তাড়াশ ও সিরাজগঞ্জে নোংরা ও গ্রুপিং রাজনীতির প্রভাবে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে

Spread the love
সগুনা প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক গ্রুপিং, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন ও আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের হয়রানি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব গ্রুপ নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে। ফলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে অনেক সময় স্থানীয় বাজার, রাস্তা সংস্কার, সরকারি সহায়তা বণ্টন এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে। সাধারণ মানুষের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।তাড়াশ উপজেলার এক বাসিন্দা বলেন,“আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। কিন্তু এখন সবকিছুতেই রাজনৈতিক বিভাজন চলে এসেছে। কে কোন পক্ষের, সেটাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবছে না।”
আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন,“রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক সময় ব্যবসা পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ে। বাজারে প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ হলে সাধারণ ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তবে তা যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রতিহিংসা ও সামাজিক বিভাজনে রূপ নেয়, তখন পুরো সমাজ ক্ষতির মুখে পড়ে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই রাজনীতিকে এখন জনসেবার পরিবর্তে ক্ষমতা ও প্রভাবের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।
এদিকে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে কিছু এলাকায় উন্নয়নকাজ দ্রুত এগোলেও অন্য কিছু এলাকা অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশেও এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে অনেক সময় সামাজিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া আয়োজন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও বিভক্তির চিত্র দেখা যায়। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভেদের সংস্কৃতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কিন্তু যখন দলীয় কোন্দল ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়, তখন সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হন।
তারা আরও বলেন, তাড়াশ ও সিরাজগঞ্জের মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় কৃষি, শিক্ষা, যোগাযোগ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়নের বিপুল সুযোগ রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্রুপিং সংস্কৃতি চলতে থাকলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।
এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণ রাজনৈতিক সহনশীলতা, সুষ্ঠু নেতৃত্ব এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা— দলীয় বিভাজন নয়, জনগণের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।
সাধারণ মানুষের ভাষায়,“রাজনীতি মানুষের সেবা করার জন্য হওয়া উচিত, মানুষের কষ্ট বাড়ানোর জন্য নয়।”
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD