উল্লাপাড়ায় ব্রি ধান ১০৮ আবাদে ভালো ফলনে চমক

Spread the love
ডাঃ আমজাদ হোসেন উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ
উল্লাপাড়াঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এবারের মৌসুমে প্রথম জিরা টাইপের জাত ব্রি ধান ১০৮ আবাদ হয়েছে। এক কৃষকের আবাদ করা নতুন জাতের ব্রি ধান ১০৮ এলাকার অন্য কৃষকেরা দেখছেন। আগামী মৌসুমে এর আবাদ করবেন এমন আগ্রহ অনেক কৃষক দেখাচ্ছেন। উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের নাইমুড়ি , সাতটিকরী ও রুয়াপাড়া এলাকায় মাঠে কয়েকজন কৃষক জিরা জাতের এ ধান আবাদ করেছেন।এর মধ্যে নাইমুড়ি গ্রামের জালাল উদ্দীন প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে ব্রি ধান ১০৮ জাতের নতুন ধান আবাদ করেছেন। এর ফলন বিঘা প্রতি ৩০ মণ হারে পেয়েছেন কৃষক আঃ আলীম। অন্য কৃষকেরাও এর আবাদে ভালো ফলনে চমক লাগবে বলে আশা করছেন এবারের চলমান বোরো ( ইরি ) ধান মৌসুমে গোটা উপজেলার মধ্যে সলঙ্গা ইউনিয়নের নাইমুড়ি , রুয়াপাড়া , সাতটিকরী এলাকায় মাঠে প্রথমবারের মতো ব্রি ধান ১০৮ আবাদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে , এবারের মৌসুমে প্রায় ২৫ হেক্টর পরিমাণ জমিতে নতুন এ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে।
সলঙ্গা ইউনিয়নের নাইমুড়ি গ্রামের মো. জালাল উদ্দীন এলাকার তিনটি আবাদী মাঠে নিজের প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে ব্রি ধান ১০৮ আবাদ করেছেন বলে তিনি জানান। নাইমুড়ি মাদরাসার পাশে তার কয়েক বিঘা জমিতে নতুন এ জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ধান ছড়ায় পুরো জমি ভরপুর হয়ে গেছে বলা চলে।এরই মধ্যে ছড়ার পচাশি থেকে নব্বই ভাগ ধান পেকে গেছে। সাতটিকরী এলাকায় বিঘা সাতেক জমিতে আবাদ করা ব্রি ধান ১০৮ এর ছড়া পুরোপুরি বেরিয়ে এখন পাক ধরেছে। একই মাঠে কৃষক সামাদ তালুকদার নিজ জমিতে আবাদ করা ব্রি ধান ১০৮ বুধবার কেটেছেন। রুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আঃ আলীম এবারে সলঙ্গা বাজার থেকে ব্রি ধান ১০৮ এর ধান বীজ কিনে বীজতলা করেন। সে চারায় প্রায় এক বিঘা জমিতে আবাদ করেছিলেন।
গত দিন তিনেক আগে সে ধান কেটেছেন। তিনি বলেন বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ মণ হারে ফলন হয়েছে। সলঙ্গা বাজার থেকে তিনি ধান বীজ কিনে বীজতলা করেছিলেন। উপজেলার নাইমুড়ি , সাতটিকরী এলাকায় আবাদী মাঠে ব্রি ধান ১০৮ আবাদ করা জমিতে গিয়ে দেখা গেছে আশপাশের অনেক কৃষক বেশ আগ্রহ নিয়ে এ ধান দেখছেন। আগামী মৌসুমে এর আবাদ করবেন এমন কথা বলেছেন।নাইমুড়ি মাঠে প্রতিবেদকের সাথে কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান সব মাঠেই নতুন জাতের এ ধান দেখে তারা মনে আগ্রহ ইচ্ছে করছেন আগামী মৌসুমে এর আবাদ করবেন। নাইমুড়ি গ্রামের কৃষক নিদান উদ্দীন শেখ আগামী মৌসুমে ব্রি ধান ১০৮ আবাদ করবেন বলে জানান।সাতটিকরী এলাকায় মাঠে প্রতিবেদকের সাথে দুজন কৃষকসহ উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল আরমানের সাথে ব্রি ধান ১০৮ এর আবাদ নিয়ে কথা বলে জানা গেছে কৃষকেরা ধানের জমিতে এসে ধান ছড়া দেখছেন আর ফলনের হার জানছেন। বেশীজন কৃষক আগামী মৌসুমে এ ধান আবাদ করবেন এমন ইচ্ছে জানিয়েছেন। এরা এখনই ধান বীজ কিভাবে মিলবে এর সব জানছেন।প্রতিবেদককে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল আরমান বলেন সলঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষক আঃ বারিক , আঃ মালেক , হেলাল উদ্দিন ও আরো কয়েকজন কৃষক ব্রি ধান ১০৮ ধান আবাদ করেছেন।
এরা নিজেরা বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান বীজ কিনে নিজস্ব বীজতলা করেছিলেন। বীজতলার সে চারা জমিতে লাগান। সলঙ্গা ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশী পরিমাণ জমিতে ব্রি ধান ১০৮ আবাদকারী নাইমুড়ির জালাল উদ্দীন বলেন বগুড়া থেকে ধান বীজ কিনে এর বীজতলা করেছিলেন।সে বীজতলার চারা জমিতে লাগিয়েছেন। তিনি নিজ আবাদের এ ধানের বীজ সংরক্ষণ করে রাখবেন বলে জানান। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল আরমান আরো বলেন এবারে নতুন এ জাতের ধান আবাদকারী কৃষকদের সবাই আগামী মৌসুমে আবাদের এর বীজ ধান সংরক্ষণ করে রাখবেন বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো . শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন এবারের মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ১ (এক) হাজার ৩৭৪ মেট্রিক টন বোরো ধান ও ৩ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন চাউল ক্রয় সংগ্রহ করা হবে।প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা ও প্রতি কেজি চাউল ৪৯ টাকা দর বেধে দেওয়া হয়েছে। এক জন কৃষক সরকারী খাদ্য গুদামে তিন মেট্রিক টন ধান বেচতে পারবেন বলে জানানো হয়। উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আবু তোরাব জানিয়েছেন এবারে কৃষক অ্যাপস এর মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান ক্রয় সংগ্রহ করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন ব্রি ধান ১০৮ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আবিষ্কার করা সর্বাধুনিক জাতের একটি ধান। অন্য কয়েক জাতের ধানের চেয়ে ব্রি ধান ১০৮ বেশ উন্নত জাত। এর চাউলের আকার চিকন। জিরা ধানের মতো। এর ভাত বেশ ঝরঝরে ও সাদা রং হয়। এ ধানের দাম বাজারে অন্য ধানের চেয়ে কিছুটা বেশী বলে খোজ নিয়ে জানা যায়।ফলন ভালো হারে মেলে। উল্লাপাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় মাঠে এবারে প্রথম প্রায় ২৫ হেক্টর পরিমাণ জমিতে ব্রি ধান ১০৮ এর আবাদ হয়েছে। এ ধান থেকে আগামী মৌসুমে আবাদে বীজ সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। তার বিভাগের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নতুন এ জাতের ধানের আবাদে কৃষকদেরকে এর সব জানিয়ে উৎসাহ ও পরামর্শ দিচ্ছেন
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD