জাহিদ হাসান :
চলনবিল অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। বিভিন্ন এলাকার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম এবং বাড়ছে অভিভাবকদের উদ্বেগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে চলনবিলের খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গ্রামের কাঁচা রাস্তা পানির নিচে চলে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা। কিন্তু সব পরিবারের পক্ষে প্রতিদিন নৌকা ভাড়া করে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। ভেজা কাপড়, বই-খাতা নষ্ট হওয়ার ভয় এবং পানির স্রোত পার হওয়ার ঝুঁকির কারণে অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারছে না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। রাস্তা ডুবে গেছে, অনেক জায়গায় সাঁকো ভেঙে গেছে। কখন দুর্ঘটনা ঘটে সেই চিন্তায় থাকি।”
অন্যদিকে শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক স্কুলে অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা, নৌকার ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে চলনবিল অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com