জাকির আকন : চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সরকারী আইন অমান্য করে ফসলী জমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে জলাবদ্ধতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী কৃষকরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে প্রতিকার পাননি।
গত ৫ মে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত অভিযোগ ও সরেজমিন জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার নওঁগা গ্রামের মৃত রোকনুজ্জামানের ছেলে প্রভাবশালী মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাষ্টার হাটিকুমরুল বনপাড়া মহাসড়কের মহিষলুটি বাজার সংলগ্ন দেবীপুর গ্রামের কয়েকজন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে তিন ফসলী জমি লীজ নিয়ে সরকারী আইন অমান্য করে পুকুর খনন চালাচ্ছে। খননকৃত পুকুরের কারণে জলাবদ্ধতায় আশাংকায় সংলগ্ন দাগের জমির মালিকরা পুকুর খনন বন্ধ করার জন্য তাকে নিষেধ করে । উল্টো একই দাগের জমির মালিক লাবু মিয়া,রান্টু মিয়া, আশরাফ আলী, আব্দুল লতিফ,রবিউল ইসলাম ,ফজলুর রহমান ও জাহাঙ্গীর হোসেন অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে তাদের জমিতে পুকুর খনের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিজান। এতে তারা রাজি না হওয়ায় তাদের ফসলী জমি ঘেষে পুকুর খনন শুরু করেন। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, মিজান মাষ্টার আমাদের জমি নিয়ে পুকুর খনন করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেয়। তাতে রাজী না হওয়ায় আমাদের ফসলী জমি ঘেষে পুকুর খনন শুরু করে। তারা আরো জানান, এভাবে পুকুর খনন করলে জলাবদ্ধতায় আমাদের তিন ফসলী জমি অনাবাদি হয়ে পড়বে। এই জমির উৎপাদিত ফসলের উপর আমাদের জীবিকা চলে। সেটাও অনাবাদি হয়ে পড়লে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।অভিযোগকারী কৃষক লাবু মিয়া জানান, অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছি । খোঁজ নিয়ে জানা যায় ,অভিযুক্ত মিজান মাষ্টারের বিরুদ্ধে চাকুরি দেওয়ার নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ কয়েকটি প্রতারণার মামলা রয়েছে । এবং একাধিকবার জেল হাজতে গেছে । গত ২মাস পুর্বে ডিবি পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় অভিযোগ দেওয়ার পরে অভিযুক্ত মিজান জেলহাজতে যায়। সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে মিজান মাষ্টার পুকুর খনন চালাচ্ছে । অভিযুক্ত মিজান মাষ্টারের সাথে তার মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মেজবাউল করিম জানান, বিষয়টি দেখে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com