শাহজাহান তাড়াশ থেকে : মৎস্য পোনা ধরা নিষিদ্ধ মাস চলাকালেও প্রকাশ্যে তাড়াশের চলনবিলে পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে,প্রশাসন নির্বিকার। নদীতে বন্যার পানি প্রবেশের সাথে সাথেই জেলেরা বিভিন্ন খেয়া, ধর্ম, বাদাই জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করেছে। তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও নদীতে সকাল থেকে বিকেল শুরু হয়েছে নিবন্ধনকৃত জেলে ছাড়াও মওসুমী অনিবন্ধিত জেলেদের পোনা মাছ নিধনের মহা উৎসব। পোনা মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কে শোনে কার কথা। উপজেলার সর্বত্র কাতল, পুঁটি, টেংরা, বাইম, পাবদা, বোয়াল মাছের পোনা বড় বড় ধর্মজাল, বেড়িজাল দিয়ে অবাধে নিধন করা হলেও প্রশাসনের এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি। যার ফলে প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না পোনা মাছ ধরার উৎসব। উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে পোনা মাছ বিক্রি করা হলেও যেন চোখে পড়েনা প্রশাসনের কারো। তাই পোনা মাছ দেদারসে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। চলতি জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৩ মাস পোনা মাছ ধরা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না কোন জেলেই। এমনকি নিবন্ধনকৃত জেলেরাও রীতিমত জড়িয়ে আছে পোনা মাছ নিধনের সাথে। প্রতি বছর বর্ষা মওসুমে পোনা মাছ নিধনের অপরাধে জেলেদের জাল পুড়িয়ে দেয়া এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায় করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমিকে বলা হলে তিনি জানান, আমি দেখছি। নওগা হাটে দিবালোকে প্রকাশ্যে কারেন্টজাল বিক্রির হিড়িক চললেও অব্জাত কারনে প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছে । এলাকাবাসিরা জানান তাড়াশে কোন মৎস্য অফিসার আছে বলে কেউ জানে না। এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই পোনা মাছ নিধন রোধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনবল সঙ্কটের কারণে সময়মত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তবে সাধারণ মানুষ মনে করে এখনই পোনা মাছ নিধন অব্যাহত থাকলে মাস দুয়েক পর বড় মাছের সঙ্কট দেখা দেবে। তাই পোনা মাছ ধরা বন্ধের এখনই উপযুক্ত সময়। দ্রুত এ মাছ ধরা বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com