তাড়াশে পানি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ^ পানি দিবস-২০২১ উপলক্ষে এএলআরডি’র সহযোগিতায় পরিবর্তন এর বাস্তবায়নে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা সদরে উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী হলরুমে এক আলোচনা সভা গত ২৭মে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন পরিবর্তন কার্যকরী পরিষদের সভাপতি মো. আব্দুল গফুর।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন সংস্থার পরিচালক আবদুর রাজ্জাক রাজু। কীনোট পেপার উপস্থাপন করেন পরিবর্তন এর উপপরিচালক রোখসানা খাতুন। এরপর মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিবৃন্দ। এসময় মূল্যবান অভিমত প্রদানকারী ব্যক্তিগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমকাল প্রতিনিধি, এম. আতিকুল ইসলাম বুলবুল, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, সাংবাদিক সাব্বির আহমেদসহ কতিপয় অংশগ্রহীতা। মুক্ত আলোচনা পর্ব শেষে প্রধান অতিথির ভাষন দেন তাড়াশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনি।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক মর্জিনা ইসলাম। সভাপতির সমাপনী ভাষন দান করেন মো. আব্দুল গফুর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংস্থার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এবং ইত্তেফাক সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা। বক্তাগণ তাড়াশ উপজেলা তথা চলনবিলের স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পানি সংকট ও সমস্যা মোকাবিলায় বেশ কিছু প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরেন।এগুলো হচ্ছেঃ চলনবিলে ফসলী জমিতে পুকুর খনন ও দীঘি –পুকুর ভরাট অবিলম্বে বন্ধ করা ,খাল বিল নদী ভরাট করে বসতবাড়ী সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান বন্ধ করা,সড়ক –রাস্তার ধার ঘেষে খালের উপর বাড়ী ও নানাপ্রকার অবকাঠামো তৈরী বন্ধ করা,আবদ্ধ পুকুরে জলাশয়ে লিটার সহ পরিবেশ দূষণীয় আবর্জনা ফেলে পানি দূষিতকরণ রোধ করা, ব্রীজ কালভার্টের মুখ ভরাট করে বাড়ী ঘর বা পুকুর/ডোবা তৈরী বন্ধ করা,প্রতি ইউনিয়নে অন্তত: ১টি করে পুকুর দীঘি সুপেয় স্বচ্ছ পানি পান ও ব্যবহারের জন্য সরকারীভাবে নির্ধারন করা,অপরিকল্পিত বাঁধ ,রাবার ড্যাম ,ব্রীজ ,স্লুইসগেট ,কালভার্ট, সড়ক, বাসাবাড়ী,ূিশল্প কারখানা নির্মাণ না করা,নদী ও খাল খননের বা সংস্কারের নামে সেগুলোকে আরো সংকুচিত করে না ফেলা,সরকারী উদ্যোগে পুকুর -জলাশয় ভরাট না করা,পরিবেশ বিরুদ্ধ ইট ভাটা অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়া,ভূগর্ভস্থ পানি শ্যালো বা ডিপ মেশিনের মাধ্যমে যথাসম্ভব কম তুলে ভূউপরিস্থিত খাল নদীর পানির ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করা , চলনবিলকে একটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় নিয়ে আসা ,চলনবিলের প্রাকৃতিক.পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধবংসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা,চলনবিলে সড়ক যোগাযোগ নিরুৎসাহিত করে নৌযোগাযোগ বৃদ্ধি করা,চলনবিলে কৃষিতে.অতিমাত্রায় সার ,কীটনাশক ব্যবহার কমাতে হবে, শিল্প কারখানা বর্জ্য খালে বা নদীতে না ফেলা,নদ-নদী-খাল-বিল দখলকারীদের নির্বাচনে বয়কট করা, নদ-নদী-খাল-বিল-পুকুর-দীঘির ডিজিটাল ডাটাবেইজ তৈরী ও স্থানীয়ভাবে তা উন্মুক্ত রাখা,চলনবিলের বড় সমস্যা দখল-দূষণ-ভরাট-খনন বন্ধ করা,বিষ দিয়ে মাছ নিধন ও পাখী নিধন বন্ধ করা ,পাখীর ও মাছের অভয়ারণ্য তৈরী করা। চলনবিলে বেশী গাছ নেই বললেই চলে, তাই বিলের সর্বত্র সবুজ বনায়ন করা জরুরী অপরিহার্য,ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস গাছ দ্রুত কেটে ফেলে দিয়ে পরিবেশ সম্মত বৃক্ষ রোপণ করা, চলনবিলে যে কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে জনমত জরিপ করা, বিলকে আর মেরে না ফেলা, এটাকে বাঁচাবার সঠিক পরিকল্পনা করা।

 

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD