মোঃ শামছুল হক, সিরাজগঞ্জ :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ,তাড়াশ,উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান এখনো পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র পুকুর খনন করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
মাছে ভাতে বাঙ্গালী হলেও এখন ভাতকে বাদ দিয়ে শুধু মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছে বাঙ্গালী। মাছ চাষের জন্য আবাদি জমি খনন করে পুকুর তৈরী করা হচ্ছে। এর ফলে আবাদী জমি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লাখ লাখ কৃষক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হলো রায়গঞ্জের পশ্চিম আটঘরিয়া, সাতকুর্শী,
গোপীনাথপুর,মালতিনগর, চকদাদপুর, কলিয়া, শ্রীরামপুর, গোপালপুর, বাশাইল, রাজাপুর ও বোয়াইল। অন্যদিকে তাড়াশের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হলো- ঝুরিঝুরি, সরাপপুর, বোয়ালিয়া,জাহাঙ্গীর গাঁতী, মাধবপুর, চক গোপীনাথপুর,সাস্তান, বিদুমাগুরিয়া, কাউরাইল।
উল্লাপাড়া উপজেলার বেশি ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাম গুলোর মধ্যে – চকনিহাল,বলাইশিমলা, রৌহাদহ, মাহমুদপুর, খোদ্রশিমলা, উত্তর কালিকাপুর,আগরপুর,
খেইশ্বর, চকসাদী,জালশুকা, পাঠান পাড়া, কুমার গাইলজানি, পাঁচান ও দবিরগঞ্জের জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এ মৌসুমের অতিবৃষ্টি এবং কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে প্রায় সবগুলো জমির পাকা, আধাপাকা ধান পানিতে পড়ে
গেছে।
ধান পাকলেও শ্রমিক সংকটে সময় মত কাটতে না পারায় পানিতে পড়ে থাকা ধানে গাছ বের হচ্ছে। এমনকি স্বর্ণের মূল্যের খড়ও পঁচে যাচ্ছে।
দিনহাজিরা একজন শ্রমিকের মজুরী ১ হাজার টাকা থেকে ১৪শো টাকায় পৌঁছেছে।স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ এলাকার বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণেই এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। তারা অবাধে এ ধরনের পুকুর খনন চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তাড়াশ উপজেলার সরাপপুর গ্রামের কৃষকেরা হাজার হাজার বিঘা জমি বিগত কয়েক বছর ধরে ইরি বোরো মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারনে চাষ না করেই পতিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
এতে কৃষকরা প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কৃষকেরা বলছেন, এসব জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।এ বিষয়ে রায়গঞ্জ – তাড়াশের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক এবং উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান মহোদয়ের নিকট আবদন জানানো হয়েছে।
তাঁরা উভয়ে জানিয়েছেন, “অভিযোগ পেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কৃষিমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে আগামী আমন মৌসুম শুরুর আগেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।”জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশ চরম খাদ্য সঙ্কটে পড়বে এবং বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করতে হবে।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com