চরকুশাবাড়ির শাহীন সরদার সদর হাসপাতালে ভর্তি; গাফফার মন্ডল ও স্বজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের চরকুশাবাড়ি এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. শাহীন সরদার নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মো. সিরালী মন্ডলের ছেলে মো. গাফফার মন্ডল, তার ভাই ও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ আদালতের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা। মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শাহীন সরদারকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরকুশাবাড়ি গ্রামের মৃত আয়াজ সরকারের ছেলে মো. শাহীন সরদারের সঙ্গে একই এলাকার মো. সিরালী মন্ডলের ছেলে মো. গাফফার মন্ডলসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ভুক্তভোগীর দাবি, জমির কাগজপত্র ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধের জের ধরেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রামের প্রতিনিধিরা একত্রে জমির কাগজপত্র যাচাই করে মৃত মো. আয়াজ সরকারের ছেলে শাহীন সরদারের পক্ষে মত দেন বলে জানা গেছে। পরে মৃত মো. সিরালী মন্ডলের ছেলে গাফফার মন্ডল ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। এতে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে আদালতে মামলা করেন। তবে আদালতের রায়ও তার বিপক্ষে যায় বলে দাবি করেছেন শাহীন সরদারের পক্ষের লোকজন। এরপর থেকেই গাফফার মন্ডল হয়রানিমূলক মামলা ও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শাহীন সরদারের অভিযোগ, জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে থাকা সত্ত্বেও তিনি জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করতে পারছেন না। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। তার আরও অভিযোগ, গাফফার মন্ডল অর্থের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে জমি দখল এবং তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করছেন।শাহীন সরদার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য তিনি সিরাজগঞ্জ আদালতের গেলে গাফফার মন্ডল, তার ভাই ও আত্মীয়স্বজনসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন। এ সময় তার কাছে থাকা জমির কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পকেটে থাকা ১৮ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান শাহীন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয়।ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।তবে এ ঘটনায় মো. গাফফার মন্ডল ও তার পরিবারের পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাসায় গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।এদিকে স্থানীয়রা জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা ও বৈধ ভোগদখল নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো পক্ষ আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জরুরি।ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। জমির মালিকানা, কাগজপত্র এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com