সোহাগ হোসেন, তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার প্রত্যন্ত তালম গ্রাম। এই গ্রামেই কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় চারশত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক এক শিব মন্দির।তবে এই মন্দিরকে ঘিরে যা ঘটছে, তা বর্তমান সময়ে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মন্দিরটির আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের বসবাস নেই। ফলে ঐতিহাসিক এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি যাতে বিলুপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় কিংবা চুরির মতো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারাই স্বউদ্যোগে এর সুরক্ষা ও দেখভালের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন।শুধু মন্দির রক্ষা করাই নয়; প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে এই মন্দির প্রাঙ্গণে যে ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে, সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারও হিন্দু পুণ্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা, অভ্যর্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সব ধরনের সহযোগিতা করেন গ্রামের বাসিন্দারা।এ বিষয়ে তালম গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, “মন্দিরটি আমাদের গ্রামের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি পূজা ও মেলা উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। তারা যেন নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার সম্পাদন করতে পারেন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে না পড়েন, সেজন্য আমরা গ্রামবাসী সবসময় তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকি।”
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, “চারশত বছরের প্রাচীন এই শিব মন্দিরটিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে সংরক্ষণ করার বিষয়ে এবং সার্বিক সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সহযোগিতা করা হবে।”ধর্ম যার যার, উৎসব আর ঐতিহ্য সবার-তাড়াশের তালম গ্রামের এই ভ্রাতৃত্বের নজির প্রমাণ করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই সম্প্রীতির আসল শক্তি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রাচীন এই শিব মন্দিরটি কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com