স্টাফ রিপোর্টার : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসটি খুঁড়য়ে খুঁড়িয়ে চলছে প্রায় বছরখানেক যাবৎ। ফলে আশংকাজনক হারে কমছে গ্রাহক সংখ্যা। এক্সচেঞ্জের যান্ত্রিক ত্রুটি, জনবল সংকট ও কর্মরত স্টাফরা নিয়মিত অফিস না করার কারণে কাংখিত সেবা পাচ্ছে না গ্রাহক। তাড়াশের জনগুরুত্বপূর্ণ এ অফিসটি চলছে ১ জন ক্যাবল জয়েন্টার, ১ জন লাইনম্যান ও ২ জন ওয়ার্চার দিয়ে। তাও আবার তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অফিস ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ। সে ফাঁকি দেখার বা ধরার কেউ নেই এখানে। আসলে সীমাহীন দুর্নীতির পরিণামে কার্যত অচল তথা ডেড পড়ে আছে তাড়াশের সরকারী টেলিফোন। এই সেক্টরের দুর্দশার মূলত এটাই কারণ।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি আশির দশকে স্থাপিত হয়। স্থাপনের পর থেকে ১৭৫টি সংযোগ ছিল। বর্তমানে সংযোগ চালু রয়েছে ৪০টির মতো।এর মধ্যে ব্যক্তিগত রয়েছে মাত্র ২ টি, তবে সবগুলো ফোন সংযোগ বিকল অবস্থায় পড়ে আছে।এই সংখ্যাও ক্রমশ কমে যাচ্ছে। জনবল সংকট, কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস ফাঁকি,অব্যবস্থাপনা, টেলিফোন বিভাগের স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দুর্নীতি, দিনের পর দিন সংযোগ বিকল থাকা, এ সব কারণে সরকারের লাভজনক এই প্রতিষ্ঠান অলাভজনকে পরিণত হচ্ছে। ফলে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, সেবা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ। তবে বাড়ী বসে বসে দিব্যি বেতন গুনে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীগণ। এরা সবাই আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তাদের অপকর্মের খেসারত দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় খাতের এই দপ্তর। সেবার মান নীচে নামায় সরকারি টেলিফোনে আগ্রহ হারাচ্ছে মানুষ। তাছাড়া মোবাইল প্রতিযোগীতার মুখে তারা অসহায়। যেন তারা হাল ছেড়ে দিতে চলেছে হতাশা ও অদক্ষতার দরুন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেলিফোন এক্সচেঞ্জটির এলাকায় নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকার কারণে স্থানটি গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। গরু -ছাগল চড়ে বেড়াচ্ছে অবাধে। ভবনের ভিতরে ক্যাবল জয়েন্ট (চলতি) আব্দুল আজিজ বসে আছেন একাকী। তার সামনে কিছু ভাঙ্গা চেয়ার, ভাঙ্গা টেবিল ও তার উপর রাখা আছে ৩টি বিকল টেলিফোন সেট ও একটি পুরাতন ময়লায় জরাজীর্ণ রেজিষ্টার। ওয়াস রুমের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছাদের পলেস্টার ভেঙে খসে পড়ছে। ভবণের কলাপসিবল গেটটিও নড়বড়ে। রাত্রি হলেই মাদক সেবিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় নির্জন এলাকাটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে যে সংযোগগুলো এখনও চালু রয়েছে তারা প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় সকল সংযোগ বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। অবশ্য মাঝে মাঝে টেলিফোন বিল একযোগে করা হচ্ছে ঠিকই। এ ব্যাপারে তাড়াশ সদরের টেলিফোন গ্রাহক মো: আবুল কালাম বলেন, টেলিফোন লাইন বিকল হলে অভিযোগ করেও সময় মতো কাজ হয় না। তাছাড়া নির্দিষ্ট সময় বিলের কপি না পাওয়ায় জড়িমানা সহ বিল দিতে হয়। এ সব কারণে আমি আমার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেছি। দীর্ঘদিনের অপর ফোন গ্রাহক জনৈক এনজিও নির্বাহী তার পর্যবেক্ষণমূলক মন্তব্যে বলেন, “তাড়াশের টেলিফোনের লোকদের শয়তানের সাথে তুলনা করলেও কম বলা হয়”। তাড়াশ টেলিফোন এক্সচেঞ্জের চলতি দায়িত্বে থাকা ক্যাবল জয়েন্টার মো: আব্দুল আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন হল ইঞ্জিন সম্যসার কারণে লাইনে অসুবিধা হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমানে দ্রুত সার্ভিসের মোবাইল ফোন মানুষের হাতে হাতে। ফলে টেলিফোন গ্রাহক দিন দিন আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রাচীর না থাকার বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোন সাড়া নেই। জনস্বার্থে ও সরকারী স্বার্থে তাড়াশের টেলিফোন সার্ভিসের আমূল সংস্কার এবং উন্নয়ন করা জরুরী প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী মনে করেন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com