গোলাম মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি:
“ চলনবিল বাংলাদেশের একটি অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এখানে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে চলনবিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেই পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হবে। ”চলনবিলে সমন্বিত ইকো-টুরি্যজম প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের পাঠিয়েছেন। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা, পরিবেশগত বিষয়, অবকাঠামোগত প্রয়োজন ও বাস্তবায়নযোগ্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।মন্ত্রী বলেন, চলনবিলকে শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সমন্বিত একটি টেকসই পর্যটন মডেল হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শামীমুজ্জামান বলেন, চলনবিলের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিস্তীর্ণ জলাভূমি, নৌভ্রমণ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিযায়ী পাখি, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনধারা পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল চলনবিলে একটি আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকল্প প্রস্তাবনা দাখিল করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের সরেজমিন পরিদর্শন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।কী রয়েছে চলনবিলে ইকো-টুরি্যজম প্রকল্পে- প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০০ একর জমিতে একটি সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ বছর। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।
ইকো-টুরি্যজম প্রকল্পে যেসব সুবিধা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে- প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে পর্যটন, আবাসন, বিনোদন, জলভিত্তিক পর্যটন, সাংস্কৃতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক ৮টি জোনে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব ইকো-রিসোর্ট ও কটেজ, আধুনিক মোটেল ও পর্যটন আবাসন, ভাসমান জেটি ও নৌ-ঘাট, জলভিত্তিক পর্যটন ও নৌবিহারের ব্যবস্থা, ওয়াটার পার্ক, বার্ড ওয়াচিং টাওয়ার, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের ফুড কোর্ট, শিশু পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশ ও সিসিটিভি ব্যবস্থা,আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সৌরশক্তির ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণ ব্যবস্থা।
শনিবার (৮ আগষ্ট) সকালে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহা সড়কের চলনবিল অধ্যূষিত ৯ নং সেতু এলাকার আশপাশের বিস্তীর্ণ চলনবিল পরিদর্শন শেষে দোবিলা-ইসলামপুর ডিগ্রি কলেজ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স ম আফছার আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান, সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের পার্সোনাল অফিসার মাহবুব আলম শেখ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান টুটুল, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এফ এম শাহালম প্রমুখ।#
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com