বিশেষ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউপি সদস্যকে চাঁদা না দেওয়ায় বিধবাদের নির্মাণাধীন বসত ঘর ভাংচুর ও মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছে ভুক্তভোগী গৃহহীন বিধবা মোছা: সমর্ত খাতুন (৬৫) ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মল্লিকা খাতুন (৬০)। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার উপজেলার তালম ইউনিয়নের খোশালপুর গ্রামে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিধবাদ্বয় গরিব অসহায় ভূমিহীন মোছা: সমর্ত খাতুন ও বধির প্রতিবন্ধী মল্লিকা খাতুন খোশালপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের দুই মেয়ে। তারা এতদিন অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। ভুক্তভোগী বিধবাদ্বয় কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা দুই বোন বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা তুলে খাস জায়গার উপর ৬ মাস পূর্বে মাটি ভরাট করি। মঙ্গলবার ওই জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে ১নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য রহমত আলী ও মৃত মকছেদ তালুকদারের ছেলে আলতাফ তালুকদার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকী দেয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ভূমি অফিসের লোকজন নিয়ে এসে আমার নির্মানাধীন ঘর ভাঙ্গচুর করে এবং আমাদের মারধর করে টিন, খুঁটি নিয়ে চলে যায়। ওই গ্রামে অনেকই খাস জায়গার উপর বাড়ি করে বসবাস করে আসছে। আমরা অসহায় বলে আমাদের উপর এতো অত্যাচার করছে।
খোশালপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ইসমতয়ারা বলেন, ইতি পূর্বে রহমত মেম্বার সরকারী খাস জ্য়গায় ঘর তুলে দিয়ে জহুল ইসলামের কাছে থেকে ২০ হাজার টাকা, আব্দুল আজিজ কাছে থেকে ২৫ হাজার টাকাসহ আরো কয়েকজনের কাছে থেকে টাকা নিয়েছে। এদের কাছ থেকেও টাকা চায়। কিন্তু তারা টাকা দিতে পারে না বলে তাদের ঘর ভেঙ্গে দেয় এবং মারধর করে। তালম ইউপি সদস্য ও আ’লীগ নেতা রহমত আলী বলেন, খাস জায়গায় ঘর তোলায় ঘর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তালম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, এ্যাসিল্যান্ড স্যার নির্দেশ দিয়েছে। তাই আমরা নির্মাণাধীন ঘর ভেঙ্গে দিয়েছি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওবায়দুল্লাহ’র সাথে সরকারী ০১৭৩৩-৩৩৫০৩৫ নম্বরে বার বার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান বলেন, অভিযোগ পত্রটি পেয়েছি। বিষয়টি দেখার জন্য সহকারি কমিশনার ভূমিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com