তাড়াশ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা…

Spread the love

লেখক: মোশাররফ হোসেন মল্লিকী , স্টাফ রিপোর্টার, সাপ্তাহিক চলনবিল বার্তা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলাম ধর্মীয় ইবাদত ও শিক্ষার অনুশীলনের আধুনিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে সাবেক সরকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি আধুনিক চিত্তাকর্ষক নিদর্শন ও উন্নত সুযোগ সুবিধার মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে মহিলা ও পুরুষদের পৃথক ওজুখানা বিশেষ করে মহিলাদের জন্য অত্যাধুনিক ল্যাট্রিন সুবিধাসহ ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থা ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরী, গবেষণা ও দীনি দাওয়াত কার্যক্রম, পবিত্র কুরআন হেফজ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশী পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজ¦যাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ব্যবস্থা রাখা আছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ মসজিদে একসাথে ৯০০ মুসুল্লীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ইসলামিক জ্ঞান ও সংস্কৃতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধের পরিচর্যা ও প্রসার করা এবং ন্যায় বিচারের প্রতি মানুষের আনুগত্য সৃষ্টি করা একটি অন্যতম উদ্দেশ্য।

এবার আসি আমাদের তাড়াশ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দু’টি কথায়। ৫৬০টি উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে ৬ষ্ঠ পয়ায়ে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রাজধানীর পাশে পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র থেকে শুভ উদ্বোধন করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ৩০ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে পূর্বাচলে অনুষ্ঠিত জাতীয় ইমাম সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের পর একে একে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এরমধ্যে রাজশাহী বিভাগের ৬টির মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে নির্মিত “তাড়াশ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র”টিও তিনি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের মসজিদুল নববীর ইমাম শায়খ ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল বুয়াইজান। উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী; মাননীয় সচিব মহোদয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক প্রমূখ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্ভোধনের পর পাবনা জেলার সাথীয়া মডেল মসজিদের সাথে সংযুক্ত হলে সাথীয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং অভিনন্দন জানান। তাড়াশ মডেল মসজিদের প্রশিক্ষণ রুমে গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মহোদয়। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক; পুলিশ সুপার; উপজেলা নির্বাহী অফিসার; অফিসার ইন-চার্জ সহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকারের সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আলেম সমাজ। এছাড়া উদ্বোধনের দিনে মহিলাদের নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা থাকার কথা শুনে এলাকার অনেক মহিলারাই সেদিন উপস্থিত হতে দেখা যায় এবং তারা অনেকেই বিভিন্ন তলা ঘুরে ঘুরে ঐসব সুবিধা দেখে নামাজ আদায়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মসজিদটি উদ্বোধনের দীর্ঘ আড়াইটি বছর পাড় হয়ে গেলেও অদ্যাবধি স্থানীয় মুসুল্লীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। সে কারণটি কেউই কিছু বলতে পারে না। জানা যায় প্রাচীর নির্মাণের জন্য বিলম্ব হয়েছে। সেই প্রাচীর নির্মাণও আজ প্রায় বছরখানেক হলো শেষ হয়েছে। আবার অনেকেই মন্তব্য করতে শোনা যায় যে, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসলেই মসজিদটি সেই সরকারের মাধ্যমে আবারো ঢাক-ঢোল বাজিয়ে উদ্বোধন করা হবে। কিন্তু এভাবে সময় অতিক্রমের ফলে মসজিদের লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক সামগ্রী এবং যাবতীয় আসবাবপত্রসমূহ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়তো থেকেই যায়। মসজিদের একজন ইমাম/খতিব, মুয়াজ্জিন, এবং দুইজন খাদেম নিয়োগের জন্য একে একে তিনদফায় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে আবেদন সংগ্রহ করা হলেও অদ্যাবধি তাদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
মসজিদটি প্রথমে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপন করার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে গেলেও মসজিদের ভিত্তি স্থাপনের মাত্র কয়েকদিন পূর্বে তাড়াশ-রায়গঞ্জের জাতীয় সংসদ সদস্য ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন সেটা বুঝতে পেরে তিনি দ্বিমত প্রকাশ করেন এবং তড়িঘরি করে মসজিদের জায়গা নির্ধারণ করেন তাড়াশ মার্কাস জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে। অতি দ্রুত তিনি প্রশাসনিক পর্যায়ে ফাইল চলাচল করে তাড়াশ মার্কাস মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থান নির্ধারণ করেন এবং মসজিদ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেন। তাড়াশ মার্কাস মসজিদে স্থান সংকুলান হলে মসজিদের মূল ভবনটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। এরপর থেকে আজ প্রায় পাঁচ বছর হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় এবং বাজারের সকল মুসুল্লীরা অতিকষ্টের মাধ্যমে তাড়াশ মার্কাস মসজিদের অতিরিক্ত ভবনে নামাজ আদায় করে আসছেন। প্রতি শুক্রবার জুমার দিনে দুইতলার ছাদেও নামাজ আদায় করা হয়। তাড়াশ মার্কাস মসজিদের কলেবর বৃদ্ধি না করা হলেও দিন দিন মুসুল্লী বাড়তেই থাকে। প্রয়োজনের তাগিদে মসজিদটি পরিচালনার ব্যয়ভারও বাড়তে থাকে। খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের সম্মানী এবং যাবতীয় ব্যয়বাবদ প্রতিমাসে ৭০-৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে তাড়াশ মার্কাস মসজিদের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি না থাকায় মুসুল্লীদের কাছ থেকে হাতচাদা তুলে এসব ব্যয়ভার বহন করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলে পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে জানা যায়। আজ উদ্বোধন করা হবে, কাল উদ্বোধন করা হবে বলে বলে সরকারি/বেসরকারি কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্পও তাড়াশ মার্কাস মসজিদে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
অতি সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এমতাবস্থায় অতি দ্রুত বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতঃ তাড়াশ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থানীয় ও বাজারের মুসুল্লীদের জন্য উন্মুক্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহবান রইলো।

 

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD