গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামকে (৩০) হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের জেষ্ঠ্য ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যজেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।সোমবার গভীর রাতে উপজেলার ধারাবারিষা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এ তথ্য জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. নজরুল ইসলাম। মিন্টু উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।এর আগে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সন্ত্রাসী হামলায়শাকিলনিহত হলে এলাকায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।শাকিল গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়ামহল্লার রাজমিস্ত্রি রবিউল করিমের ছেলে।
শাকিলের জানাজা মঙ্গলবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮টায় বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেটে বাড়ি ফিরছিলেন শাকিল।নূর একাডেমির সামনে পৌঁছালে শাকিলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে হেলমেট পড়া দুই যুবক। গুলি থেকে বাঁচতে শাকিল দৌড়েপালানোর সময় মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া দেয় ওই দুই যুবক। এসময় শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাকে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে চলে যায় তারা। শাকিল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১২ দিন পর সোমবার রাত ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শাকিলের পিতা রবিউল করিম বলেন, ‘আমার ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় নেতাদের কোনো ভূমিকাই দেখিনি। হামলার ১৪ দিনেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমি ছেলে হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই।’এদিকে শাকিলের মৃত্যুতে গুরুদাসপুর এখন শোকাচ্ছন্ন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। এসময় তিনি বলেন-‘হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি অবলোকন করেছি। শাকিলের চিকিৎসার যত খরচাদি লাগে দিয়েছি। কিন্তু সে মারা যাবে- এ ধারণা ছিলনা।’
তিনি আরও বলেন- ‘ওসিকে মূল রহস্য উদঘাটন করতে বলেছি।অপরাধী আমার সন্তান হোক আর যেই হোক না কেন, যদি প্রকৃত স্বাক্ষ্যপ্রমাণে দোষি হয় তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com
