সাব্বির অহম্মদ,তাড়াশ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ৩ দিন ব্যাপী কারাম উৎসব শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া আদিবাসীদের প্রানের এ উৎসব চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। জানা গেছে, আদিবাসীরা কারাম উৎসব ভাদ্র মাসের পার্শ্ব একাদশীতে পালন করে থাকেন। খোলা মাঠে বা বাড়ির উঠানে কারাম গাছের ডাল পুঁতে তাতে নানা ধরণের ফুল বেঁধে দেয়া হয়। পাশাপাশি মাটির প্রদীপ বা দিয়ালী জ্বালানোর মধ্য দিয়ে তিন থেকে সাত দিনব্যাপী চলে তাঁদের এ পার্বণ। আর এতে অংশ নেন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী নারী-পুরুষ।
কারাম উপন্যাসের লেখক আদিবাসী গবেষক আটঘরিয়া গ্রামের উজ্জল মাহাতো বলেন, সাধারণত সমতলের আদিবাসীরা নানা প্রথা ও ধর্মীয় আচরণের মাধ্যমে কারাম উৎসব পালন করে থাকেন। সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহাতো, বড়াইক, কুর্মি, সিং, পাহান, মাহালিসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতিতে কারাম উৎসব পালন করে থাকেন। এর মধ্যে কারাম নামক গাছের ডাল কেটে বিভিন্ন প্রাচীন প্রথা মেনে এই উৎসব করা হয় তাই এর নাম কারাম উৎসব বা ডাল গেড়ে পূজা করা হয় তাই এটি কোথাও কোথাও ডাল পূজা নামেও পরিচিত। যার কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও উৎসবের রং এক ও অভিন্ন।
আর কারাম উৎসবকে বৃহৎ অর্থে বৃক্ষের তথা কৃষির বিভিন্ন বীজের অঙ্কুরোদগম, সন্তান স্নেহে লালন পালন ও সংরক্ষণকেই বুঝিয়ে থাকে। কারাম উৎসবে শস্য বীজের অঙ্কুরোদগম, বীজ থেকে চারা তৈরি, সন্তান স্নেহে লালন-পালন ও সংরক্ষণ প্রতীকি অর্থে প্রকৃতিকেই বন্দনা বুঝায়। পূঁজা শেষে ঢাক-ঢোল বাঁজিয়ে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নাচে মেতে উঠে আদিবাসি পল্লীর বাড়ির উঠান।
তাড়াশের ভাটার পাড়া এলাকার অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বীরেন্দ্রনার্থ মাহাতো বলেন, বর্তমানে কারাম গাছটির সংকট দেখা দিয়েছে। এই গাছটিকে যদি যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা না হয় তবে আগামী দিনে আমাদের কারাম উৎসবের ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com