ভাঙ্গুড়া(পাবনা)প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কৌশিকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করার গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ,তিনি রাতের বেলায় মাদকসেবন করেন আর দিনে ডিউটি না করে কোয়ার্টারে ঘুমিয়ে থাকেন। আবার নাইট ডিউটিতে ফোন না ধরার অভিযোগও রয়েছে।
ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী মোঃ জায়েদ হায়দার বলেন,গত ২৯ জুলাই ২০২৬ইং আমার স্ত্রী মোছাঃ মদিনা খাতুনের চোখে আঘাত জনিত কারণে চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গেলে একাধিক বার ফোন কল করেও তাকে পাওয়া যায় নাই। পরে দায়িত্বরত প্যারা মেডিক্যাল ডা. মোঃ হাফিজুল ইসলামের পরামর্শ নেই এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানমকে অভিযোগ দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করি। এটা তার নিত্যদিনের ঘটনা বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংবাদিকদেরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ডা. কৌশিক পাবনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে ৪২ তম বিসিএস(স্বাস্থ্য)পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে পদন্নোতি পান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ আবাসিক মেডিকেল অফিসার। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং হাসপাতালের ওয়ার্ড ও কেবিনের সার্বিক চিকিৎসা কাজ তদারকিসহ প্রশাসনিক কাজ করা একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব। কিন্তু ওই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে কোনো দায়িত্ব পালন করেন না। জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত প্যারা মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে তার সব কাজ করানো হয়। এ কারণে অন্য চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে ।
তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নেশায় আসক্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে
রাত জেগে বিভিন্ন ধরনের নেশা করেন। আর দিনের বেলায় দুপুর ১২/১ পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটান। পরে ইচ্ছে মতো সময়ে হাসপাতালে গিয়ে হাজিরা দিয়ে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। আর হাসপাতালের একাধিক ওয়ার্ডবয় ওই চিকিৎসককে মাদক সরবরাহ করে আসছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. কৌশিকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনাকে কে বলেছে তা আমি জানি না। তবে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বলেন। আমি কিছু বলতে পারবো না।তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে তিনি রাজি হননি। পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি জেনে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com