবক প্রদান 

সলঙ্গা প্রতিনিধি :সলঙ্গা থানা মাঠ সংলগ্ন নূরানী বিজ্ঞান মাদ্রাসায় কোরানের ছবক প্রদান ও মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে।বাংলাদেশ নূরানী কোরআন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গত শুক্রবার সকাল ১০ টায় এ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন করেন মুফতি মাও: আব্দুর রউফ।এ ছাড়াও উক্ত মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ২৪ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কোরানের প্রথম ছবক প্রদান করা হয়।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,মাও: ইয়াহিয়া,মাও: আখতারুল ইসলাম,মুহতামিম মাও: রফিকুল ইসলাম,এস এম ফারুক হায়দারসহ সাংবাদিক,অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

রায়গঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর অফিস উদ্বোধন 

সাইদুল ইসলাম আবির ঃ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূঁইয়াগাতী আঞ্চলিক শাখার অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় উপজেলার ভুঁইয়াগাতী আঞ্চলিক শাখা অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূঁইয়াগাতী আঞ্চলিক শাখার সভাপতি রহুল আমিন জিহাদীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আব্দুল মতিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রায়গঞ্জ উপজেলা আমির মো: আলী মর্তুজা, সলঙ্গা থানা আমির মো: হোসাইন আলী, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুস সাত্তার, রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার নায়েবে আমির আবুল কালাম বিশ্বাস, সলঙ্গা থানা সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলাম শহীদ, ঘুড়কা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, তৎকালীন জালিম আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী খুনি শেখ হাসিনার হুকুমে লগি-বৈঠার বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে জামায়াত শিবিরের নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিলো এবং আমাদের নেতা কর্মীদের শুন্য করতে চেয়েছিলো। সে দিন ঢাকা পল্টন ট্রাজেডি সহ সাড়া দেশে প্রায় দেড় হাজার জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী ও সর্বশেষ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের বিনিময়ে আজকের এই সুন্দর দিন পেয়েছি। আগামীতে আর কোন অপশক্তি যেন এরকম তান্ডব না চালাতে পারে সেই জন্য আমাদের অতন্দ্র পহরী হিসেবে ভুমিকা পালন করতে হবে। সুন্দর এই বাংলাদেশ কে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান বক্তারা। আলোচনা শেষে ইসলামী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সুর কাফেলা ও অভিযান শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পী বৃন্দরা ইসলামিক গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার শত-শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD