শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনালেন তিন মুক্তিযোদ্ধা

Spread the love

শাহজাহান আলী ঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসায় “বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি” কর্মসুচির আওতায় তাড়াশের তিন মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান। তারা হলেন গাজী মোবারক হোসেন,গাজী আলহ্জ্বা আঃ জলিল,গাজী মোঃ আঃ রহমান। মাদ্রাসার শিক্ষক শাহজাহান আলীর পরিচালনায় সুপার মাওলানা মোঃ নুরুল ইসলাম,সহ- সুপার আব্দুল্লাহীল হোসাইনসহ ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের উপস্থিাতিতে গত সোমবার এক সুন্দর মনোমুগ্ধকর পরিবেশে এই অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে গাজী মোবারক হোসেন বলেন,আমি তখন তোমাদের মতো করতকান্দি হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৭১ সাল বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ৭ মার্চ ভাষন দিলেন। তখন আমি আর ঘরে বসে থাকতে পারি নাই ।জীবনকে বাজি রেখে মুক্তি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি।“আমি তখন তোমাদের মতো। দেশে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। চারিদিকে শত্রুরা নিরিহ বাঙ্গালীকে গুলি করে মারছে। নিজের শরীরের রক্ত তখন টগবগ করে ফুটছিল। কিন্তু বাড়িতে মা গুরুত্বর অসুস্থ। মাঝে মধ্যেই মনে হতো যুদ্ধে যাবো, অস্ত্র দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবো। কিন্তু মায়ের কারণে পারছিলাম না।

শেষে মা একটু সুস্থ হলেই ৭১ সালের নভেম্বরের দিকে চলে যাই লড়াইয়ের মাঠে। শত্রুর সঙ্গে লড়াই করেছি জীবনবাজি রেখে। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ এলাকায় একাধিক লাড়াইয়ে অংশ নিয়েছি। শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন দেশে ফিরে এসেছি। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গল্প শিক্ষার্থীদের শোনালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোবারক হোসেন (৬৫)। তিনি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মহেষরৌহালী গ্রামের মৃত্যু লয়ান সরকারের ছেলে। বর্তমান তিনি গ্রামের নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। (২) গাজী মোঃ আঃ রহমান বলেন ৭১ সালের ভয়াবহ যুদ্ধে নিজেকে সম্পূর্ণরুপে তৈরি করতে ভারতের দার্জালিং এ প্রশিক্ষণ নিয়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি । দীর্ঘ ৯মাস সংগ্রামের পরে শত্রু বাহিনী পরাজয় বরণ করে । তখন আমি এলাকায় ফিরে এসে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করি।তিনি তাড়াশের নওগাঁ ইউনিয়নের দোবিলা ইসলামপুর গ্রামের মৃত্যু আফছার আলীর পুত্র।তার ১ ছেলে ৩ মেয়ে বর্তমানে নিজ গ্রামেই বসবাস করছেন।(৩) গাজী আলহাজ্ব মোঃ আঃ জলিল পিং মৃত্যু শুকর আলী,সাং হামকুড়িয়া উপজেলা তাড়াশ জেলা সিরাজগঞ্জ।তিনি বলেন ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যখন ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তখনই বুঝে নিয়েছিলাম, এবার শত্রুরা বিদায় নেবে, দেশ স্বাধীন হবে। আর তিনি সেই শত্রুমুক্ত করতে অস্ত্র হাতে তুলে নেবেন। তিনি সেই অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করেছেন, তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে “বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি” কর্মসুচির আওতায় মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের লড়াই আর অনেক মানুষের জীবনের বিনিময়ে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছো।  তোমাদের দায়িত্ব এই দেশটাকে ভালো করে গড়ার। আর সে জন্য ভালোভাবে পড়ালেখা করতে হবে। পড়ালেখা করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সেই সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গন ঘুরিয়ে দেখানো হয়। শেষ মিষ্টিমূখ এর মাধ্যমে গোটা অনুষ্ঠান শেষ হয়।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD