তাড়াশে হিজড়াদের মানবেতর জীবনযাপন

Spread the love

বিশেষ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশের হিজড়ারা দীর্ঘদিন যাবৎ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিজ পরিবার থেকে শুরু করে সবখানেই তারা চরম বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার। তাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে সরকার স্বীকৃতি দিলেও সমাজ এখনও দেয়নি।

হোসনে আরা হিজড়া, পপি হিজড়া, লাকী হিজড়া, সাথী হিজড়া, যুথি হিজড়া, চামিলী হিজড়া, চৈতী হিজড়া, রেখা হিজড়া  প্রমূখ বলেন, ক্ষিধের জ্বালা তো সবারই আছে। সবাইকেই তো খেয়ে পড়ে বাঁচতে হয়! অন্তত রাতের ঘুমের জন্যও একটা জায়গা দরকার হয়। অথচ সরকারি-বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানেই আমাদের কাজের সুযোগ নেই। তাদের কোন মালিক বাড়ি ভাড়াও দিতে চায় না। হিজড়া হওয়ার কারণে সামাজিকভাবে তাদের কোথাও বিন্দু মাত্র সন্মান নেই। ঘর থেকে বেড়োলেই লোকজন হিজড়া-হিজড়া বলে ডাকাডাকি করে। অনেকে নোংরা মন্তব্যও করেন। তারা রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতির পাশাপাশি সামাজিক স্বীকৃতি চান। তারা মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেতে চান।

হিজড়ারা আরো বলেন, উপজেলার ২শ’ ৫৪টি গ্রামের প্রায় প্রতিটিতেই এক বা একাধিক হিজড়া রয়েছে। যাদের বেশিরভাগই এখনও কিশোর। চক্ষু লজ্জায় তারা নিজেদের প্রকাশ করতে পারছে না। তবে একটা সময় ঠিকই জানাজানি হবে। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টালে ওরাও একদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। ওদেরও হয়ত ঠাঁই হবে হিজড়া সমাজেই।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে  উপজেলার ১০ জন হিজড়াকে বিশেষ ভাতা দেওয়া হয়েছে। মাসিক ভাতার পরিমান ৬শ’ টাকা। এছাড়াও হিজড়াদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করে কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, হিজরাদের চাকরী কোটা, তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ হিজড়াদের সংগঠন, সমিতি থাকা দরকার যাতে তারা তাদের অধিকার ও দাবি-দাওয়া আদাায়ে লড়াই, সংগ্রাম করতে পারে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD