গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
গুরুদাসপুরের চরপিপলা গ্রামে পরের জমি বর্গা করে দিন এনে দিন খাওয়া কৃষক আফজাল হোসেন (৫৮)। ফসলী মাঠের একপাশে ক্রয়কৃত জায়গায় টিনের ঘর নির্মাণ করে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই জায়গা কেনাই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার বাড়িতে দফায় দফায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা।
সর্বশেষ সোমবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে ওই কৃষকের বাড়ির সাথে রাখা পাটশোলা ও খড়ের গাঁদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। এলকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে পরিবারটি। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আফজাল হোসেনের ছেলে বেলাল হোসেন (২৯)।জানতে চাইলে প্রতিবেশী আজিজুল হক ও মো. সুলতানসহ অনেকে জানান, ৯ বছর আগে আফজাল হোসেন বসতবাড়ি করার জন্য চরপিপলা মাঠে ৬ শতক জমি ক্রয় করেন। সেখানে তিনি বাড়ি নির্মাণের পর থেকে মাঝে মধ্যেই কে বা কারা শত্রুতা করে আগুন দিচ্ছে। স্ত্রী, সন্তানসহ ৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে বারবার আগুনের কবল থেকে রক্ষা পেলেও আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ওই কৃষক।ক্ষতিগ্রস্থ আফজাল ও তার স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, ‘আমরা পরের জমি বর্গা করে খাই। কিন্তু বাড়ির জমি কেনার পর থেকে আমাদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে শয়ন ঘরে এবং খড়ের গাঁদায় এ নিয়ে ৭ বার আগুন দেয়া হলো। আমাদের মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে। সরকার ও প্রশাসনের কাছে একটাই চাওয়া- আমরা নিরাপত্তার সাথে বেঁচে থাকতে চাই।’
স্থানীয় খুবজীপুর ইউপি সদস্য মুন্নাফ মোল্লা জানান, নিরীহ কৃষক আফজালের বাড়িতে এর আগেও অগ্নিকান্ডের ঘটনা শুনেছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।গুরুদাসপুর থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজুল হাসান বলেন- এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com