সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের আরেক নাম ‘‘ আত্মহত্যা ’’ 

Spread the love

সুজন কুমার মাল

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে মূহুর্তের ঘটনা মূহুর্তেই পৌছে যাচ্ছে বা আসছে সকলের হাতের মুঠোয় ।

তাই বলতে গেলে বলতেই হয় ‘ সময়, নদীর  স্রোত কারো জন্য থেমে থাকেনা। তাই সবার আগে সঠিক জানার আগ্রহ ও ঘটনার নেপথ্যের ঘটনা জানতে ও জানাতে এই মাধ্যম গুলোর ভূমিকা অপরিসীম। কাজী নজরুল ইসলামের সেই বিখ্যাত  কবিতাটিতে দুটি চরণ ছিল এমন ‘‘ থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে , দেখবো এবার জগৎটাকে’ -আর হ্যাঁ কবিতার মর্মকথা বুঝতে পেরেই বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বিজ্ঞানের আর্শিবাদ এখন আমরা ভোগ করছি সারা বিশ্বের প্রতিটি মানুষই। এখন বদ্ধ ঘরে থেকেও ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বের কোথায় ? কখন ? কি ঘটছে ? তা সহজেই জানতে ও বুঝতে পারছেন বা পারছি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য তথ্যের সহজলোভ্যতা, অবাধ তথ্য ভান্ডার হিসেবে বাংলাদেশের এটুআই প্রকল্পের তথ্য বাতায়ন অন্যতম। করোনা কালে বাড়িতে থেকেই ঘরে বসে মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে গুগোল, মজিলা ফায়ার ফক্স, অপেরা মিনি , বিং জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন সহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে সঠিক তথ্য জানার বা জানানোর সুবিধবা পাচ্ছেন আপনার আমার মত সকলেই।

বিজ্ঞানের তত্বে উল্লেখ্য করা আছে যে কোন কিছুর সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় রয়েছে তেমনি পাশাপাশি বিজ্ঞানের আর্শিবাদ ও অভিশাপও রয়েছে আমাদের দৈনিন্দ জীবনে। আত্মহত্যা কেন করে বা কি কারণ আছে ? -এমন প্রশ্নকে সামনে রেখে ঘটনার তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানসিক দ্বন্ধ অথাৎ স্বিদ্ধান্তহীনতা,  ব্যাক্তিজীবনে ধর্মীয় প্রভাব, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক ক্ষেত্রে সম্পর্কের টানা পোড়েন , ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্যগত দৈহিক ত্রুটি নিয়ে জন্মানো, সাধ ও সাধ্যর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে দেখা দেয় হতাশা, বেকারত্ব, সঠিক চিন্তাধারার আলোকে পথ চলতে না পারা , অতিরিক্ত আবেগ প্রবণ হওয়া, মানসিক চাপ সহ্য করতে না পারা , সুষ্ঠুভাবে সামাজিককরণের সমস্যা, প্রেমে ব্যার্থ হয়ে ধ্বংসাত্বক পরিকল্পনা, মাদকাসক্ত প্রভাব, প্রাশ্চাত্যের সংস্কৃতির আগ্রাসন  সহ নানা ধরণের কারণগুলো কম বেশী দায়ী আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ।

অনেক আত্মহত্যার তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে সঠিক সামাজিক পরিবেশে সুষ্ঠু সামাজিককীরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে  অনেক পরিবার। দীর্ঘ সময় ধরে পুঁথিগত বিদ্যা অধ্যায়ণ করে এক পর্যায়ে সনদপত্র অর্জনের পরে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটে পরস্পর বিরোধী চিত্র অনেকেই মেনে নিতে পারেন না। এই পরস্পর বিরোধী চিত্রর ফলে দৈনিন্দন জীবন যাত্রায় ছন্দ পতন ঘটে প্রতিনিয়ত ।

যদি কোন ব্যাক্তির মধ্যে নৈতিক অধঃপতন একবার শুরু হয় তাকে শেষ না করে ক্ষান্ত হয়না সেই ক্ষতিকর মনোভাবগুলো। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই দম্পত্তির মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই আছে বা দিন দিন বেড়েই চলছে। আবার এই দাম্পত্য জীবনের অশান্তির কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা , নবজাতকের দৈহিক ত্রুটি , আচরণগত সমস্যাও রয়েছে।

