জাহিদ হাসান:
পুরনো কমিটি বাতিলের পর নতুন কমিটি গঠনের অভিযোগ, অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষার দাবি জাহিদ হাসান প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চরকুশাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২-এর ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি গঠন সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি বাতিল ঘোষণা এবং পরবর্তীতে ৮ আগস্ট অভিভাবকদের যথাযথ অংশগ্রহণ ছাড়াই নতুন কমিটি গঠন হয়।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের উপস্থিতি ও সম্মতির ভিত্তিতে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গঠনের পর হঠাৎ করে সেটি বাতিল ঘোষণা করা হলে বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের দাবি, আগের কমিটি অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের সম্মতির ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল। সেখানে কোনো অনিয়ম বা সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লতিব কারও ইন্ধনে আগের ম্যানেজিং কমিটি বাতিল ঘোষণা করেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এদিকে ৮ আগস্ট একই বিদ্যালয়ে পুনরায় ম্যানেজিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, নতুন কমিটি গঠনের সময় অধিকাংশ অভিভাবককে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি এবং তাদের মতামত বা অংশগ্রহণ ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছা, প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিবর্তে স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় অভিভাবকদের প্রশ্ন, ৬ আগস্ট গঠিত কমিটি যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কেন বাতিল করা হলো? আর যদি আগের কমিটিতে কোনো নিয়মগত সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সেই সমস্যার কারণ কী এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে কমিটি বাতিল করা হয়েছে—তা অভিভাবকদের কাছে পরিষ্কার করা দরকার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে যদি এ ধরনের অনিয়ম বা একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ ওঠে, তাহলে এর প্রভাব বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর পড়তে পারে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, ৬ আগস্টের কমিটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল, কেন তা বাতিল করা হলো এবং ৮ আগস্ট নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরা হোক।
অভিভাবকদের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সবার অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ যাতে কোনো পক্ষের দ্বন্দ্ব, প্রভাব বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com