গোলাম মোস্তফা: সিরাজগঞ্জের চলনবিলস্থ তাড়াশ উপজেলার তাড়াশ-নাদোসৈয়দপুর গ্রামীণ সড়কের সাইট খালের ওপর নির্মানাধীন ব্রিজের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে ইতোমধ্যে বছর পেড়িয়ে গেছে। অথচ এখনও শেষ হয়নি নির্মান কাজ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশপাশের কয়েক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় ৪ কোটি ৪১ লাখ ৮ হাজার ৪শ’ ৪৮ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে তাড়াশ-নাদোসৈয়দপুর গ্রামীণ সড়কের সাইট খালের ওপর ৯৯ মিটার ব্রিজটির নির্মান কাজ শুরু করা হয়। ব্রিজটি নির্মানের শেষ সময় ছিলো ২০১৮ সালের মার্চ মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই ব্রিজটির নির্মান কাজ করছেন মাত্র ১২ জন শ্রমিক। লোকজন বাধ্য হয়ে ব্রিজের নিচ দিয়ে যাতায়াত করছেন। এসময় ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, জিয়ারুল ইসলাম, সাদেক হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, জয়ান আলী, জামাল মিয়া, রুহুল আমীন, ইসমাতারা, শাহিদা খাতুন বলেন, তাদের সমস্ত আবাদি জমি তাড়াশ-নাদোসৈয়দপুর গ্রামীণ সড়কের দু’পাশে প্রত্যন্ত চলনবিলের মধ্যে। মৌসুমে প্রচুর পরিমানে ইরি-বোরো, পিয়াজ, রশুন, ভুট্টা, গম, কালোজিরাসহ সব ধরনের ফসলাদি চাষাবাদ হয় ওই জমিগুলোতে। সাইট খালের ওপর ব্রিজটি হয়ে গেলে তাদের উৎপাদিত ফসল বাড়ি আনা ও বাজারজাত করার ক্ষেত্রে মাথায় নিয়ে মাইলের পর মাইল যেতে হবেনা। বিকল্প পথ হিসেবে আর কখনও ব্যবহার করতে হবেনা নৌকা বা গরু-মহিষের গাড়ি। ব্রিজের অভাবে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও ফসলাদির জন্য গুণতে হয় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ টাকা। অপচয় হয় সময়ের।
শুধু তাই নয়, তাড়াশের ধামাইচ গ্রাম, মাগুড়া বিনোদ, কুন্দইল, কামারশন, মাকরশন, ইশ^রপুর, হেমনগর, নওখাদা, বিন্নাবাড়ি, চরকুশাবাড়ি, দবিরগঞ্জ, রানী গ্রাম, কাটাবাড়ি ও পার্শ¦বর্তী গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর, বামুন বাড়িয়া, বিলসা, রুহাই, বাহাদুর পাড়াসহ কমপক্ষে ৫০টি গ্রামের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের আন্তঃ যোগাযোগের জন্য ব্রিজটির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তারা আরও বলেন, ইতোমধ্যে চলনবিলের মধ্যে ডুব (সাবমারসিবল) সড়ক নির্মান করা হয়েছে। এখন ব্রিজটির নির্মান কাজ শেষ হলেই তাদের বহু দিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়।
এদিকে ব্রিজের নির্মান শ্রমিক বাবলু মিয়া, ভোলা মিয়া, আমিনুল ইসলাম, শহিদ হোসেন জানান, ৯৯ মিটার ব্রিজের নির্মান কাজ করছেন কয়েক জন শ্রমিক। এত কম শ্রমিক দিয়ে বর্ধিত সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ এস কনষ্ট্রাক্সনের ঠিকাদার জহরুল ইসলাম বলেন, বর্ধিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই ব্রিজের কাজ শেষ করা হবে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান খান সাপ্তাহিক চলনবিল বার্তাকে বলেন, বর্ধিত সময়ের মধ্যে তাড়াশ-নাদোসৈয়দপুর গ্রামীণ সড়কের সাইট খালের ওপর নির্মানাধীন ব্রিজের কাজ শেষ করার লক্ষে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com