রাস্তায় দাড়িয়ে হাতপেতে টাকা তুলে মাহফিল করা থেকে বিরত থাকুন
ডাঃ আমজাদ হোসেন, উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী এ কথাটা সবার জানা প্রয়োজন। আপনারা গভীরভাবে চিন্তা কইরেন। আপনারা যারা মাদরাসা কিংবা মসজিদের মাহফিল আয়োজন করছেন। দয়া করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছাত্র কিংবা বয়স্কদের দিয়ে মানুষের কাছে টাকা চায়েননা।বিষয়টা খুবই বিরক্তিকর।খুবই লজ্জাজনক।সারাদিনে দশজন মানুষও কিন্তু টাকা দেয়না।কিন্তু কিছু ছেলে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে।যাকেই পায় তার কাছেই টাকা চায়।এটা ২০২৬সালে আর চলবেনা।মাহফিল করলে করতে হবে নিজের টাকায়।কূপন কিংবা রোড কালেকশন হাটবাজারে কালেকশন চলবেনা।
যারা বুঝেননা তারা বিপদে পড়বেন।যারা যত আগে বুঝবেন তত ভালো হবে।আপনার ইউনিয়ন কিংবা নিজের এলাকার বাহিরে কখনোই যাবেননা।দূরে গেলে টাকাতো দিবেনা বরং অনেক কথা শুনতে হবে।মাহফিল প্রতি বছর না করে কয়েক বছর পরপর করেন।করলে স্থানীয় আলেমদের দিয়ে করেন।আপনি যত বড় মাহফিলেই করেন আগের মত লোকসমাগম হবেনা।কারণ যে বয়ান বক্তারা করে সেগুলো অনেক পুরাতন আলোচনা। সব শুনা শেষ।
এখন আলোচনা করতে হবে ভিন্ন কিছু নিয়ে।কথা বলতে হবে টাকা উপার্জনের উপায়।সংসারে শান্তি আনার উপায়।মাদক,যুব সমাজ নিয়ে।জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়।কিন্তু এগুলো আলেমরা জানেনা বলেনা।শুধু চিল্লাপাল্লা আর কতক্ষণ এই দল আরেক দলকে গালাগালি। যারা অলরেডি ৩০/৪০হাজার টাকা দামের বক্তা দাওয়াত দিয়ে ফেলছেন বক্তার দাওয়াত ক্যানসেল করে দিন।অধিকাংশ ভাইরাল বক্তাদের আলোচনার এমন কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য নাই যে দশ হাজার টাকার বক্তা পারবেনা।বেশী বাজেটের বক্তা আনতে গিয়ে কী পরিমাণ পরিশ্রম করতে হচ্ছে যারা আয়োজক তারা বুঝে।তাছাড়া যেই মাদরাসাগুলো বড় বড় মাহফিল করে অথবা সারা বছর মাহফিলের চিন্তায় থাকে দেখবেন সেই প্রতিষ্ঠানে কোন লেখাপড়া নেই।শিক্ষক থাকেনা, ছাত্র থাকেনা,সারা বছর মাহফিলের চিন্তায় থাকে।এদিকে হুজুরদের বেতন ৫ হাজার। বক্তা আনে ৫০হাজার দিয়ে এক ঘন্টার জন্য।মাহফিলটা ছোট করে করলে সমস্যা কি?
ঢাকা থেকে একজন বক্তার গাড়ী ভাড়া ৫হাজার টাকা আবার সবাই চারটা পাঁচটা মাহফিল একদিনে করে তাহলে কেন এত টাকা দিয়ে মাহফিল করান?অথচ এই বক্তাদের যৌবন গেছে ৫হাজার টাকার ইমামমতিতে আর এখন তাদের টাকা অগ্রীম দিতে হয়।এটাও খুবই দূঃখজনক। তাছাড়া ছাত্রদের দিয়ে সারাদিন কালেকশন বিষয়টা সাধারণ মানুষের কাছে খুব বাজে মেসেজ যায়।দেশে আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে আমাদের আচরণে হোক কিংবা প্রশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবেই হোক ধর্মহীন,ধর্মবিদ্বেষী,ইসলাম বিদ্বেষী একটা গোষ্ঠী গড়ে উঠছে এবং উঠবে।আরেকটা কথা বলে রাখি।
মানুষ স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে ছেলে মেয়েদেরকে মাদরাসায় দিছিলো এমন কোন কাজ করবেননা যাতে সেই জোয়ারটা নষ্ট হয়ে যায়।তখন আর তাদের যাওয়ার জায়গা থাকবেনা। কারণ স্কুলেও তেমন লেখাপড়া নেই।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com