চোখের আলো হারাতে বসেছে মেধাবী খাদিজাতুল কুবরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন

Spread the love

চোখের আলো হারাতে বসেছে মেধাবী খাদিজাতুল কুবরা
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন

শাহজাহান, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ ঃ অর্থাভাবে চোখের আলো হারাতে বসেছে শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা, দেখতে পান না বইয়ের ছোট লেখা।
অভাব-অনটন আর অর্থের সংকটে চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না সিরাজগঞ্জের তাড়াশের এক মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. খাদিজাতুল কুবরা (১৯)। ২০২২ সালে তাঁর ডান চোখে ২০% ও বাম চোখে ২৫% দেখলেও ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসছে তার দৃষ্টিশক্তি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রত উন্নত চিকিৎসা না পেলে হয়তো তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।খাদিজাতুল কুবরা তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কুন্দইল গ্রামের মো. মাহবুর ইসলামের মেয়ে। জানা যায়, খাদিজাতুল কুবরার বয়স যখন ৮ বছর। তখন সে বুঝতে পারে তার চোখের সমস্যা।পড়াশোনা করতে গিয়ে বইয়ের লেখা ছোট দেখা, বø¬াকবোর্ডের লেখা চোখে পড়ে না। প্রথমে ২০১৪ সালে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর চক্ষু হাসপাতালে দেখালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেখানে চিকিৎসা হবে না বলে জানিয়ে দেন। এরপর সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে দেখালে ও সেখানে ৬ মাস চিকিৎসা নিলেও তেমন ফলাফল পাননি। এরপর ২০১৬ সালে ঢাকা ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে দেখালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানান, এটা জন্মগত দৃষ্টিপ্র্রতিবন্ধী। গর্ভে থেকেই রেটিনা ডেমেজ হওয়ার কারণে কোন উন্নতি হচ্ছে না। তারপর ২০২২ সাল থেকে ধানমন্ডি হারুণ আই কেয়ার থেকে তাঁর চোখের চিকিৎসা হচ্ছে। তবে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার বলেছেন, যেতে হবে দেশের বাইরে। কিন্তু টাকার অভাবে ৩ বছর ধরে চিকিৎসা করাতে পারছেন না তার পরিবার। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে খাদিজাতুল কুবরা। তিনি জানান, প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করার স্বপ্ন আমার। ২০২২ সালে ডাক্তার জানিয়েছিলেন, আমার ডান চোখে ২০% ও বাম চোখে ২৫% দেখি। কিন্তু ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসছে আমার দৃষ্টিশক্তি। দ্রত উন্নত চিকিৎসা না পেলে হয়তো পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারাতে হবে আমার। আমি দেখতে চাই , আমার স্বপ্ন পুরুণ করতে চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক মেহেরীন সুজন আদি জানান, খাদিজাতুল কুবরা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী। সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪। এবার শ্রæতি লেখকের মাধ্যমে এইচসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৪.৮৩। পাশাপাশি একটি বিষয়ে কম মার্ক পাওয়ায় বোর্ড চ্যালেঞ্জ করেছে। সে আশা করে জিপিএ-৫ পাবে। তবুও তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তাই সমাজের হৃদয়বান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে হয়তো একটি দরিদ্র পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। সু-চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তশালী, দানশীল, হৃদয়বানদের নিকট সাহায্যের আবেদন করেন তিনি। খাদিজাতুল কুবরার মা মোছা. মঞ্জুয়ারা খাতুন চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, তিন শতকের বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। ছোটবেলা থেকেই মেয়ের খুব শখ পড়ালেখার। ওই যন্ত্র দিয়ে যখন পড়ে তখন মেয়ের খুবই কষ্ট হয়। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪। এবার এইচসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৪.৮৩। মেয়ের স্বপ্ন প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করার। কিন্তু টাকার অভাবে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে পারছি না। তাহলে তার স্বপ্ন পুরুণ হবে না। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য অর্থ দিয়ে সাহায্য করুন। আপনাদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন।
খাদিজাতুল কুবরার বাবা মো. মাহবুর ইসলাম বলেন, সময় যত যাচ্ছে মেয়ের চোখের অবনতি ততই খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমি নিজেও অসুস্থ। আমার সামান্য উপার্জনে মেয়ের চোখের ব্যয় বহুল খরচ চালাবো কিভাবে। আপনাদের সবার সামান্য সহযোগিতায় আমার মেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রত সম্ভব খাদিজাতুল কুবরাকে দেশের বাহিরে নিয়ে গিয়ে চোখটি প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য খরচ হবে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা। পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঋণ করে একদিকে দৈনন্দিন চিকিৎসা খরচ অন্যদিকে সাংসারিক খরচ চালাতে গিয়ে আমি এখন দিশেহারা। এত টাকা আমি কই পাই। সমাজে বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ করছি, মেয়ের চিকিৎসার জন্য আমাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করুন।

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD