সীরাত সিরিজ
(পর্ব – ১৩)
মদিনায় হিজরতের সূচনামুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ ।
কুরাইশরা এই বায়আত সম্পর্কে জানতে পেরে তাদের ক্রোধের অন্ত রইল না। এ পর্যায়ে তারা মুসলিমদের কষ্ট ও নির্যাতনের কোনো পন্থাই আর বাকি রাখেনি। তখন রাসূল (ﷺ) সাহাবিদের মদিনায় হিজরত করতে বলেন। ফলে সাহাবিরা কুরাইশদের দৃষ্টি এড়িয়ে গোপনে একজন-দুজন করে মক্কা থেকে মদিনায় যেতে থাকেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত মক্কায় রাসূল (ﷺ), আবু বকর রা., আলি রা. এবং কয়েকজন দুর্বল লোক ছাড়া আর কোনো মুসলমানই বাকি থাকেননি। আবু বকর রা.ও হিজরতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন; কিন্তু রাসূল (ﷺ) তাঁকে বলেন, ‘এখন থেকে যাও, যতক্ষণ-না আল্লাহ আমাকেও হিজরতের অনুমতি দিচ্ছেন।’ ফলে তিনি রাসূল (ﷺ) এর হিজরতের নির্দেশ আসার অপেক্ষা করতে থাকেন এবং এ সফরের উদ্দেশ্যে দুটি উটও প্রস্তুত করেন। এর একটি নিজের জন্য এবং অন্যটি রাসূল (ﷺ) এর জন্য।(১০২)
মদিনায় রাসূল (ﷺ) এর হিজরতকুরাইশের কাফিররা যখন সার্বিক বিষয় জানতে পারে, তখন তারা রাসূল (ﷺ) এর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ‘দারুন নাদওয়ায়'(১০৩) সমবেত হয়। দারুন নাদওয়ার সেই বৈঠকে কেউ কেউ তাঁকে বন্দি করার পরামর্শ দেয়; আর কেউ দেয় দেশান্তরের পরামর্শ। তবে তাদের চতুর লোকেরা বলে, এর কোনোটিই করা উচিত হবে না। কেননা, বন্দি করা হলে তাঁর সমর্থক ও সাথিরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেবে; আর দেশান্তর করা হলে তা হবে আমাদের জন্য একেবারেই ক্ষতিকর। কেননা, এমতাবস্থায় মক্কার আশেপাশের সকল আরব তাঁর উত্তম চরিত্র, মিষ্টি কথা এবং পবিত্র কালামের অনুরক্ত হয়ে যাবে এবং তিনি তাদের সবাইকে নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে বসবেন।(১০৪)
তখন হতভাগা আবু জাহল পরামর্শ দেয় যে, তাঁকে হত্যা করা হোক। তবে এ হত্যায় কুরাইশের সব গোত্রের একজন করে লোক অংশ নেবে, যাতে বনু আবদি মানাফ [রাসূল (ﷺ) -এর গোত্র] প্রতিশোধ নিতে না পারে। তখন উপস্থিত সবাই তার এ প্রস্তাব পছন্দ করে এবং সব গোত্র থেকে একজন করে যুবককে এ কাজের জন্য নিযুক্ত করা হয়। তাদের বলে দেওয়া হয় যে, অমুক রাতে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে আল্লাহ তাআলা রাসূল (ﷺ) কে তাদের এই ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে দেন এবং তাঁকে দ্রুত হিজরতের নির্দেশ দেন। যে রাতে বিভিন্ন গোত্রের বহু যুবক কাফিরদের হীন যড়যন্ত্র বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রাসূল (ﷺ) এর ঘরের চারদিক ঘেরাও করে, ঠিক সে রাতেই রাসূল (ﷺ) হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি আলি রা. কে বলেন, তিনি যেন তাঁর খাটে চাদরমুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকেন, যাতে কাফিররা এটা জানতে না পারে যে, তিনি ঘরে নেই।
এরপর রাসূল (ﷺ) যখন ঘর থেকে বের হন, তখন তাঁর দরজায় কাফিরদের যেন মেলা জমে। তিনি সুরা ইয়াসিন পড়তে পড়তে ঘর থেকে বের হন এবং فَأَغْيتهم فهم لا يُبْصِرُونَ (আমি তাদের চোখে পর্দা ফেলে দিয়েছি, ফলে তারা দেখতে পায় না।) এই আয়াত পর্যন্ত যখন পৌঁছান, তখন আয়াতটি কয়েকবার তিলাওয়াত করেন। ফলে আল্লাহ তাআলা কাফিরদের চোখে পর্দা ফেলে দেন। তারা আর রাসূল (ﷺ) কে দেখতে পায়নি। এরপর তিনি আবু বকর রা. এর বাড়িতে যান। আবু বকর রা. আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন এবং একজন পথপ্রদর্শকও প্রস্তুত করে রাখেন। এভাবে সিদ্দিকে আকবর রা. রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গী হন এবং তাঁরা উভয়ে বাড়ির পেছন দিকের ছোট একটি দরজা দিয়ে বেরিয়ে সাওর'(১০৫) পাহাড়ের দিকে এগিয়ে যান।
সাওর গুহায় অবস্থানএবার রাসূল (ﷺ) আবু বকর রা.-কে নিয়ে সাওর পাহাড়ের একটি গুহায় অবস্থান নেন। এদিকে কুরাইশ যুবকরা রাসূল (ﷺ) এর ঘরের বাইরে সকাল পর্যন্ত এ অপেক্ষা করে যে, রাসূল (ﷺ) কখন ঘর থেকে বেরোবেন। পরে তারা যখন জানতে পারে, রাসূল (ﷺ) এর বিছানায় আলি রা. শুয়ে আছেন, তখন বেশ অবাক হয় এবং চতুর্দিকে রাসূল (ﷺ) এর সন্ধানে নিজেদের গুপ্তচর পাঠায়। কুরাইশরা এ সময় ঘোষণা দেয়, যে রাসূল (ﷺ) কে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসতে পারবে, তাকে উপহার হিসেবে ১০০ উট দেওয়া হবে। এ ঘোষণার পর বহু লোক পুরস্কারের আশায় রাসূল (ﷺ) কে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে। এমনকি পদচিহ্নবিষয়ে অভিজ্ঞ কতেক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ) এর পায়ের চিহ্ন ধরে খুঁজতে খুঁজতে ঠিক সেই গুহার একেবারে কাছে পৌঁছে যায়। সামান্য একটু নুয়ে তাকালেই তারা রাসূল (ﷺ) কে পরিষ্কার দেখতে পেত। এ সময় আবু বকর রা. বিচলিত হয়ে পড়েন। রাসূল (ﷺ) তাঁকে বলেন, ‘ভয় পেয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।’
আল্লাহর কী মহিমা। কা/ফিরদের দৃষ্টি তখন গুহা থেকে অন্যদিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং কেউ এতটুকুও ঝুঁকে তাকায়নি; বরং তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধূর্ত ব্যক্তি উমাইয়া ইবনু খালফ বলে ওঠে, ‘এখানে তাঁর থাকাটা অসম্ভব।’ কেননা, আল্লাহর নির্দেশে তখন গৃহার প্রবেশপথে মাকড়সা রাতারাতি জাল বুনে রেখেছিল এবং বন্য কবুতর'(১০৬) কোথা থেকে গুহার ঠিক প্রবেশ পথে বাসা তৈরি করে ফেলেছিল!রাসূল (ﷺ) ও আবু বকর রা. এ গুহায় একটানা তিন রাত আত্মগোপন করে থাকেন। একপর্যায়ে অন্বেষণকারীরা নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।
এই তিন দিনই রাতের অন্ধকারে আবু বকর রা. এর ছেলে আবদুল্লাহ রা. গোপনে তাঁদের কাছে যেতেন এবং ভোর হওয়ার আগেই আবার মক্কায় ফিরে আসতেন। দিনভর কুরাইশদের সংবাদ সংগ্রহ করে রাতে রাসূল (ﷺ) এর কাছে তা বর্ণনা করতেন। অপরদিকে তাঁর বোন আসমা বিনতু আবু বকর প্রতিরাতে তাঁদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতেন। যেহেতু আরবের লোকেরা পদচিহ্ন সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখত, তাই পদচিহ্নগুলো যেন মুছে যায়, এই উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ রা. তাঁর গোলামকে বলে রেখেছিলেন, সে যেন প্রতিদিন বকরি চরাতে চরাতে গুহা পর্যন্ত নিয়ে যায়, যেন তাদের পায়ের চিহ্ন মুছে যায়।
সাওর গুহা থেকে মদিনার পথেসাওর গুহায় অবস্থানের তৃতীয় দিন ৪ রবিউল আউয়াল(১০৭) সোমবার আবু বকর রা.- এর আজাদকৃত গোলাম আমির ইবনু ফুহায়রা রা. সেই উট দুটি নিয়ে উপস্থিত হন, যেগুলোকে এই সফরের জন্যই তিনি প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনু উরাইকিতও গিয়ে উপস্থিত হন, যাঁকে তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পথ দেখাতে সঙ্গে নিয়েছিলেন। রাসূল (ﷺ) এক উটে আর আবু বকর রা. অন্যটিতে আরোহণ করেন। আবু বকর রা. খিদমতের জন্য আমির ইবনু ফুহায়রাকেও নিজের পাশে বসান আর আবদুল্লাহ ইবনু উরাইকিত রাস্তা দেখিয়ে দিতে আগে আগে চলেন।(১০৮)
সুরাকার উপস্থিতি ও তার ঘোড়া মাটিতে দেবে যাওয়ারাসূল (ﷺ) মদিনার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, এমন সময় কুরাইশ কাফিরদের দূত সুরাকা ইবনু মালিক রাসূল (ﷺ) কে খুঁজে ফিরছিল। এক পর্যায়ে সে রাসূল (ﷺ) এর সন্ধান পেয়ে তাঁর পিছু নেয়। এমনকি তাঁর একেবারে কাছে পৌঁছে যায়। এভাবে সুরাকা যখন রাসূল (ﷺ) এর একেবারে নাগালে চলে আসে, তখন তার ঘোড়াটি হোঁচট খায়। ফলে সে ঘোড়া থেকে পড়ে যায়। পুনরায় ঘোড়ায় চড়ে রাসূল (ﷺ) এর পেছনে ধাওয়া করে এবং এত কাছে চলে আসে যে, রাসূল (ﷺ) এর কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ সে শুনতে পাচ্ছিল। এ সময় আবু বকর রা. বার বার পেছনে তাকিয়ে তার গতিবিধি লক্ষ করছিলেন; কিন্তু রাসূল (ﷺ) তাঁর দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেন না। যখন সে একেবারে কাছে এসে পড়ে, তখন মরুভূমির শুষ্ক ও শক্ত মাটিতে তার ঘোড়ার চারটি পা হাঁটু পর্যন্ত দেবে যায়। ফলে সুরাকা আবারও ঘোড়া থেকে মাটিতে ছিটকে পড়ে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করেও ঘোড়াটিকে বের করতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে বাধ্য হয়ে রাসূল (ﷺ) এর কাছে সাহায্য চাইলে রাসূল (ﷺ) থেমে যান এবং তাঁর বরকতে ঘোড়াটি মাটির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে।(১০৯)
ঘোড়াটির পা জমিন থেকে বের হলে তার পায়ের জায়গা থেকে এক ধরনের ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। এটা দেখে সুরাকা আরও বেশি ভয় পেয়ে যায় এবং অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তার সব পাথেয় রাসূল (ﷺ) এর খিদমতে পেশ করে। রাসূল (ﷺ) এসব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘যেহেতু তুমি ইসলাম গ্রহণ করোনি, তাই আমি তোমার কিছু নিতে পারি না। তবে তুমি আমাদের অবস্থান সম্পর্কে কাউকে কিছু বলবে না। ব্যস, এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।’ সুরাকা সেখান থেকে ফিরে আসে এবং যে পর্যন্ত রাসূল (ﷺ) এর ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, ততক্ষণ সে কারও কাছে এ ঘটনা বলেনি।(১১০)
সুরাকার মুখে রাসূল (ﷺ) এর নবুওয়াতের স্বীকারোক্তিকিছুদিন যাওয়ার পর সুরাকা ইবনু মালিক(১১১) ঘটনাটি আবু জাহলের কাছে বলেন। তখন তিনি কিছু কবিতা-পঙ্ক্তিও আবৃত্তি করেন।(১১২) সেই কবিতাসমূহের ভাবার্থ হচ্ছে, ‘হে আবুল হিকাম, (১১৩) লাত দেবতার শপথ করে বলছি, তুমি যদি আমার ঘোড়াটির পা হাঁটু পর্যন্ত জমিনে দেবে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে, তাহলে বুঝতে পারতে এবং এ ব্যাপারে তোমার কোনো সন্দেহ থাকত না যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল। সুতরাং এমন কে আছে, যে তাঁর সমকক্ষ হতে পারে? কাজেই আমার মত হচ্ছে, তোমার জন্য উচিত হবে, তুমি নিজে তাঁর বিরোধিতা থেকে বিরত থাকবে এবং লোকদেরও বিরত রাখবে। কেননা, আমি দেখতে পাচ্ছি, একদিন তাঁর বিজয়ের নিদর্শনসমূহ ফুটে উঠবে। তখন সকল মানুষই এই কামনা করবে যে, আমরা যদি তাঁর সঙ্গে সন্ধি করে নিতাম, তাহলে কতই-না ভালো হতো!'(১১৪)
টীকা:
(১০২) সিরাতে মুগলতাই : ৩১।
(১০৩) ‘দারুন নাদওয়া’ হচ্ছে কুরাইশদের পরামর্শঘর। এখানে বসেই কুরাইশ কাফিররা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিকল্পনা করত। আব্বাসি খিলাফতকালে ২৮৪ হিজরিতে মসজিদে হারাম সম্প্রসারণের সময় দারুন নাদওয়াকেও মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুবাদক।
(১০৪) সিরাতে মুগলতাই।
(১০৫) সাওর মক্কার নিকটবর্তী একটি পাহাড়।
(১০৬) সুহায়েল রা. বলেন, হারাম শরিফে কবুতরের এ ধারা এখান থেকেই শুরু হয়। সিরাতে মুগলতাই।।
(১০৭) হিজরতের এ ঘটনা, হারাম শরিফে কবুতরের এবং নবুওয়াতপ্রাপ্তির ১৩ বছর পর সংঘটিত হয়। সিরাতে মুগলতাই।
(১০৮) সিরাতে হালবিয়া।
(১০৯) সিরাতে মুগলতাই।(১১০) সিরাতে হালবিয়া: ১/৪৩৬।
(১১১) সুরাকা ইবনু মালিক অষ্টম হিজরিতে মক্কাবিজয়ের সময় মুসলমান হন। রাজিআল্লাহু আনহু।
(১১২) কবিতার এই পঙ্ক্তিগুলো সিরাতে মুগলতাইয়ে ভুল ছিল। রাওজুল উনফ গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ৬ নং পৃষ্ঠা থেকে শুদ্ধ পঙ্ক্তিগুলো নেওয়া হয়েছে। মূল কবিতা হচ্ছে,
أبا حكم والله لو كنت شاهداً ” لأمر جوادي إذ تسوخ قوائمه
علمت ولم تشكك بأن محمداً رسول وبرهان فمن ذا يقاومه؟
عليك فكف القوم عنه فإنني ” أرى أمره يوماً ستبدو معالمه
بأمر تود الناس فيه بأسرهم ” بأن جميع الناس طراً مسالمه
(১১৩) আবু জাহল হচ্ছে তার উপাধি। সমগ্র আরবে সে ‘আবুল হিকাম’ বা মহাজ্ঞানী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল; কিন্তু ইসলাম থেকে দূরে থাকার কারণে তাকে ‘আবু জাহল’ বা মহা মূর্খ উপাধি দেওয়া হয়। এক কবির কবিতায় বিষয়টি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে,
الناس كناه ابا حكم ” والله كناه ابا جهل
মানুষ তাকে ডাকত জ্ঞানী আবুল হিকাম
আল্লাহ বলেন, দীনের বিরোধিতার কারণে সে হলো আবু জাহল।
(১১৪) সিরাত মুগলতাই: ৩৫; আল-ইসাবা: ৫/৩৬।
লেখা : বই – সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া ﷺ ; পৃষ্ঠা : ৬৩-৬৭
লেখক : মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)
অনুবাদক : ইলিয়াস মশহুদ
চলবে ইনশাআল্লাহ …
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com