ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বঞ্চনা – সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে দীর্ঘদিন

Spread the love

লুৎফর রহমান : নিমগাছি সমাজ ভিত্তিক মৎস্য চাষ প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার খোর্দ্দ মাধাইনগর গ্রামে অবস্থিত ভুরুংগি বিলপুকুরে ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর সদস্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তারা প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত নিমগাছি সমাজ ভিত্তিক মৎস্য চাষ প্রকল্পের ৬৭৪.৭৬ হেক্টর আয়তনের ৭৮৩ টি পুকুরের মধ্যে মাধাইনগর ইউনিয়নের খোর্দ্দ মাধাইনগর গ্রামে অবস্থিত ভুরংগি বিল পুকুর একটি। নীতিমালা অনুযায়ি, পুকুর সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র মানুষদের নিয়ে একটি সুফল ভোগী দল গঠন করে, মাছ চাষ করে আর্থ সমাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে। সে অনুযায়ি ১২ বিঘা আয়তনের ভুরংগি বিল পুকুরে ৩৬ জনকে সদস্য করা হয়। এরমধ্যে ১৭ জন ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সদস্য রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ২০১৪ সাল থেকে ১৭ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উঁরাও সম্প্রদায়ের সদস্যদের বঞ্চিত করে, অপর ১৯ জন সদস্য মৎস্য অফিসকে ম্যানেজ করে সাব লীজ দিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাত করেছে। অথচ নীতিমালা অনুযায়ি সাবলীজ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনী। এছাড়াও নীতিমালা অনুযায়ি ১৭ জন নৃ গোষ্ঠীর সদস্যর বসবাস খোর্দ্দ মাধাইনগর গ্রামে হলেও অপর ১৯ জনের মধ্যে পার্শ্ববর্তী মাধাইগর গ্রাম থেকে পাঁচজন সদস্যকে নীতিমালা উপেক্ষা করে উক্ত পুকুরে সদস্য করা হয়েছে। ওই পাঁচজন সদস্যর মধ্যে ১৩ নং সদস্য মোছা: শিল্পী খাতুন, ১৫ নং সদস্য মোছা: আম্বিয়া খাতুন, ১৭ নং সদস্য মোতাহার হোসেন ও ১৮ নং সদস্য আব্দুল বাসেদ রয়েছেন।
সরেজমিনে পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরটি সাবলীজ নিয়ে চাষ করছেন পার্শ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার শ্যামেরঘোণ গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো:আলতাব হোসেন। পুকুরটির সুফলভোগী দলের বর্তমান সভাপতি আবু সাঈদের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আদিবাসী সদস্যরা পরে সংযোজিত হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও রয়েছে। তাছাড়া এ টাকা নিয়ে আমরা মসজিদের উন্নয়ন করেছি। এ কারণে তাদের হিস্যা দেয়া হয় না। তাড়াশ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সমস্যাটি ঝুলে আছে। ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসনের উপ কমিটিতে তোলা হয়েছিল। কিন্তু কোন প্রকার সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য অভিযোগকারী অখিল চন্দ্র উঁরাও ক্ষোভের সাথে বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আমরা যেন এ দেশের নাগরিক নই। আমাদের ন্যয্য পাওনা থেকে বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে অথচ দেখার কেউ নেই

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD