সোহাগ হোসেন, তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের খালখুলা উত্তরপাড়া গ্রামের এক কোণে ভাঙাচোরা জীর্ণ কুটিরে একাকী বসবাস করছেন স্বামীহারা অসহায় বৃদ্ধা আমিরন খাতুন।জীবনের তরণী বয়ে চলার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দিতে আজ তিনি ক্লান্ত, তবুও থামেনি তাঁর বেঁচে থাকার লড়াই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন বৃদ্ধা আমিরন খাতুন। স্বামীহীন সংসারে একমাত্র সম্বল ছিল একটি কন্যাসন্তান। বহু কষ্টে মেয়েটিকে বড় করে বিয়ে দিলেও আজ তিনি একেবারেই একা। সহায়-সম্বলহীন আমিরন খাতুনের মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে রয়েছে একটি ভাঙাচোরা ঘর, যা যেকোনো মুহূর্তে ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।সংসারে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় পেটের দায়ে বয়সের ভার উপেক্ষা করে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গৃহস্থালি কাজ করে কোনোমতে দিন পার করছেন তিনি।দিনমজুরির এই সামান্য আয়ে নিজের দু’বেলা খাবার জোটাতেই হিমশিম খেতে হয় তাঁকে, ঘর মেরামতের সামর্থ্য তার নেই বললেই চলে। শীতের কনকনে ঠান্ডা কিংবা বর্ষার বারিধারায় এই জীর্ণ ঘরে রাত কাটানো তাঁর জন্য এক ভয়ানক আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী মো. ইমদাদুল হক জানান, আমিরন খাতুন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সরল প্রকৃতির একজন নারী। কারো কাছে হাত পাততে পছন্দ করেন না তিনি। তবে তাঁর এই মানবেতর জীবনযাপন যে কাউকে কাঁদাবে। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও স্থানীয় প্রশাসন একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে অসহায় এই নারী শেষ বয়সে মাথা গোঁজার মতো একটু নিরাপদ ঠাঁই এবং নিয়মিত সহায়তার সুযোগ পেতেন।অসহায় আমিরন খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সরকার বা সমাজের কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমার দিকে একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে জীবনের বাকি দিনগুলো অন্তত মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠিকানায় কাটিয়ে যেতে পারতাম।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, আমরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তার ব্যবস্থা করব। এছাড়া তার ঘর মেরামতের জন্য সরকারি কোনো অনুদান বা গৃহনির্মাণ সহায়তা দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com