জাকির আকন : দেশের মৎস্য ভান্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকায় আহরণকৃত মৎস্য সংরক্ষণের জন্য মৎস্য প্রসেসিং হিমাগার না থাকায় প্রতি বছরে কয়েকশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে মৎস্যজীবি ও শুকটি চাতাল ব্যবসায়ীরা ।
সরজমিনে ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত ৯টি উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ বর্ষা মৌসুমে বিলের জলাশয় থেকে মৎস্য শিকার ও শুটকি প্রক্রিয়া করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। চলনবিল এলাকায় আহরণকৃত মৎস্য সংরক্ষণের জন্য সরকারী ও বেসরকারীভাবে কোন হিমাগার গড়ে উঠেনি । ফলে চলনবিলের প্রান্তিক মৎস্যজীাবরা বিল থেকে হাজার হাজার মন মৎস্য স্থানীয় মৎস্য আড়ত, হাট বাজারে তাদের মাছ বিক্রি করে থাকেন । বর্ষার পানি নামার সময় বিলের বিভিন্ন স্থানে মৎস্য ব্যবসাযী শিকারিরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টন দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির টেংরা,পুঁটি, খলসে,বোয়াল, শোল, টাকি, কৈ,গজার,চিংড়ি, বাতাসি, বাইম,গুচি, মাগুর, জিয়াল,বিল পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে থাকেন । মৎস্য ভান্ডারখ্যাত চলনবিলের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর , চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, গুরুদাসপুর , সিংড়া ও আত্রাই উপজেলার বিস্তির্ণ চলনবিল এলাকায় সহ¯্রাধিক শুকটি মাছের চাতাল গড়ে উঠেছে । প্রতি বছর বিল থেকে আহরণকৃত মাছ সংরক্ষণের অভাবে অনেকাংশে বিনষ্ট হয় । চলনবিলের মধ্যে নির্মিত হাটকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের পার্শ্বে ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে ধারে গড়ে উঠেছে শতাধিক শুকটির চাতাল। স্থানীয় মৎস্যজীবিরা জানান, মাছ সংরক্ষণের জন্য মৎস্য হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে মৎস্যজীবি ও শুকটি চাতাল ব্যবসায়ীরা । বর্ষা মৌসুমে শুরুতে নিন্মচাপ ও অত্যাধিক বৃষ্টিপাতের কারণে রোদ না পেয়ে আধা শুকানো কোটি টাকার মাছ পচে বিনষ্ট হয়। তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি এলাকার শুকটি চাতালের মালিক মোঃ আব্দুস শুকুর জানান, এবছরের গত ৫-৭ দিনে বৃষ্টিতে তার চাতালে লক্ষাধিক টাকা শুকটি মাছ বিনষ্ট হয়েছে। মহিষলুটি মৎস্য আড়তদার সুজন হোসেন বলেন, এই মৎস্য বাজারে ৭১টি আড়ত (কাটা) রয়েছে । প্রতিদিন এই আড়ত থেকে ১০-১৫ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয় । তিনি আরো জানান, দেশে চলনবিলের মৎস সম্পদ রক্ষায় মহিষলুটি বাজারে একটি মৎস্য হিমাগার নির্মিত হওয়া জরুরী দরকার । আড়তদার আলম তালুকদার জানান, তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি মৎস্য আড়ত খুব ভোরে শুরু হয়ে সাড়ে ৭টার মধ্যে মাছের বাজার শেষ হয়। আমাদের নতুন সময়ের চলনবিল প্রতিনিধি সংবাদকর্মী জাকির আকন জানান চলনবিলে বর্ষা মৌসুমে প্রচুর দেশী মাছ ধরা পরে। আর এই মৌসুমের লক্ষাধিক টন মাছ হিমাগারে সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করা সম্ভব হতো। তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসের ফিল্ড এ্যাসিসটেন্ট মোঃ আহসান আলীর মন্তব্য, দেশের দক্ষিণাঞ্চালে সামদ্রিক মাছ সংরক্ষণর জন্য হিমাগার থাকলেও দীর্ঘ দিনেও চলনবিল এলাকায় মৎস্য হিমাগার গড়ে উঠেনি। আমরা নিমগাছি মৎসৗ প্রকল্পের আওতায় হিমাগার নির্মাণের জন্য প্রকল্প পাঠিয়েছি এবং গত বছর মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা হতে সমীক্ষা দল এসেছিলেন। তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশগুল আজাদ জানান, দেশের অন্যতম বিল চলনবিল এলাকার মৎস সম্পদে সংরক্ষণে প্রসেসিং হিমাগার দরকার ।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com