গুরদাসপুর প্রতিনিধি : এক কৃষকের মেয়ের করোনা পজেটিভ হওয়ায় গোটা পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে যায় লকডাউনে। দুই বিঘা জমির পাকা ধান মাঠে পড়ে আছে তার। ওই ধানে সারাবছরের খাবার জোগান হয় পরিবারটির। প্রতিবেশি আত্মীয়স্বজনদের কাছে আকুতি জানিয়েও সহযোগিতা পায়নি তারা।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ইউএনও মো. তমাল হোসেন মঙ্গলবার গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় মাঠ থেকে ধানগুলো কেটে কৃষক আব্দুল আউয়ালের বাড়ি পৌঁছে দেন। জানা যায়, উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া এলাকায় এক নারীর করোনা পজেটিভ পাওয়া যায় গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে)। এ কারণে কৃষক পরিবারটি লকডাউন করা হয়। জমিতে পাকা ধান থাকায় বিপাকে পড়েন তারা। ধান কেটে বাড়িতে আনার জন্য প্রতিবেশি আত্মীয়দের কাছে ধরনা দিলে কেউ সহযোগিতা করেননি। খবর পেয়ে ইউএনও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের যোগাযোগ করে গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় মঙ্গলবারে ধানগুলো কেটে ওই কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দেন বলে জানা গেছে।
ইউএনওর সহযোগিতা না পেলে ধানক্ষেতে যেতে না পারায় কৃষক আউয়ালের ধানগুলো জমিতেই পড়ে থাকতো। উপজেলা প্রশাসনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ওই কৃষক।
ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, কৃষকের মেয়ের শ^শুড়বাড়ি গাইবান্ধা জেলা শহরে থাকাকালীন করোনায় আক্রান্ত হয়। গত সপ্তাহে তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। লকডাউনের কারণে পরিবারটির অসহায়ত্বে কেউ এগিয়ে আসেনি। তাই মানবিক কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির ধানকেটে কৃষকের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com