জলাবদ্ধতায় কৃষকের স্বপ্ন শেষ

Spread the love

গোলাম মোস্তফা: উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক শাহ জামাল মাত্র দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। দু’মুঠো খেয়ে বাঁচার তাগিদে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন অন্তত কিছুটা ধান ঘরে তোলার। আরেকজন কৃষক সগুনা ইউনিয়নের মাকড়শন গ্রামে সাজ্জাদ হোসেন। যিনি ১১ বিঘার মতো আবাদ করে অনেক কষ্টে মহিষের গাড়িতে এখন পর্যন্ত কেবল দুই বিঘা জমির ধান বাড়িতে নিতে পেরেছেন।
অপরিকল্পিতভাবে আশঙ্কাজনকহারে পুকুর খননের ফলে খাল-বিল, নয়নজুলি ও জলধারগুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে বেড়েছে জলাবদ্ধতা। সেই সাথে অতি বৃষ্টির ফলে আগাম বন্যার সম্ভাবনা। এসব কারণে এবছর পানির নিচেই ডুবে রইলো অনেক কৃষকের খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২২ হাজার ৬শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে বেশিরভাগ কৃষক খুশি হলেও ২৫ হেক্টরের মতো পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হামকুড়িয়া গ্রামের শাহ জামাল নামের ঐ কৃষক তার পরিবার নিয়ে নৌকায় করে ধান কাটছেন। দুই ছেলের সাথে পানিতে ডুব দিয়ে ধান কেটে নৌকায় তুলে দিচ্ছেন। আর তার স্ত্রী ও মেয়ে সেই ধানের আটিগুলো নৌকার ওপর গুছিয়ে রাখছেন। ইতোমধ্যে ডোবা ধানে কিছুটা পঁচন ধরেছে। তবুও চেষ্টা করছেন সড়কের পাশে শুকিয়ে বাড়িতে নেওয়ার।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পানির নিচে ডুব দিয়ে কোনো কৃষি শ্রমিকই তার ধান কেটে দিতে চাননি। বাধ্য হয়ে স্ত্রী নাছিমা খাতুন, স্কুল পড়–য়া দুই ছেলে সাব্বির ও নাসিম এবং ছোট্র মেয়ে রুবাইয়ার সাথে নৌকায় করে ধান কাটছেন। এদিকে এন্তাজ আলী নামে ঐ কৃষক বলেন, আত্মীয়-স্বজনরা মিলে দুই বিঘা জমির ধান মহিষের গাড়ি করে বাড়ির উঠানে তুলেছেন। বাকি ৯ বিঘার ধান আর কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবেনা।এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুল নাহার লুনা বলেন, মূলত যত্রতত্র পুকুর খননের ফলে জলাবদ্ধতায় কবলে পড়ে পানিতে ডুবে গেল কৃষকের ২৫ হেক্টর জমির পাকা ধান। পানি প্রবাহের এসব বাধা মুক্ত করা না গেলে আগামীতেও এমন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD