তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের একটি ঈদগাহ মাঠকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে চলে আসা বিরোধের অবসান হয়েছে। প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে জায়গা মাপঝোক ও সীমানা নির্ধারণের পর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, দেওড়া গ্রামের তাহের গং ও জাহাঙ্গীর গংদের মধ্যে ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তাহের গংয়ের দাবি ছিল, ঈদগাহ মাঠের জায়গাটি সরকারি খাস জমি। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর গং দাবি করে আসছিলেন, ওই জায়গা তাদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার মামলা-মোকদ্দমা ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
দীর্ঘদিনের এ বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরবর্তীতে উভয় পক্ষ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনের উপস্থিতিতে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে দিনব্যাপী জায়গাটি মাপঝোক করা হয়।
মাপঝোক শেষে সরকারি খাস জমির ৩১৩ নম্বর দাগ চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং সেখানে খুঁটি স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দুই পক্ষের দাবিকৃত জমির সীমানাও নির্ধারণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত দুই পক্ষের কেউ কোনো আপত্তি জানাননি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।বিএনপি নেতা সেলিম প্রধান বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। প্রশাসন ও আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সরকারি সার্ভেয়ার এবং তাদের আমিনের মাধ্যমে জায়গাটি মাপঝোক করেছি। সরকারি ৩১৩ নম্বর দাগ চিহ্নিত করে সেখানে খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির নেতা খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ৩৫ বছর ধরে মামলা-মোকদ্দমাকে কেন্দ্র করে দেওড়া গ্রামে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল। দুই পক্ষ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েও বিষয়টির সমাধান করতে পারেনি। পরে তারা আমাদের কাছে এলে প্রশাসন ও দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মাপঝোকের দিন নির্ধারণ করা হয়। বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহানসহ আমরা সেখানে উপস্থিত থেকে সরকারি ৩১৩ নম্বর দাগ নির্ধারণ করি এবং সীমানায় খুঁটি স্থাপন করা হয়। এ সময় কোনো পক্ষই আপত্তি করেনি।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, সরকারি খাস জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আমরা সেখানে গিয়ে সরকারি জায়গা চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ করেছি। একই সঙ্গে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। মাপঝোক ও সীমানা নির্ধারণের সময় কারও কোনো আপত্তি ছিল না।স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের এ বিরোধের কারণে ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি জমি চিহ্নিত ও সীমানা নির্ধারণের ফলে বিরোধটি আর দীর্ঘায়িত হবে না—এমনটাই আশা করছেন তারা।এদিকে, স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নির্ধারিত সীমানা মেনে উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি মেনে নিলে দেওড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে।#
ReplyForward
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com