গোলাম মোস্তফা:
চলনবিল বর্ষা মৌসুমের আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে অথৈই পানিতে টই টুম্বুর হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছরের সেই সময়ে বিলে পানি নেই। ফলে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহকারী মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন।
জানা গেছে, দেশের মিঠা পানির সবচেয়ে বড় জলাভূমি চলনবিল। যমুনা নদীর বাঘাবাড়ির হুরাসাগর হয়ে বড়াল ও গুমানি নদীপথে বন্যার পানির সাথে পুঁটি, টেংরা, পাঁতাসি, রায়েক, চেলা, মোয়া, চাটা খইলসা, বাড়ি খইলসা, বাইলা, গুচি, টাকি, কই, জিয়াল, মাগুড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ হরেক মাছ বিলে ঢুকে পড়ে। এসব মাছ ধরে সংসার চলে জেলেদের। সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিল অধ্যূষিত তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল ও ভেটুয়া গ্রামের বিশেষকরে বিলের নিচু এলাকাতে হাঁটু পানি। আর বিলের উঁচু এলাকার কোথাও বন্যার পানি নেই।
কুন্দইল গ্রামের মহারোম ও হামীম নামে দুইজন জেলে বলেন, আষাঢ় মাসের মাঝের দিকে বিলে পানি আসতে শুরু করে। তখন কোমর পানি অবদি হয়ে যায়। আবার কয়েক দিন পর থেকেই পানি কমতে শুরু করে। তারা আরো বলেন, দুমাস আগেই নৌকা-জাল কিনেছেন মাছ ধরার জন্য। কিন্তু বিলে পানি না থাকায় অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করছেনএদিকে মৎস্য খামারিরা আগাম বন্যার আশঙ্কায় পুকুরের বড় মাছ বিক্রি করে দিয়েছেন। এসব কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে সোমবার সকালে তাড়াশ সদরের প্রসিদ্ধ মাছ বাজারে দেখা যায়, অধিকাংশ মাছ বিক্রেতার চাটাই খালি পড়ে আছে। হাতে গোণা ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ি সামন্য কিছু করে মাছ বিক্রি করছেন।
তাড়াশ বাজারের মাছের আড়ৎদার শহিদুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে চলনবিলের জেলেরা আড়তে প্রচুর মাছ নিয়ে আসতেন। কিন্তু এবারে বেচা-কেনা নেই বললেই চলে।এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, সমতলের (চলনবিল) জেলেদেরকে প্রণোদনা দেওয়ার বিষটি ভাবা হচ্ছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com