গাজী সৈয়দ শুকুর মাহমুদ
বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতি কবে কখন কীভাবে গড়ে উঠেছিল তার কোন সূত্র ইতিহাসে না থাকলেও পারসীয়রা এক সময়ে এ জাতির নামকরণের সূত্রপাত করেছিল। প্রথমে তাদের ভাষায় তারা এ জাতিকে বোঙ্গা বলে ডাকত। আর বোঙ্গাদের ভাষাকে বোঙ্গালা ভাষা নামে ভাষার নামের সূত্রপাত ঘটায়। তারপর বাঙ্গাল, বঙ্গ পরে পরিশুদ্ধ বাংলা ভাষা নামে জাতির পরিচয় গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে দক্ষিণ আরব থেকে দ্রাবিড় জাতির মানুষেরা কিছু শিলালিপি এনে তা বাংলা বর্ণমালায় প্রবর্তন করেছিল। সেসূত্রে জাতির ভাষার নামকরণ করেছে পারসীয়রা আর ভাষার বর্ণমালা উপহার দিয়েছে দ্রারিড় জাতির মানুষেরা। সেটি অবশ্য আজকের প্রসঙ্গ নয়। আসল কথা হচ্ছে বাংলার মাটি, বাঙালি জাতি আদিকাল হতেই পরাধীনতার জালে আবদ্ধ ছিল। পূর্বকাল হতেই এ জাতিকে পরদেশীরাই শাসন, শোষণ করেছে। এর মূল কারণ হচ্ছেÑ এরা প্রথমে সরল প্রাণ, সাদাসিদে ও হাবা ছিল। কাউকে ধোকা দেয়া, চালাকি, চাতুরতা বা কাউকে ঠকানো জানতো না। আবার অন্যদের চালাকি ধোকা ও নির্যাতনের প্রতিবাদও করতে পারেনি। যে কারণে ভিনদেশী শাসকেরা এ জাতির উপর দীর্ঘকাল রাজত্ব করে গেছে অবাধে। এক সময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার অধিপতি নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার শাসনে বাঙালি জাতি কিছুটা স্বাধীনতার সূর্যের আলো পেলেও পরক্ষণেই বাঙালি বিশ্বাসঘাতক বেমাঈমান মীর জাফারের চক্রান্তেÍ বাঙালি জাতিসহ পুরো ভারত উপ-মহাদেশের স্বাধীনতা অস্তমিত হয় ইংরেজ বণিকদের হাতে। এ জাতি পুনরায় পরাধিনতার শিকলে আবদ্ধ হয়ে গেল।
প্রায় দু’শ বছর ইংরেজ শাসক গোষ্ঠি শাসন শোষণ নির্যাতন করেছে। প্রথম দিকে কেউ কোন প্রতিবাদের ভাষা বা সাহস না পেলেও ধীরে ধীরে বোকা জাতির প্রতিবাদ করার সাহস গড়ে উঠে। যাদের নেতৃত্বে বারবার সংগ্রাম আন্দোলন হয়েছে তারা হলেন মওলানা আবুল কালাম আজাদ, হাজী শরিয়ত উল্লাহ, সুলতানা রাজিয়া, হাজী তিতুমীর, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মী আন্দোলন সংগ্রাম করেও সফল হতে পারেননি। ১৯৫২ সালে বাঙালি জাতির মাতৃভাষা রক্ষার্থে প্রতিবাদ করতে সালাম, রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত সহ কত নাম না জানা ভাষা সৈনিক প্রাণ দিয়েছে। পরিশেষে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতির হাজার বছরের প্রচেষ্টা আন্দোলন সংগ্রামের কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের জন্ম হয়েছিল বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য। ছাত্র জীবন থেকেই প্রতিবাদী সংগ্রাম আন্দোলন করেই যাচ্ছিলেন। তাঁর ৫৫ বছর বয়সে ৪৬৪২ দিন জেল হাজতে খেটেছেন। পাকিস্তানের জেলখানায় তাঁর কক্ষের পাশেই কবর খনন করে তাঁকে মৃত্যুর ভয় দেখানোর পরও তিনি আপস করেননি। সারা জীবন তিনি বাঙালি জাতির জন্য সংগ্রাম করেছেন।
এ বছরে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের শতবর্ষ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিব বর্ষের দিনে আমরা শপথ গ্রহণ করি, তাঁকে যেন কখনো ভুলে না যাই। তাঁর প্রচেষ্টার ফসল আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতাকে কখনই কারো ষড়যন্ত্র কিংবা চক্রান্তের কাছে নত হতে না দেই। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমকে অক্ষুন্ন রাখি।
লেখক : কথাসাহিত্যিক ও কলামিস্ট, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com