তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর অধীনে থাকা তাড়াশ জোনাল অফিসের আওতায় গ্রাহকদের গত জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫ হাজার ৩৩০ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিদ্যুত বিলের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ টাকা।এ দিকে আসন্ন নতুন আর্থিক বছর আসার পূর্বে পুরাতন আর্থিক বছরের সকল বকেয়া বিদ্যুত বিল উত্তোলনে অনুরোধ করে উপজেলা জুড়ে মাইকিং শুরু করেছেন সংশ্লিট বিভাগ। পাশাপাশি দুই মাসের অধিক সময় বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় এক সপ্তাহে প্রায় ১৪২ জন গ্রাহকের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন তারা। সেই সাথে বকেয়া থাকা গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন, তাড়াশ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা) মো. শামসুজ্জামান।
সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর তাড়াশ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় আবাসিক, বানিজ্যিক, শিল্পসহ মোট ৬৮ হাজার ৬২৯ জন বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। আর তাড়াশ জোনাল অফিস প্রতি মাসে (বিদ্যুত ব্যবহার উপর নির্ভশীল) গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি থেকে চার কোটি টাকা বিদ্যুত বিল প্রাপ্য হন। সেই সূত্রে চলতি মাসের সাড়ে তিন কোটি থেকে চার কোটি টাকা সাথে বিগত জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত গ্রাহকদের আরো প্রায় ২ কোটি টাকার উপরে বকেয়া বিলসহ চলতি মে মাস পর্যন্ত তাড়াশ জোনাল অফিসের পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫ হাজার ৩৩০ টাকা। যার মধ্যে উপজেলা এলাকায় থাকা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ টাকা।অপরদিকে উপজেলা এলাকার একটি অংশের বকেয়া বিল বেড়ে যাওয়ায় তাড়াশ জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে বকেয়া বিদ্যুত বিল পরিশোধের তাগাদা দিয়ে মাইকিং, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এমনকি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মরতরা এলাকা ভাগ করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে যাদের বকেয়া আছে এমন বাড়ি বাড়ি বিল তোলার চেষ্টা করছেন।
আবার এতেও সাড়া না পেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ গত এক সপ্তাহে ১৪২ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। এরপরও আশানুরুপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।তাড়াশ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা) মো. শামসুজ্জামান বলেন, গ্রাহকদের সচেতনতার অভাবে তাড়াশে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। আর বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন এড়াতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে গ্রাহকদের মাসের বিল মাসেই পরিশোধ করার অনুরোধ করেন। তিনি আরো বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে গ্রাহকেরও ক্ষতি। কেননা পুনরায় সংযোগ নিতে গ্রাহককে বকেয়া বিলের সাথে আরো ৮২৮ টাকা পরিশোধ করতে হয়। তাই সকল গ্রাহকদেরকে বিদ্যুৎ বিভাগকে সহযোগিতার আহ্বান জানান এ কর্মকর্তা।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com