তাড়াশ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্টোর কীপার মোঃ শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে চাকুরীরর প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যৌন হয়রানীর ঘটনায় জলি খাতুন নামে এক মহিলা (২৮ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সাথে অনুলিপি দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, দুনীতি দমন কমিশন, র্যাব-১২, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তাড়াশ থানা পুলিশ বরাবর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার থানা পাড়ার আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী জলি খাতুনকে ওই হাসপাতালের স্টোর কীপার শাহাদত হোসেন আউট সোর্সিং কর্মচারী হিসেবে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার দাবী করে। কিন্তু জলি খাতুন ৩০ হাজার টাকা দেয় এবং তাকে হাসপাতালের রোগীদের খাবারের রান্না ঘরে কাজ করতে বলে এবং প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা বেতন দেন। জলির মতো আরো কয়েকজন সেখানে কাজ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পানা কর্মকর্তা ডাঃ জামাল মিঞা শোভন যোগদান করার পর সবাইকে বলে দেয় আজ থেকে তোমাদের কাজ নেই, আমি রোগী ভর্তি দেখিয়ে তোমাদের টাকা দিতে পারবো না। এরপর জলি বিষয়টি স্টোর কীপার শাহাদত হোসেনকে জানালে তিনি বলেন, তোর আজ থেকে রান্না করতে হবে না, তুই আজ থেকে স্টোরে কাজ করবি, আমার সাথে কাজ করবি। আমি স্যারকে বুঝিয়ে বলবো, তোর কোন সমস্যা হবে না। এভাবে কাজ করতে থাকা অবস্থায় শাহাদত একদিন জলিকে এক গ্লাস পানি নিয়ে স্টোর ঘরের ভিতরে যেতে বলে। ঘরের ভিতরে গেলে জলিকে শরীরে বোরকা এবং অন্যান্য কাপড় খুলতে বলে তিনি এবং বলেন বডির মাপ নিতে হবে বলে জোড়পূর্ব সম্মান নেওয়ার চেষ্টা করলে জলি চিৎকার করে। এ সময় শাহাদত বিভিন্্নভাবে ভয়ভীতি ও গালাগালি করে।
বিষয়টি জলি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পানা কর্মকর্তা ডাঃ জামাল মিঞা শোভনকে জানালে স্টোর কীপার শাহাদতকে কিছু না বলে জলিকে গালাগালি করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয় এবং জলিকে নানা মিথ্যা অপবাদ দিতে থাকে। পরে জলি বিষয়টি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ¦ারে ঘুরেছে কিন্তু কোন বিচার না পেয়ে শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কীপার শাহাদত হোসেন বলেন, আমি চক্রান্তের স্বীকার। আমার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পানা কর্মকর্তা ডাঃ জামাল মিঞা শোভন বলেন, আমার বরাবর কোন অভিযোগ পাইনি, জলিকে কখনও আমি বের করে দেয়নি। এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ জাইদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com