এমপিওভুক্ত না হওয়ার হতাশায় শিক্ষকের আত্মহত্যা

Spread the love

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সদ্য এমপিওভুক্ত মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক গোলাম মোস্তফা (৪৪) আত্মহত্যা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের টলটলিয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাসভবনে বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন।
স্কুল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত গোলাম মোস্তফা প্রায় দেড় যুগ আগে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার পৌর মহিলা ডিগ্রী কলেজে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে চাকরি নেয়। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এক পর্যায়ে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলার আরেকটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ শিক্ষকদের সম্মানীভাতা দিতেন। দীর্ঘদিন পর গত বছর মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজকে এমপিওভুক্ত ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক শিক্ষক এমপিও ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অফিশিয়ালি মেইনটেইন করার কাজ শুরু করে শিক্ষকরা। কিন্তু গোলাম মোস্তফার বিপিএড ডিগ্রীর মূল মার্কশিট না থাকায় এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যান। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় গোলাম মোস্তফা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার বিপিএড ডিগ্রির মূল মার্কশিট আর উত্তোলন করতে পারেনি। এ কারণে বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হলেও তিনি বাদ পড়ে যান। এতে গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন গোলাম মোস্তফা। এমনকি তার স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী গোলাম মোস্তফাকে সান্তনা দিতে ব্যর্থ হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার ভোর বেলায় নিজের বাসার বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন গোলাম মোস্তফা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোলাম মোস্তফার একজন সহকর্মী জানান, বিপিএড ডিগ্রির মূল মার্কশিট যোগান দিতে না পেরে গোলাম মোস্তফার বেতন হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে তিনি মার্কশীট সময়মতো গাজীপুর গিয়ে আনতে পারেননি। এতে তিনি কয়েকদিন ধরে খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। স্কুল বন্ধ থাকলেও এমপিওভুক্ত কাজকর্ম করার জন্য সকল শিক্ষকের প্রায়ই দেখা হতো। সে সময় গোলাম মোস্তফাকে খুবই বিমর্ষ দেখা যেত।
গোলাম মোস্তফার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সহকর্মীদের অনেকের বেতন হয়ে গেছে। কিন্তু ছোট্ট একটি সমস্যায় তার বেতন হয়নি। এ কারণে কয়েকদিন খুব হতাশায় ভুগছেন। ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মাসুদ রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বারান্দার গ্রীলে গামছা পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই স্কুল শিক্ষক। তার শরীরে কোনো ক্ষতের চিহ্ন নেই। তবে নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার সময় ছোটাছুটি করার সময় দেয়ালের সঙ্গে পা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত হয়েছে। তবে লাশ ময়না তদন্তের পরে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD