তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সাপে দংশন করা বিষধর সাপ নিয়ে ভয়কর সাহসীকতায় টিকটক করেছে মেয়েটি। তারপর সাপের বিষের বিষক্রিয়ায় জীবন- মূত্যুর সন্ধিক্ষনে থাকা চলে যায় সে। এরপর আল্লাহর কৃপা আর চিকিৎসকদের প্রান্তকর চেষ্টায় কোমায় থাকা সেই শিক্ষার্থীর অবশেষে চারদিন পর জ্ঞান ফিরেছে। ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন সুস্থ্য।ঘটনাটি ঘটে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম গ্রামে। আর দংশন করা সাপ নিয়ে টিকটক করা তানিয়া তালম গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে ও স্থানীয তালম দ্বি- মুখি ইচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।
জানা গেছে, গত ২৫ মে রাতে শিক্ষার্থী ও টিকটকার মোছা. তানিয়া খাতুন নামের ওই মেয়ে নিজ বাড়িতে টয়লেটে যাবার সময় একটি বিষাধর সাপ তাকে দংশন করে। এ সময় তানিয়া দংশন করা সেই সাপ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে। আবার সেই মরা সাপ নিয়ে রাতেই টিকটক করে। পাশাপাশি সাপে দংশনের বিষয়টি কাউজে না জানিয়ে এবং এতে গুরুত্ব না দিয়ে সে ঘুমাতে যায়।
এরপর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বিষধর সাপের বিষক্রিয়ায় তানিয়া অসুস্থ্যবোধ করলে মাকে ঘুম থেকে জাগায় ও সাপের দংশনের বিষয়টি তাকে জানায়। যা শুনে তানিয়ার মা চিৎকারে করে কাঁন্নাকাটি শুরু করে দেন। এ সময় বাবা আবু তাহের এসে মেয়ের সাপের দংশনের ক্ষত স্থানের ওপরে শক্ত করে বাঁধন দেন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে থাকা ওঝাঁদের কাছে নিয়ে গিয়ে ভোর রাত পর্যন্ত বিষ নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সকল ওঝাঁই বিষ নামাতে ব্যর্থ হন।পরে ভোরের দিকে তানিয়াকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে মেয়েটি কোমায় চলে যায়। আর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যাওয়ায় তার স্বজনরা হাসপাতালে কাঁন্নাকাটি করতে থাকেন।
এ সময় চিকিৎসকরা মেয়েটিকে বাঁচাতে তাৎক্ষনিক ভাবে বোর্ড বসিয়ে মরা সাপের ছবি দেখে সাপের প্রজাতি নির্ণয় করেন। সে অনুযায়ী তানিয়ার শরীরে অ্যান্টিভেনম সিরাম প্রয়োগ করেন। অ্যান্টিভেনম সিরাম দেওয়ার পর সে ধীরে ধীরে কোমায় থেকে স্বাভাবিক হতে থাকে। পাশাপাশি ঘটনার তিন দিন পর তানিয়ার জ্ঞান ফিরে আসে।শুক্রবার তানিয়ার বাবা আবু তাহের জানান, বর্তমানে তার মেয়ে অনেটাই সুস্থ আছে। তবে চিকিৎসকরা তাকে আরো কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে বলেছেন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com