জাহাঙ্গীর আলম, পাবনা : তেলে ভাজা মজাদার সুস্বাদু পেঁয়াজুর বড়া তৈরি করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মো. আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ব্যবসায়ী। পেশায় রন্ধন শিল্পী (বাবুর্চি) হলেও এখন তাকে সবাই বড়া কুদ্দুস নামেই ডেকে থাকেন।ব্যতিক্রমী মুখরোচক পেঁয়াজুর বড়া বিক্রি করে মাসে আয় করছেন অর্ধলাখ টাকা।
পাবনা জেলা সদরের শেষ প্রান্ত ভাড়ারা ইউনিয়নের বকসিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস। পেশায় রন্ধন শিল্পী হলেও এখন সে পেশা বদলে পেঁয়াজুর বড়া তৈরি করে বিক্রি করছেন। তার এ সুস্বাদু পেঁয়াজুর বড়া খেতে প্রতিদিন দোকানে ভিড় করছেন শতশত ক্রেতা। এ দোকানের পেঁয়াজুর বড়া এতটাই সুস্বাদু যে, শুধু বকশিপুর না পাবনাসহ আশপাশের জেলা থেকেও আসেন ভোজন রশিক মানুষরা। অনেকেই আবার বড়া না খেতে পেরে বুক ভরা কষ্ট নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। পেঁয়াজুর বড়া খেতে হলে আগে থেকে চাচার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে অথবা দোকানে সশরীরে গিয়ে অর্ডার দিতে হয়। আব্দুস কুদ্দুস চাচা যদি অর্ডার গ্রহণ করেন তবেই খেতে পারবেন তার হাতে তৈরি সুস্বাদু পেঁয়াজুর বড়া। প্রায় ২০ বছর ধরে পাবনা সদর উপজেলার বকশিপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতেই পেঁয়াজুর বড়া বানিয়ে আসছেন আব্দুল কুদ্দুস। নিজেই প্রতিদিন প্রায় দুই মণ পেঁয়াজের পেঁয়াজুর বড়া ভেজে থাকেন।তার এ কাজের সহযোগী হিসেবে ছয়জন সাপ্তাহিক বেতনে কর্মরত আছেন। দেশীয় মসলার সঙ্গে অ্যাঙ্কার ডাল, দেশি পেঁয়াজ, মরিচ দিয়ে তৈরি হয় আব্দুল কুদ্দুসের এ স্পেশাল পেঁয়াজুর বড়া। পরম যত্নে পেঁয়াজুর বড়া তৈরির পর আবার বাতাস দিয়ে ঠান্ডা করতে হয়। স্বাভাবিকভাবে বড়া তৈরিতে প্রতিদিন দুই মণ পেঁয়াজ ব্যবহার হলেও ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারসহ রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনগুলোতে এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। শুরুর প্রথমে পেঁয়াজুর কেজি ছিল ৪০ টাকা আর এখন ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন তিনি।
নিজের মনের ইচ্ছা ও সাহস নিয়েই তিনি এ পেঁয়াজুর বড়া তৈরির কাজ শুরু করেন গ্রামেই। এলাকায় নানা ধরনের অনুষ্ঠানে রান্নার কাজ শেষ করে বিকেলে বাড়িতে বড়া তৈরি করে বিক্রি করতেন। তার হাতের জাদুতে সাধারণ পেঁয়াজুর বড়া অসাধারণ স্বাদে পরিণত হয়। এ পেঁয়াজু ভাজতে তার প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কেজি সয়াবিন তেল ও ১৫ থেকে ১৬ কেজি ডালের সঙ্গে নানা ধরনের মসলা ব্যবহার হয়ে থাকে।দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে তার পেঁয়াজুর বড়া খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। এমনকি পরিবারের জন্য নিয়ে যান স্পেশাল এ পেঁয়াজুর বড়া। কুদ্দুস চাচার বড়া খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ক্রেতারা। বড়া জাদুকর কুদ্দুস চাচাকে এখন সবাই বড়া কুদ্দুস বলে এক নামে চেনেন।বড়া খেতে আসা একাধিক ভোজন রসিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ পেঁয়াজুর বড়ার খবরটা বন্ধুদের কাছ থেকে শুনে এখানে এসেছি খেতে। এত ভেতরে এ পেঁয়াজু খাওয়ার জন্য মানুষ ভিড় করছে এটা অবাক করার মতোই ঘটনা। খুবই মজাদার পেঁয়াজু নরম ও মচমচে হওয়াতে খেতে বেশ মজার।এখানে আসার আধা ঘণ্টা আগে চাচাকে ফোনকল দিয়ে বড়া খেতে আসতে হয়। আসার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। অনেক সুস্বাদু চাচার হাতের বড়া। শহর থেকে এখানে এসেছি বন্ধু-বন্ধব মিলে। এ বড়া স্বাদের কারণে বারবার আসতে হবে এখানে। খুবই বিখ্যাত এ পেঁয়াজুর বড়া। শহর থেকে বড়া খেতে আসা সরোয়ার খান বলেন, জেলা শহর থেকে পরিবার নিয়ে এসেছি এ অজ পাড়াগাঁয়ে পেঁয়াজের বড়া খেতে। এত সুনাম শুনে না এসে পারলাম না। এক কেজি ওজন করে নিয়ে সবাই মিলে খেলাম। সত্যই অনেক মজাদার সুস্বাদু বড়া এটা। বাড়িতে এ মজাটা পাই না।