গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় আবাদযোগ্য উর্বর কৃষি জমি কেটে অবৈধ পুকুর খনন কিছুতেই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। “ ৩০ টি ভ্রাম্যমাণ অভিযান, ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়, থানায় ১০ মামলা, ৭ জনের জেল ” আইন প্রয়োগ করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ পুকুর খনন। বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে চলছে কৃষি জমি ধংস করে বে-আইনি কর্মযজ্ঞ।
এদিকে প্রতি বছরই বাড়ছে পুকুর। আশঙ্কাজনকহারে কমছে কৃষি জমি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দেওয়া তথ্যে, বিগত দেড় দশকে আবাদযোগ্য উর্বর কৃষি জমি কমেছে ১৫ হাজার বিঘারও বেশি। অপরদিকে উপজেলা মৎস্য অফিসের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছর পুকুরের সংখ্যা ছিলো ৪ হাজার ২০০। এবছর সারে ৪ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
কৃষি বিভাগ সূত্র বলছেন, সিরাজগঞ্জ জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে শস্যভান্ডার হিসাবে ক্ষ্যাত তাড়াশ উপজেলা। এক সময় সবচেয়ে বেশী খাদ্যশস্য উৎপাদন হত তাড়াশে। কিন্তু অবৈধ পুকুর খননের কারণে খাদ্য উৎপাদন কমে গেছে। শুধু তাই নয় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বোরো মৌসুমের পাকা ধান নুয়ে পানিতে পড়ে আছে। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ কৃষকের।
পৌর এলাকার আসান বাড়ী গ্রামের কৃষক শাহালম প্রামানিক, আব্দুল মালেক, আবু ছাইমসহ অনেকে বলেন, কয়েকদিন আগে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জায়গা না থাকায় ধান পানিতে তলিয়ে আছে। এমনিতেই শ্রমিক সংকট। তার উপর নুয়ে পড়া ধান বেশি দাম দিয়ে কেটে নিতে হচ্ছে।কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্টা সেন গুপ্তা বলেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করা না গেলে খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে। কৃষি জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিবার্হী ম্যজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান বলেন, জোড়ালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবুও গভীর রাতে কিছু অবৈধ পুকুর খনন করা হচ্ছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com
