মোঃ আব্দুস সামাদ, উলিপুর, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ
দেয়ালে টাঙ্গানো বঙ্গবন্ধুর ছবিতে নজর পরে
তাঁর সৌম্য মূর্তি দেখে বক্ষ যায় চিড়ে।
র্ভার্সিটিতে মিটিং ছিল সকাল দশটার পরে
তার পূবেই বিদায় নিলেন পর পারের পথে।
এটাই কি নিয়তী ছিল বঙ্গ বন্ধুর
নাকি দায়ী এর জন্য ঘাতক নিষ্ঠুর
জানি, কাউরেই ছাড় দেয়না মৃত্যুর শীতল চুম্বন
বঙ্গ প্রদীপ যে নিভে গেল তৈল থাকিতে যেমন।
মৃত্যু ! সে তো অনিবার্য কিন্তু যদি ঘটে অবেলায়
ভূলে যেতে সে অমোঘ সত্য বড় কষ্ট হয়
বঙ্গবন্ধুর বিয়োগ ব্যথা জাতি কেমনে ভুলবে হায়
মুজিব নামের ফুলটি যে অকালেই ঝরে যায়।
বঙ্গ বন্ধুর মৃত্যু মানেই মরে গেল বাংলা
জাতির পিতাকে হারিয়ে আজ অনাথ হলাম আমরা
আশা ছিল দাঁড়াবো মোরা বিশ্বমাঝে উঁচু শিরে
কুচক্রীদের ষড়যন্ত্রে সে আশা, রয়ে গেল তিমিরে।
পাহাড় সম সমস্যা নিয়ে বসে ছিলেন বাংলার মসনদে
তিন বছর সময়ে চাইলেন দেশবাসীর কাছে
সামনের দিকে অগ্রসর যখন পেরিয়ে সকল বিঘœ
উন্নয়নের সে ধারা তখনই হয়ে গেল স্তব্দ।
দেশের তরে জেল খেটেছেন সতরটি বছর
মাথা নত করেন নি দেখে জেলে খোড়া কবর
স্বস্তির নিঃস্বাস নিলেন সবে বসে মসনদে
ষড়যন্ত্রকারীদের নির্মম থাবায় চলে গেলেন অচীন দেশে।
তাঁর মহা প্রয়াণে আজ কারবালা বাংলায়
মা ফাতেমার খেদের গজল মনে পড়ে যায়।
সে গজলে সুর মিলিয়ে কাঁদছে এ হৃদয়
আয়রে মুজিব লইরে কোলে কলিজা ঠান্ডা হয়।
কবরবাসী হলেন আজ মুজিব নামের ফুল
কবরে তার ফাতেহা দিতে করবো না কেউ ভুল
শোরগোল কেউ করব না ভাই ফাতেহা শরীফ দিতে
ঘুম ভেঙ্গে তাঁর কেউ দিবনা বড় ক্লান্ত যে সে।
পথ চলা পথিক দেখবে আজ বঙ্গবন্ধুর চির নিদ্রার ঘর
থমকে দাঁড়াবে, আফসোস খান খান হবে তার অন্তর।
জনমানব হীন গভীর নিশীথে যখন নিরব এ পৃথিবী
জোনাকিরা এসে বাতি দেবে গোড়ে – বলবে ছালাম হে বাংলার স্থপতি।
ঘুমাও ঘুমাও শান্তিতে ঘুমাও ওগো বাংলার মনি
তঁব প্রতি রইল মোদের হৃদয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলী
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি ওগো মেহের বান
বেহেস্ত দান কর তাদের যারা আজকের শহীদান।
*সমাপ্ত *
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com