চলনবিলে পর্যটন শিল্পের মাইলফলক উদ্যোগ

Spread the love

গোলাম মোস্তফা বিশেষ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা তথা চলনবিল অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত “চলনবিল সমন্বিত ইকো-ট্যুরিজম, আধুনিক বিনোদন নগরী ও শিশু ওয়াটার পার্ক উন্নয়ন প্রকল্প” বাস্তবায়নের উদ্যোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক চলনবিলের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উত্তরবঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে আসছেন। তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে প্রণীত এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চলনবিল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ভিপি আয়নুল হক এমপির নির্দেশনায় প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ প্রজেক্ট প্রোফাইল ও ধারণাপত্র (ঈড়হপবঢ়ঃ চধঢ়বৎ) প্রস্তুত করেছেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহবুব আলম শেখ। চলনবিল অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, পর্যটন সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক প্রভাব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে তিনি প্রকল্পটির বিস্তারিত প্রোফাইল প্রণয়ন করেন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব ইকো-রিসোর্ট, আধুনিক মোটেল, শিশু ওয়াটার পার্ক, কেবল কার, নৌ-পর্যটন কেন্দ্র, বার্ড ওয়াচিং টাওয়ার, সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স, ভাসমান রেস্টুরেন্ট, ফুড কোর্ট, পর্যটন পুলিশ ফাঁড়ি এবং পরিবারভিত্তিক বিনোদন সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চলনবিলকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সৃষ্টি হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে এবং নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে।স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, ভিপি আয়নুল হক এমপি নির্বাচনের পূর্বে রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনবান্ধব সংসদীয় এলাকা গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, এই প্রকল্প সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিশেষ করে তিনি রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা অঞ্চলকে একটি আধুনিক, স্মার্ট, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিনিয়োগবান্ধব মডেল সংসদীয় আসনে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন। শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও পর্যটন খাতে একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি চলনবিল পর্যটন প্রকল্পকে তিনি তার অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে ভিপি আয়নুল হক এমপি বলেন, “চলনবিল শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার প্রতীক। আমরা চলনবিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেই এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে চাই। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
এদিকে প্রকল্পটির প্রোফাইল প্রণয়নকারী মাহবুব আলম শেখ বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্যের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলনবিলের বাস্তব সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে রেখে প্রকল্পটির প্রোফাইল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।”
স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় চলনবিল আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD