চলনবিলাঞ্চলে ৩৮.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বোরো আবাদে কাজ করছেনকৃষক ও কৃষি শ্রমিক

Spread the love

“আগুনের হল্কা যেন শরীর ছুয়ে গেল”

এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ বস্তুল এলাাকার কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিনে চলনবিল অঞ্চলে বৃষ্টি দেখা নেই। ভাপস্যা গরমে হ্যাপিতোষ অবস্থা বিরাজ করছে এ জনপদের সর্বত্র। বাহিরে তো নয়ই। ঘরেও গরমে টেকা দায়। আর এরই মাঝে বিলাঞ্চলের প্রধান ফসলের আবাদ আগাম জাতের বোরো ধানের আবাদ নিতে ব্যস্ত শত শত কৃষক, কৃষি শ্রমিক, কৃষানী সহ হাজার হাজার শ্রমজীবি নারী-পুরুষ। তাঁরা প্রখর রোদে তীব্র গরমে পুড়ে পুড়ে ফসলের মাঠে ধান কাটা, জমি থেকে বাড়িতে ধানের আটি আনা, মাড়াই, ধান সিদ্ধ, শুকানো, গোলায় নতুন ধান তোলাসহ নানা আনুসাঙ্গিক কাজ। মুলতঃ ৩৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করতে হচ্ছে। ফলে গরমে হাঁপিয়ে উঠছেন শ্রমজীবি মানুষেরা । সাথে সাথে কাহিল হয়ে পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, গরমে আর কুলিয়ে উঠতে পারছিনা।
এ দিকে তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বুধবার বিকালে সমকালকে জানান, গত চার দিনের গড় তাপমাত্র বিষয়ে সমকালকে জানিয়েছেন, গত বুধবার বেলা তিনটায় এ অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। পাশাপাশি এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৫৯.৮ শতাংশ। আবার একই দিন বুধবার দুপুর ১২ টায় এ অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৪০ শতাংশ। তিনি আরো জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে দুপুরের পর বেলা তিনটার দিকে গত চার দিন যাবত তাপমাত্রা বাড়ছে তুলনামুলক বেশি। পাশাপাশি দিন রাত মিলে গত সপ্তাহে প্রায় গড় তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মত তাপমাত্রা উঠা- নামা করছে।
অবশ্য, বিলাঞ্চলে চলমান তাপদাহের মাঝেই পুরোদমে এগিয়ে চলছে আগাম লাগানো কাটারী ভোগ, ব্রি- ২৯, ব্রি ২৮, ব্রি ৮৯, স্বর্ণলতা, আব্দুল গুটিসহ নানা জাতের বোরো ধান কাটা এবং মাড়াইয়ের কাজ। প্রখর রোদের মধ্যেই প্রচন্ড গরম উপেক্ষা করে কৃষিজীবি নারী- পুরুষ ধানের আবাদ নিতে কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান, তাড়াশের গুড়পিপুল এলাকার কৃষানী শেফালী সরকার। এছাড়া ফসলী মাঠে কাজ পাবনার নাকালিয়া বেড়া এলাকা থেকে কাজ করতে এসেছেন মো. ইসাহাক আলী ও সঙ্গীয় আরো ২৮ সদস্যের কৃষি শ্রমিক। আর কৃষি শ্রমিক ইসাইক আলী বলেন, বেলা ১০ টার পর যখন রোদের সাথে গরমের পরিমান বাড়ে তখন ধান কাটতে অনেক কষ্ট হয়। মনে হয় “আগুনের হল্কা যেন শরীর ছুঁয়ে গেল”। তিনি বলেন, সারা দিন কাজ শেষে রাতে ঘুমাতে গেলেও ভাল ঘুম হয়না। কারণ এ অঞ্চলে গরমের তীব্রতা অনেক বেশি
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বোরা আবাদ এ এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান আবাদ। আর আবাদের ভরা মৌসুমে চলমান তাপদাহের কারণে মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। তারপরও স্বাস্থ্য বিধি মেনে অল্প অল্প করে বিশ্রাম নিয়ে তরল জাতীয় খাবার খেয়ে কাজ করতে হবে। আর ভর দুপুরে কাজ না করে সকাল ও বিকালের দিকে ভারী কাজ করার পরামর্শও দেন এ কর্মকর্তা।

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD