সাব্বির আহম্মেদ,তাড়াশ : হালি নয় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে লেবু। তাও প্রতি কেজি ১০ টাকা। গত ৩ থেকে ৪ বছরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় লেবু চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশেষ করে সিডলেস লেবু চাষ এলাকায় সারা ফেলেছে।মুলতঃ সম্প্রতিক সময়ে ভাল দাম পাওয়ার আশায় পতিত জমিতে লেবু চাষ বাড়িয়ে দিয়েছেন তাড়াশের কৃষক। তারা লেবু চাষ করে বাম্পার ফলনেও পাচ্ছেন। কিন্তু লেবু চাষী পাচ্ছেন না লেবুর ভাল দাম। বর্তমানে তাড়াশের বিভিন্ন হাট-বাজারে হালি দরের লেবু এখন ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে জানান, উপজেলার সবুজ পাড়া গ্রামের লেবু চাষী ছাইদুর রহমার (৪৫)।
গতকাল বুধবার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভাল জাতের প্রতি কেজি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। তাড়াশ পৌর শহরের বাজারে লেবু বিক্রি করতে আসা উপজেলার নাদো-সৈয়দপুর গ্রামের লেবু চাষী তোকাব্বর হোসেন জানান, তিনি ৩ বিঘায় জমিতে সিডলেস, এলাচ ও দেশী জাতের লেবু চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে বেশ ভাল। প্রতি বছর এ সময় লেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকে। দামও হয় চড়া। কিন্তু এ বছর বাজারে লেবুর দাম অনেক গুন কম। অর্থাৎ গত বছর যেখানে এক হালি লেবু বিক্রি গেছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। সেখানে এ বছর এক কেজি লেবু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১০ টাকায়। তিনি আরো বলেন, এতে আমার চাষ খরচই উঠবে না। আর এ অবস্থা শুধু আমার নয় উপজেলার সকল লেবু চাষীর।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলায় এ বছর ২০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়েছে। তবে তাড়াশ উপজেলায় কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, পরিসংখ্যানের বাহিরেও পতিত ভিটে, বাড়ির আঙ্গীনায়, পুকুরের চালায় বর্তমানে ব্যাপক ভাবে লেবু চাষ করা হচ্ছে। মূলতঃ হাইব্রিড জাত সিডলেস বা বীচি বিহিন লেবুর চমৎকার ফলনে বাজারে লেবু বিক্রিতে দর পতন লক্ষ করা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, লেবু ভিটামিন সি জাতীয় একটি ফল। এর বেশ চাহিদা থাকলেও এ বছর তাড়াশে লেবুর দাম তুলনা মূলক ভাবে কমে গেছে। অবশ্য লেবুর বাজার শহর এলাকায় সম্প্রসারিত হলে কৃষক হয়তো ভাল দাম পেতে পারেন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com