আর্থ -সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় বিধি নিষেধ হয়তো ভাল কিছুর জন্য করা হয়েছে। কারণ এটি চর্চার মাধ্যমে আদর্শ জীবন গঠন করা যায়। কিন্ত এই ধর্মীয় বিধি নিষেধও আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী । অনেক সময় লক্ষ্য করে দেখা গেছে, ভিন্ন ধর্মের ছেলে -মেয়েদের প্রেমের সর্ম্পক কোন ধর্মই সহজেই মেনে নিতে চায় না। যদিও নেয় তারপরেও সেই সম্পর্ক কতদিন টেকসই থাকে এটাও বাস্তবতার আলোকে ভাবনার বিষয়। তবে মোট কথা আত্মহত্যার মত ঘৃণিত কাজকে ধর্ম কোন দিনেই ভালভাবে নেয়নি। প্রত্যক ধর্মেই বলা হয়ে থাকে ‘ আত্মহত্যা মহাপাপ’।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন ঘটনা রয়েছে সেখানে বিজ্ঞানের অপব্যাবহার না অজ্ঞতা কোনটা সঠিক ধারণা ? তা নিয়ে আরো গবেষণা করতে হবে। কেননা বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের অজ্ঞতা না অপব্যবহার যেটাই হোক না কেন অনেকে ভার্চুয়াল সম্পর্ক কে বাস্তবে রুপ দিতে গিয়ে এমন কিছু অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে যা কাউকে বলা যায়না আবার নিরবে সহ্য করাও যায়না এমন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অনেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এক পর্যায়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরে। যার ফল স্বরুপ আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটনায় ।

আবার দেখা গেছে অনেকেই হয়তো এই ধরনের আত্মহত্যার কারণের তথ্যানুসন্ধান না করে অনেকেই নানা ধরনের মুখরোচক গল্পও তৈরী করে । যা অনেকেই জেনেই হোক আর না জেনেই হোক তা একান ওকান করে বলে বেড়ান । কিন্ত কখনো ভাবেন না যে পরিবারের ওই ব্যাক্তিটি আত্মহত্যা করে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মানসিক অবস্থা কেমন হয় ? তারমধ্যে এ ধরণের মুখরোচক গল্পকথা তাদের কতখানি মর্মাহত করে তা কি কখনো ভেবে দেখা হয় ?

আত্মহত্যা প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর  ২০০৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশে এ দিবসটি পালন করা হয় । দিবসটি পালন করতে আন্তজাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থার সাথে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য ফেডারেশন একসাথে কাজ করে আসছে। আত্মহত্যার প্রবণতার হার রোধ এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরী করার জন্য বিশ্বের  বিভিন্ন দেশে আত্মহত্যা প্রতিরোধে নীতিমালা ও পরিকল্পনা কর্মসুচী হাতে নেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে আত্মহত্যা যেন আর কেউ না করে তাই তাদের মানসিক দক্ষতাকে শক্তিশালী করা করা অন্যতম উদ্দেশ্য এ দিবসটির।

এজন্য প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের কাছে আকুল আবেদন তাই আসুন এগিয়ে আমাদের সন্মিলিত প্রচেষ্টায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করি । পরিবার থেকেই শুরু হোক সঠিকভাবে সামাজিক করণের সঠিক শিক্ষাটাই । পরিবারের ছোট্র সদদ্যের কথা শুনি ও মুল্যায়ণ করি তারও হয়তো থাকতে পারে এমন কিছু ‘না বলা পারা কথা’ যা সে বলতে চায় সামাজিক ও পরিবেশগত কারণে বলতে পারেনা। পারিবারিকভাবে তার পাশে দাঁড়াই । তার মানসিক স্বাস্থ্যর উন্নতির জন্য প্রয়োজনে বিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেই । নিয়মিত বিজ্ঞান সম্মত মানসিক কাউন্সিলিং করি। আর যেন কোন পরিবারের সদস্যদের চোখের জল মুছতে না হয় আত্মহত্যার কারণে ।

sujonkumarmal4@gmail.com 01772-810388

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD