লুৎফর রহমান তাড়াশ সিরাজগঞ্জ
পুকুরে জোর করে মাছ ধরেছেন। মাছ ধরার প্রতিবাদে মসজিদ পক্ষের লোকজন মানবন্ধন করতে গেলে তাদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। যে সংঘর্ষে নারীসহ ১৮ জন আহতও হন। এরপর আহত ব্যক্তিদের পক্ষে মামলা দায়ের হওয়ার পরও মামলার প্রধান আসামী হয়েও প্রকাশ্যে ক্ষমতা জাহির করে এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন অনায়াসে। ক্ষমতার সেই বর পুত্র হলেন- সিরাজগঞ্জরে তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়ন বিএনপির দুই নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক। অবশ্য, আব্দুর রাজ্জাক এরপরও থামেননি। সংঘর্ষের মামলার প্রধান আসামী হয়ে মামলার তদবির কবতে থানায়ও গেছেন।
এ দিকে আসামী থানায় ঘুরছেন এ বিষয়টি তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান টের পেয়ে যান। এরপর তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে ওই বিএনপির নেতাকে গ্রেফতার করেন। সোমবার সন্ধ্যায় তাড়াশ থানা চত্বর থেকে ওই বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কৃত আব্দুর রাজ্জাক গাবরগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুর রাজ্জাককে সোমবার দুপুরে পুলিশ সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছেন।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭এপ্রিল) উপজেলার গারবগাড়ি জামে মসজিদ কমিটির লোকজন কর্তৃক চাষ করা পুকুর থেকে ওই ইউনিয়ন তাঁতীদলের সভাপতি মো. এনামুল হক ও বিএনপির দ্ইু নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে তাদের ১৫ থেকে ১৮ অনুসারী জোরপূর্বক প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ ধরে নেন। যা প্রতিবাদে ১৮ এপ্রিল মসজিদ কমিটির লোকজন গ্রামে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে ওই দুই নেতা বাধা দেন। যা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে নারীসহ ১৮ জন গুরুতর আহত হন। যে ঘটনায় গত ২১ এপ্রিল মসজিদ পক্ষের গ্রাম্য প্রধান মো. তোজ্জামেল হোসেন বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ মোকাম আমলী আদালতে আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল হকসহ ১০ জনকে আসামী একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামলার প্রধান আসামীই বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com