গুরুদাসপুর প্রতিনিধি : জীবনযুদ্ধে অসহায় এক নারীর নাম খইমন বেওয়া (৬৮)। ঝাঁজরে ফুটা খইয়ের মত উচ্ছল হতে পারতো তার জীবন। কিন্তু নিয়তি তার ভাগ্যকে নিয়ে খেলেছে নিঠুর খেলা। বিয়ের পর থেকেই চনমনে খইমনের জীবনে আসে ছন্দপতন। এক মেয়ে জন্ম নেয়ার পরই স্বামীর সোহাগ-ভালবাসা তার কপাল থেকে মুছে গেছে। নিরুদ্দেশ স্বামীর খোঁজ আজও পায়নি। সংসারের হাল তাকে নিজ কবজিতে বেঁধে নিতে হয়েছে।
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার এক বস্তিবাড়িতে খইমন থাকে মেয়ে জামাই ও দুই নাতিকে নিয়ে। চাঁচকৈড় বাজারের আরিফ শাহর জুতা স্যান্ডেলের দোকানের সামনে বসে বাদাম বিক্রি করে খইমন। তাকে নিয়ে লেখার প্রয়াস ছিল আগে থেকেই। সম্প্রতি খাতাকলম নিয়ে তার কাছে বসতেই বললেন- “ভাইরে কী আর করি। জীবন চলেনা। সমস্ত শরীরে বিষব্যথা। দেহ দিনদিন ভারী হয়ে যাচ্ছে। মানুষের সাহায্যে আর কতদিন চলবো। মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু জামাই বাবাজী ভালোনা। নেশা ভাং খায়। স্বামী দেশান্তরি হওয়ার পর মেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারিনি। কোনোমতে টেংরিবাজি করে সংসার চালাচ্ছি।”
প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় কেজি বাদম বিক্রি করেন খইমন। যেদিন সব বাদাম বিক্রি হয়না, সেদিন পলিথিনের মিনিব্যাগে ভরে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করেন। বাজারের অনেকেই দয়াপরবশ হয়ে বাদাম কিনে তার পুশিং সেলে সহায়তা করে। এভাবে বাদাম বেচেই পাঁচ সদস্যের সংসার চালায় খইমন। ছেলে সন্তানের বাসনা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। মেয়ের দুই ছেলেকে নিয়ে তার যত স্বপ্ন। খইমনের বড় নাতি মো. আকাশ পড়ে সপ্তম শ্রেণীতে আর ছোট নাতি মো. অনিক দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। সম্প্রতি বয়স্কভাতার কার্ড পেলেও সেই ভাতা আর বাদাম বিক্রির টাকায় সংসার চলেনা। তারওপর নিজের চিকিৎসা চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
কথা বলতে বলতে হাটুর ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠা খইমন জীবন বাঁচাতে জীবনকে টেনে নিয়ে বেড়ান। খইমনের সাথে কথা বলার সময় সাথে ছিলেন কলামিস্ট ও কবি জালাল উদ্দিন শুক্তি। শুক্তি বললেন- এতো কষ্টের পরও খইমনের মুখে খই ফুটা হাসি যেন লেগেই থাকে। এ কথা বলতেই হা হা করে হেসে দিল খইমন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com