জেলার বাইর থেকে আসা হাসান মাহামুদ বলেন, সরকারি চাকরি করি। যখনই পাবনাতে আসি বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে চাচার বড়া খাওয়ার জন্য চলে আসি। চাচার এখানে বহুবার এসেছি। যখন নাম-ডাক হয়নি তখন থেকে আমি তার বড়ার ফ্যান। বড়ার জাদুকর বলা যায় তাকে। বড়া খেতে আসা গৃহিণী ইশরাত জাহান বলেন, বাড়িতে নিজেরা অনেক ধরনের বড়া তৈরি করে খেয়ে থাকি। তবে চাচার বড়ার গল্প এখন জেলার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। তাই পরিবার নিয়ে খেতে এসেছি। ভিন্ন স্বাদের মজার বড়া তৈরি করেন তিনি। এ বড়া খেতে হলে কাচা লংকা দিয়ে খেতে হয়। পেঁয়াজের ঝাল না থাকলেও কাঁচা মরিচের সঙ্গে পেঁয়াজুর বড়া অন্য রকম মজার। বড়ার জাদুকর উদ্যোক্তা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ২০ বছর ধরে এ বড়া তৈরি করছেন তিনি। জেলার বাইর থেকে বা দূরদূরান্ত থেকে এখানে মানুষ আসেন বড়া খেতে। আমার এখানে ভাজা বড়া থাকে না। এখানে এসে বড়া ভেজে খেতে হবে। প্রতিদিন এক মণ পেঁয়াজের টার্গেট থাকে আর ছুটির দিনগুলোতে এর দ্বিগুণ মাল লাগে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ পেঁয়াজুর বড়া বিক্রি করি। মানুষ আমাকে এখন বড়া কুদ্দুস বলে ডেকে থাকে।
এ খাবারে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করি না। এ বড়া খেলে পেটে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বড়া বিক্রি করি। এলাকায় যেকোনো মানুষকে বললেই হবে আমি বড়া কুদ্দুসের বাড়িতে যাবো, নিয়ে আসবে আপনাদের। মাসে যা আয় করছি পরিবার নিয়ে বেশ ভালোই আছি।২০০৫ সালের দিকে এক হাজার টাকা মূলধন নিয়ে এ অজ পাড়াগাঁয়ে নিজ বাড়ির আঙিনায় ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে কুদ্দুস চাচার বড়ার দোকান ঘর। কুদ্দুস চাচার এ সুস্বাদু বড়া খেতে হলে অবশ্যই যোগাযোগ করে যেতে হয় ভোজন প্রিয় মানুষদের।খড়ির চুলাতে পরম যত্নে ক্রেতাদের জন্য তৈরি করেন পেঁয়াজুর বড়া। তাইতো এখন তিনি জেলাতে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন বড়া কুদ্দুস নামে। ভালো মানের জিনিস তৈরি করলে মানুষ আসবেই সেটি কিনতে এটাই ছিল তার মূল মন্ত্র। সেই সাহস থেকেই তিনি প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে বড়া বিক্রি করে মাসে আয় করছেন অর্ধলাখ টাকা।
পাবনার চাটমোহরে মোটরসাইকেলে প্রাণ হারালেন স্কুলছাত্র
পাবনার চাটমোহরে চলন্ত মোটরসাইকেলে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে প্রাণ হারালেন স্কুলছাত্র। নিহত স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন (১৩)। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জোনাইলের চান্দাই লেদ মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।আরাফাত হোসেন উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের খৈরাশ গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের ছেলে ও স্থানীয় ডিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে নিজেদের মোটরসাইকেল চালিয়ে ভান্ডারদহ এলাকায় যাচ্ছিল স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন। পথে চান্দাই লেদ মোড় এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় স্কুলছাত্র আরাফাত।
ঘটনার ব্যাপারে চাটমোহর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কিশোরদের হাতে বাইক দেওয়ার ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com