একজন মাত্র আলেমের কাছে ভারতবর্ষের আশি কোটি মুসলমান চিরঋণী…!
পীরজাদা মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহমোগল সম্রাট হুমায়ুনের ইন্তেকালের পর, বালক বয়সে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়া আকবর ক্ষমতার মোহে পড়েছিলেন এক মারাত্মক ধর্মীয় বিপর্যয়ের পথে। বুদ্ধিজীবীদের ভুল পরামর্শে তিনি ইসলাম ত্যাগ করে ‘দ্বীনে ইলাহী’ নামে এক বিকৃত মতবাদ চালু করেন—যার লক্ষ্য ছিল ভারতবর্ষ থেকে ইসলামকে মুছে ফেলা।
কিন্তু ইতিহাস ভুলে যায়নি, তখন সিরহিন্দের একটি নিভৃত খানকাহ থেকে গর্জে উঠেছিলেন এক তরুণ আলেম—
তিনি হলেন হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রাহ.)!
অগ্নিঝরা কণ্ঠে তিনি ঘোষণা করেন:
❝ইসলামের বাইরে আর কোনো ধর্ম দিল্লির সিংহাসনে চলবে না!❞
আকবর তার বিকৃত মতবাদ কেবল ১৭ জন অনুসারী নিয়েই দুনিয়া ছেড়ে যান। এরপর তাঁর পুত্র জাহাঙ্গীর সিংহাসনে বসে পিতার নীতি বহাল রাখলে আবারও জেগে উঠলেন এই একক সাহসী আলেম—হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রাহ.)।
জাহাঙ্গীর তাঁকে ‘রাজবিদ্রোহী’ ঘোষিত করে কারাবন্দী করলে সারা ভারতবর্ষ তেতে উঠে! এমনকি বাদশাহর মন্ত্রিসভাও বিদ্রোহ করে বসে। কয়েক দিনের মধ্যেই হযরতকে রাজসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় বাদশাহ। এমনকি জাহাঙ্গীর নিজেই ক্ষমতাচ্যুত হন, পরে হযরতের নির্দেশে তাঁকে মুক্ত করে ফের সিংহাসনে বসানো হয়।
এরপর হযরতকে প্রধান ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন জাহাঙ্গীর। হযরতের পরামর্শে ‘দ্বীনে ইলাহী’ বাতিলসহ সকল কুফরি আইন রদ করে নতুনভাবে গোটা সাম্রাজ্যকে ইসলামী আদলে ঢেলে সাজানো হয়!
একবার নূরজাহান দুর্ঘটনাবশত এক উন্মাদ হিন্দুকে গুলি করে হত্যা করলে, ইসলামী আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। স্তম্ভিত নূরজাহান বাদশাহর কাছে কাতর মিনতি করেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর বললেন:
❝নুরজাহান, আল্লাহর শরিয়ায় ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা বলে কিছু নেই। বিচার হবে কেবল ইনসাফের ভিত্তিতে!❞
অবশেষে নিহত হিন্দুর আত্মীয়রা ইসলামের এই অনন্য ইনসাফ দেখে নূরজাহানকে ক্ষমা করে দেয়। নূরজাহানও তাঁদের যথেষ্ট অর্থ-সম্পদ দিয়ে বিদায় করেন।
জাহাঙ্গীর তাঁর প্রজাদের প্রতি ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সিংহাসনের পাশে একটি ‘ন্যায়ের শিকল’ ঝুলিয়ে দেন—যাতে কেউ অবিচার পেলে সরাসরি বাদশাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
এভাবে হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রাহ.)-এর হাতে ভারতবর্ষে ইসলামী শাসন ফিরে আসে। তাঁরই প্রভাবেই শাহজাহান, আওরঙ্গজেব আলমগীর (রাহ.) হয়ে বাহাদুর শাহ জাফর পর্যন্ত মোগল সম্রাটগণ ইসলামী নীতিতে পরিচালিত হন।
ইতিহাসবিদ মাওলানা আকরাম খাঁ লেখেন—
❝যদি আলফেসানী (রাহ.) সেই দিন দৃঢ় অবস্থান না নিতেন, তাহলে আজ ভারতবর্ষে ইসলামের কোনো চিহ্ন থাকতো না! আমরাও হয়তো মুসলমান পরিচয় দিতে পারতাম না!❞
আমাদের আজকের মুসলিম পরিচয়ের পেছনে যার ঋণ অগণন—
তিনি হলেন যুগশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ—
হযরত আহমাদ মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রাহ.)।
আমার পিতার শ্রদ্ধেয় শায়েখ, হযরত আমিনী (রাহ.) প্রায়ই বলতেন—
❝ভারতবর্ষের মুসলমানরা তাদের চামড়া দিয়ে জুতা বানালেও আলফেসানীর (রাহ.) ঋণ শোধ করতে পারবে না!❞
আজ আলেমের অভাব নেই, কিন্তু…
আহমাদ আলফেসানীর মতো আল্লাহভীরু, বিপ্লবী, সাহসী, হককথা বলার মতো আলেম কোথায়?
ইতিহাস একবার এমন একজন আলেমের হাত ধরে বদলে গিয়েছিলো একটি গোটা সাম্রাজ্য—
আজ কি আমরা আবার এমন কোনো আলেমের অপেক্ষায় আছি…?
শেয়ার করুন ইতিহাসের এই বিস্ময়কর সত্যকে!
জেনে নিন, আমরা কাদের উত্তরসুরী…
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com