শাহজাহান আলী ঃ চলনবিলের পল্লিতে গ্রাম বাংলার পুরাতন ঐতিহ্য ছিল গৃহস্থালীর “গোলাঘর”। গোয়ালভরা গরু, পুকুরভরা মাছ আর গোলাভরা ধান এটি গ্রাম বাংলার প্রচলিত একটি প্রবাদবাক্য। চিলনবিলের তাড়াশসহ পাবনা নাটোরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এই সব ঐতিহ্য ছিল দেখার মতো। কৃষকের পুকুরভরা মাছ থাকলেও গোয়ালভরা গরু,গোলাভরা ধান আর নেই। কালের বিবর্তনে প্রায়ই বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্য কৃষকদের ধান রাখার সেই গোলাঘর। আগের দিনে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ক্ষেতের ধান গোলাঘরে মজুদ রাখতেন। বসত বাড়ির আঙ্গিনায় মাটি,বাঁশ আর টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হতো ধান রাখার এ ঘর। ধানের গোলা বসানো হতো বেশ উঁচুতে। যেন তাতে বষাঁর পানি প্রবেশ না করে। গোলায় প্রবেশের জন্য রাখা হতো একটি দরজা। দরজার বাইরে থেকে তালা মেরে রাখা হতো যেন চোরের হাত থেকে ফসল রক্ষা পায়। এটি দেখতে মিসরের পিরামিডের মতো মনে হতো।
তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের আলহাজ খোদা বক্স সরকারের বাড়ীতে গোলাঘর ছিল দেখার মতো। গোলাঘর তৈরি করতে পাইট কামলার ভিড় জমা হতো । একটি গোলাঘর তৈরি করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হতো। প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুম আরম্ভ হলে কৃষাণীরা গোলাঘর লেপে (মাটির আস্তর) প্রস্তÍত করে রাখতো। আগের দিন দিনে গোলাঘর দেখে অনুমান করা যেত কে কত বড় জোতদার। এখন গোলাঘরের বদলে মানুষ চট ও প্লাস্টিকের বস্তায় ধান ভরে ঘরে মজুদ রাখছেন। কথা হয় চলনবিলাঞ্চলের কয়েকজন কৃষকের সাথে যার বাপ দাদারা গোলা ঘরে ধান রাখতেন। তাড়াশের আলহাজ আবুল হোসেন সরকার, চাটমোহরের ফজলার রহমান,গুরুদাসপুরের শহিদুল ইসলাম জানান,আগের দিনে ধান রাখার জন্য গোলাঘর ব্যবহার করা হতো। গোলাঘরে থান রাখায় ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে রক্ষা পেতো। একটি গোলা ঘরে সাধারণত ২-৩শ’মন পযর্ন্ত ধান রাখা যেতো। রায়গঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এখনো দেখা যায় গোলাঘর। তবে এতে এখন আর তাতে ধান রাখা হয় না। গ্রাম বাংলার এ ঐতিহ্যটুকু শুধুই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছে তারা।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com