জাহিদ হাসান

বন্যার নতুন পানিতে চলনবিল অঞ্চলের খাল-বিল, নদী-নালা ও নিম্নাঞ্চলে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছের আনাগোনা বেড়েছে। আর এই সুযোগে অনেক এলাকায় বাদাই জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে ছোট মাছ ধরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন পানির প্রবাহের সঙ্গে পুঁটি, মৌরলা, খলিশা, চিংড়ি, টেংরা, কাচকি ও বিভিন্ন দেশীয় মাছ বিলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অনেকেই বাদাই জাল দিয়ে অতিরিক্ত হারে ছোট ও অপরিণত মাছ ধরছেন। ফলে বড় হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ হওয়ায় ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, এক সময় চলনবিলে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু অপরিকল্পিত মাছ শিকার, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং ছোট মাছ নিধনের কারণে সেই চিত্র ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। তারা মনে করেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ আরও সংকটে পড়বে।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, নতুন পানিতে ছোট মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা শুধু আইনের বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষারও দায়িত্ব। ছোট মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পেলে প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার করে জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
মৎস্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রজনন মৌসুমে এবং নতুন পানিতে অপরিণত মাছ নির্বিচারে আহরণ বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে জেলেদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং চলনবিলের জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে নতুন পানিতে ছোট মাছ ধরা নিরুৎসাহিত করা সম্ভব হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন মেনে মাছ আহরণ নিশ্চিত করা গেলে চলনবিল আবারও দেশীয় মাছের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com